গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে নির্ধারিত ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে আজ রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বলা হয়, নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।”
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনকে “বুঝতে হবে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।”
আরাঘচির সতর্কবার্তা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ রোববার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ বেছে নেবে বলে তেহরান আশা করছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরানও তার জবাব দিতে প্রস্তুত।
গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন আবার বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করলে ইরান আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরাঘচি বলেন, “তারা যদি আবার সামরিক সমাধানের দিকে এগোয়, তাহলে আমরা আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত এবং নিজেদের রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
এদিকে আজ রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।
পারমাণবিক বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আজ রোববার বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের বিষয়ে তেহরান তার সামগ্রিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে ওয়াশিংটনকে আরও কিছু বিষয় জানানো এখনো বাকি রয়েছে।
মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমেরিকানদের প্রস্তাব কমবেশি তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মনোযোগ হরমুজ প্রণালির বিষয়টির ওপর এবং এই জলপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
তিনি আরও অস্বীকার করেন যে, আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে তেহরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক বিষয়ে ইরান কোনো আলোচনা শুরু করেনি।
গত সপ্তাহে আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তা জানান, প্রচারিত একটি নথিতে দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির জন্য সাত দিনের একটি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য জুনে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের আরও বিস্তৃত সংস্করণে দুই পক্ষকে ফিরিয়ে আনা। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মতবিরোধ মূলত পরিকল্পনার উপাদান নিয়ে নয়, বরং কোন পদক্ষেপের পর কোন পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সেই ক্রম নিয়ে।