পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মোস্তাফিজুর রহমানকে টানা দুই ওভার করিয়ে লিটন দাস দলের সর্বনাশ করেছিলেন। সেই ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও সেই একই ভুল করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এর সঙ্গে তার নিজের ও অন্যদের শোচনীয় ব্যাটিংয়ে আগেভাগেই এশিয়ান গেমস অধ্যায় শেষ হলো বাংলাদেশ দলের।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে কোনো পদক ছাড়াই এশিয়ান গেমস থেকে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে।
তবে এই ম্যাচে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। একপর্যায়ে ৫ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ৫৪। ১৩ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে মাত্র ৬৩ রান।
কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ইনিংসের শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কা তুলে নেয় ১০২ রান। আর তাতেই স্কোর দাঁড়ায় ১৬৫ রান, যা দুরূহ উইকেটে বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে যায় ইনিংস বিরতিতেই।
এই ম্যাচেও বোলিং পরিকল্পনা নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়। স্পিনাররা দারুণ বোলিং করলেও তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি। শেখ মাহেদি হাসান ৪ ওভারে দেন ১৯ রান, অভিষিক্ত আলিস ইসলাম ৪ ওভারে ১৮, নাসুম আহমেদ ২ ওভারে মাত্র ৮ এবং সাইফ হাসান ৩ ওভারে দেন ২৮ রান।
তারপরও অভিজ্ঞ অফ স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেনকে দিয়ে একটি ওভারও করাননি লিটন। এমনকি স্পেশালিস্ট নাসুম আহমেদেরও পুরো কোটা পূরণ করা হয়নি। অথচ রিশাদ হোসেনকে দিয়ে ৪ ওভার করানো হয়, যেখানে তিনি খরচ করেন ৪৪ রান।
অন্যদিকে মোস্তাফিজুর আগের ম্যাচের পর এই দফায়ও শুরু থেকেই বেধড়ক পিটুনির শিকার হন। তবুও বিস্ময়করভাবে শেষের দিকে স্পিনারদের এড়িয়ে তাকে দিয়েও বোলিং করান লিটন। একই চিত্র ছিল রিশাদের ক্ষেত্রেও।
শ্রীলঙ্কার ১৫০ রানের বেশি করে ফেলার পর বাংলাদেশের জন্য ম্যাচ জেতার কাজটা সহজ ছিল না। কেননা উইকেটে স্পিন ধরছিল, আর শ্রীলঙ্কার বোলাররাও শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে বল করছিলেন। ফলে পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন করে দেন তারা।
এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের তিনজনই ডাক মেরে বিদায় নেন। সাইফ হাসান ৬ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি। তানজিদ হাসান তামিমও ২ বলে শূন্য রানে ফেরেন। আর অধিনায়ক লিটনের ব্যর্থতা ছিল আরও হতাশার। নুয়ান থুসারার বলে বাজে শটে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
এরপর পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহীদ হৃদয় ও ইয়াসির আলি সামান্য প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা ম্যাচে সামান্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করার জন্যও যথেষ্ট ছিল না। ফলে ১০২ রানেই শেষ হয় দলীয় ইনিংস।