ভারতে সম্প্রতি এক জেন জি কর্মী একটি নতুন চাকরিতে মাইক্রোম্যানেজমেন্ট বা অতিরিক্ত নজরদারির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক খবরে এ তথ্য জানা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একটি পোস্ট শেয়ার করে ওই কর্মী জানান, তিনি কর্মদিবসের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র ১০ মিনিট আগে অফিস থেকে বের হন। আর এতেই সিইওর কাছ থেকে সরাসরি একটি মেসেজ ও ফোন কল পান।
প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিদ্যমান ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওই কর্মী। তিনি লক্ষ্য করেন, ম্যানেজাররা প্রায়ই এক ঘণ্টার বেশি ব্রেক নেন এবং অন্য সহকর্মীরাও কোনো সমস্যা ছাড়াই ৩০ মিনিটের জন্য বিরতিতে যান। অথচ নতুন জয়েন করায় তিনি সারা দিনেও ঠিকমতো বিরতি নেন না।
সিইও-র সঙ্গে কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে ওই কর্মী লেখেন, “ম্যানেজার এক ঘণ্টার জন্য বিরতিতে উধাও হয়ে যান, কিন্তু কেউ টু শব্দটিও করে না। অন্যরাও ৩০ মিনিটের ব্রেক নেন। আমি তো ঠিকঠাক ব্রেকও নিই না, অথচ যেদিন একটু আগে বের হলাম, সেদিনই আমাকে মেসেজ আর ফোন দেয়া হলো।”
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিবেশ কতটা বিষাক্ত, তার আরও উদাহরণ দেন ঐ জেন জি কর্মী। তিনি জানান, তার সুপারভাইজার তাকে বিনা বেতনে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টার্ন নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এমনকি তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার মতো কাউকে খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে সেই কর্মীকে নিজের ঘাড়ে ভিডিও প্রোডাকশন এবং কোম্পানির সব সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির দায়িত্ব তুলে নিতে হবে।
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কমেন্ট সেকশনে অনেক ব্যবহারকারী নিজেদের কর্মপরিবেশের রেড ফ্ল্যাগ নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
একজন ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়ে লেখেন, “যে কোম্পানি আপনার কাজের চেয়ে সময়ের দিকে বেশি নজর দেয়, তাদের সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই। শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যতদিন প্রয়োজন থাকুন, আর ভালো কোনো সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই কেটে পড়ুন।”
দীর্ঘদিন ধরে ভারতে করপোরেট সংস্কৃতি নিয়ে জেন জি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধে আসছে। মাইক্রোম্যানেজমেন্ট, ওভারটাইমের ফাঁদে পড়ে অনেক কর্মী চরম অবসাদে ভুগছেন। এমনকি অতিরিক্ত কাজের চাপে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিয়েছে জেন জি কর্মীদের মধ্যে।