ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট গণনা শেষে অধিকাংশ আসনের ফলাফল মধ্যরাতের মধ্যেই ঘোষণা হবে বলে আশা করছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেছেন, “অধিকাংশ ফলাফল মধ্যরাতেই, বড়জোর শেষ রাত বা পরদিন।”
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী ও দলের অঙ্গীকারনামা এবং মাঠপর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে আচরণবিধি প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা গেছে। অতীতের তুলনায় মাঠে-ঘাটে পরিবেশ অনেক ভালো।”
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আপনারা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে, আপনাদের মাধ্যমে আমরা যা খবর পাচ্ছি এবং বাস্তবে আমরা মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে যেটুকু দেখতে পাচ্ছি-নির্বাচন কমিশন মনে করে অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের মাঠে পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার।”
অভিযোগের পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল জানান, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। আচরণবিধি ভঙ্গের ১৪৪টি ঘটনায় জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার পরিমাণ ৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা। মামলার সংখ্যা হয়েছে ৯৪টি।
তিনি বলেন, “আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মোবাইল কোর্ট প্রতিদিনই তারা পরিচালনা করছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি যে মিনিমাম ৫০-৬০টি কেস রুজু হচ্ছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে, কোথাও সাজা হচ্ছে। মানে কার্যক্রম জোরসরে চলছে।”
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “প্রতিনিয়তই আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে আসতেছেন। উনাদের পরামর্শ, অবজারভেশন, পর্যবেক্ষণ আমাদেরকে দিচ্ছেন। সে অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
আরও বলেন, “এছাড়াও আমাদের সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমাদের ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে যেই বিষয়গুলো আসতেছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা রিটার্নিং অফিসারদের নজরে নিয়ে আসতেছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন, তাদেরকে এগুলো নিবারণসহ প্রতিরোধ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”