রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেট থেকে শফিকুল ইসলাম (৪২) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।
আজ বুধবার সকালে ফাঁড়ির ওয়াশরুমে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শফিকুল ইসলাম ২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মৌটুপী গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মান্নান মল্লিকের ছেলে। শফিকুল ইসলাম দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর আগে রাত ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি তার বড় মেয়েকে মোবাইলে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রাখিও।” এরপর মেয়ের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
শফিকুলের চাচাতো ভাই পারভেজ মল্লিক জানান, শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। এ কারণে তাকে চিকিৎসকের কাছেও নেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রায়ই বলতেন, তার ঘুম হচ্ছে না।
যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।