স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, আজ শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।”
এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। এখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি কখনো আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশেরই সন্তান এবং নাগরিক।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। বাংলাদেশকে এমন একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিকত্বই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।”
তিনি বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের উপাসনালয় রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।”
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগীদের স্মরণ রেখে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।”
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এতে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।