Advertisement Banner

অনেকবার বলেছি বোন দরজাটা খুলে দে, সে খুলে নাই: আদালতে রামিসার মা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
অনেকবার বলেছি বোন দরজাটা খুলে দে, সে খুলে নাই: আদালতে রামিসার মা
রামিসার স্কুলের আইডি কার্ড। ছবি: চরচা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিন দুই আসামিকে বিচারিক আদালতে তোলা হয়। মামলার বাদী আব্দুল হান্নান বলেন, “আমি সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। বনানীর কাকলীর অফিসে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী পারভীন আক্তার আমাকে ফোন দিয়ে জানান, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারপর আমি বাসায় ফিরে আসি।”

রামিসার বাবা বলেন, “আমাকে স্ত্রী বলতে থাকেন, পাশের ফ্ল্যাটে (সোহেল রানা ও স্বপ্নার ফ্ল্যাট) রামিসা আটকে আছে। সেখানে রাজু নামে একজনকে দেখি, দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও দরজা খোলেননি। আমি তখন দৌড়ে নিচে যাই। একটা হাতুড়ি নিয়ে এসে দরজার তালা ভাঙার চেষ্টা করি। এক পর্যায়ে দরজার তালা ভেঙে যায়।”

আব্দুল হান্নান জানান, তালা ভাঙার ছিদ্র দিয়ে তারা স্বপ্নাকে দেখতে পান। ভেতরে ঢুকে কমন রুম ও বাথরুমের দরজা বন্ধ দেখতে পান। টয়লেটের ভেতরেও রক্ত দেখতে পান। তিনি বলেন, “উপস্থিত একজন স্টিলের খাট উচু করে দেখেন বালতির ভেতর রামিসার মাথা। তখন আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে থানায় গিয়ে এসব কথা বলে মামলা করেছি।”

জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ জেরা করেন। আসামির সঙ্গে কোনো পূর্বশত্রুতা ছিল কিনা জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান বলেন, “তাকে জীবনেও দেখিনি”।

এরপর মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রামিসা মা পারভীন। তিনি আদালতে বলেন, ঘটনার দিন তিনি বাসায় রান্না করছিলেন। তার দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রাইসা আক্তার তার চাচা মোস্তফার বাসায় যেতে চায়। তখন ছোট মেয়ে রামিসাও তার সাথে যেতে চাইলে রামিসাকে বারণ করেন। পরে শুনতে পান দুজনেই রেডি হচ্ছে। একপর্যায়ে বড় মেয়ে চলে গেলেও সে রামিসাকে সাথে নেয়নি। মা তখন বুঝতে পারেননি যে রামিসাকে সাথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না।

এর কিছুক্ষণ পর তিনি পাশের ফ্ল্যাট থেকে একটি বাচ্চার চিৎকারের শব্দ পান। ভেবেছিলেন পাশের বাসায় একটা বাচ্চা আছে তার শব্দ। এর ৩-৪ মিনিট পর বড় মেয়ে রাইসা বাসায় একা ফিরে আসে। মেয়েকে একা দেখে তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি একা কেন? রামিসা কোথায়?” রাইসা জবাবে বলে, “রামিসা তো চাচার বাসায় যায়নি।”

এরপর তিনি রামিসাকে খুঁজতে শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তিনি ৩ তলার স্বপ্না ও সোহেলের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার একটা জুতা দেখতে পান।

রামিসার মা বলেন, “আমি তাকে অনেকবার বলেছি বোন দরজাটা খুলে দে, তোর কিছু হবে না। সে দরজা খুলে নাই। এরপর পুলিশ এসে রামিসার জামাকাপড়সহ যাবতীয় আলামত জব্দ করে। “

এরপর ভুক্তভোগীর বড় বোন রাইসা আক্তার শিশু হওয়ায় তার জবানবন্দি ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। এদিন আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

এর আগে গতকাল সোমবার আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

সম্পর্কিত