আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে তালেবান। এ উপলক্ষে আজ শনিবার তারা নিজেদের সরকারকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাজধানী কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূতাবাসের সামনে সাঁজোয়া যানবাহন নিয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পতাকা ও ব্যানার প্রদর্শন করা হয় এবং পশ্চিমা আধিপত্য থেকে মুক্তিকে তালেবান সরকার “বিজয় দিবস” হিসেবে উদ্যাপন করে।
তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তাদের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন “মনোবল, সাহস” এবং “আল্লাহর সহায়তার” ফল।
তবে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে স্বীকার করেন, এখনো “কিছু বিষয় ও সমস্যা” রয়ে যেতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তালেবানের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কর্মকর্তা হত্যার শিকার হয়েছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বাদাখশান প্রদেশে তালেবানের তথ্য পরিচালক এক হামলায় নিহত হন। পরে ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায় স্বীকার করে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রদেশটির রাজধানীর মেয়রও এক হামলায় নিহত হয়েছেন।
তালেবান কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এসব খবর নিশ্চিত করেননি।
কূটনৈতিক অগ্রগতি
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সেনা প্রত্যাহারের সময় তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে। তখন তারা ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর তুলনায় আরও উদারভাবে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, তালেবানের সেই প্রতিশ্রুতি দ্রুতই ব্যর্থ হয়।
২০২১ সাল থেকে তালেবান নারী ও মেয়েদের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে ২৫ লাখ নারী ও মেয়ে মাধ্যমিক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের চলাফেরার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমানে আফগান নারীদের অর্ধেকই মাসে মাত্র এক বা দুবার বাড়ির বাইরে বের হন।
তালেবান বলছে, ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী তারা নারীদের অধিকারকে সম্মান করে।
ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও তালেবান সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া একমাত্র দেশ হলো রাশিয়া।
তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও উত্তেজনাপূর্ণ। একসময় পাকিস্তান ছিল তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে ইসলামাবাদ কাবুলের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বিদ্রোহীদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নীরবে কিছু কূটনৈতিক অগ্রগতিও করেছে তালেবান। আফগানিস্তানে তাদের প্রভাবের সীমা এবং তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কয়েকটি দেশ নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে।