সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে অন্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নোয়াখালী জেলা ইউনিট।
আজ শুক্রবার সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ এর অফিস সহায়ক নূরন্নবী (৫৫) ও মো. সোহেল (৪০); মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। রায়হান সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি ‘কর অঞ্চল-নোয়াখালী’তে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ৫ জুন নোয়াখালীর তিনটি কেন্দ্রে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে প্রাথমিকভাবে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় এবং ২১ জুন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
যোগদানের দিন প্রার্থীদের আবেদনপত্র ও শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। অফিস সহায়ক পদে মনোনীত মো. কামাল উদ্দিন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে মনোনীত মো. নাসফুরুল্লাহর লিখিত পরীক্ষার আবেদনের হাতের লেখার সাথে মৌখিক পরীক্ষার চেকলিস্টের লেখার স্পষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে তাদের আবার একই লেখা লিখতে দিলে হাতের লেখায় বৈসাদৃশ্য দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর বিষয়টি প্রকাশ পায়। ঘটনার তদন্তে নেমে সিআইডি জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা ও সহযোগীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করে।