
শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আগামীকাল বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন আক্তার।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা দাবি করেছেন, তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেননি। তবে তার লাশ কাটার কথা স্বীকার করেছেন।

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে যে তথ্য প্রমাণ আছে তাতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আদালতের কাছে আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে।

তবে কি আমাদের বাংলাদেশ ‘শিশুহত্যার দেশ’ হিসেবেই পরিচিতি পাবে বিশ্বে? আমরা কি এতটা নিষ্ঠুর পরিচয়কেই গলার হার বানাতে চাই? এত এত উন্নয়নের বুলির পাশে সেটি কি মানাবে? মনে রাখা জরুরি, এ দায় কিন্তু চাপবে এই দেশ, দেশ চালানো সরকার এবং দেশে থাকা জনতার ঘাড়েই!

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।

তারেক রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, “তাহলে কি আমরা ধরে নেব, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে, সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা হচ্ছে। এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?”

বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানায়, কন্যা ও শিশু সন্তানদের ধর্ষণ এবং হত্যার মতো জঘন্য অপরাধগুলো ঘটেছে এমন সব স্থানে, যেখানে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল।
শিশু রামিসাকে ধ*র্ষণ ও হ*ত্যার প্রতিবাদে ২১ মে (২০২৬) রাজধানীর একাধিক স্থানে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ভিডিও: তুহিন কান্তি দাস ও মাহিন আরাফাত

ফোরাম বলেছে, একটি আট বছর বয়সী শিশুকে এভাবে হত্যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে সাত বছর বয়সী রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল আদালতে ধর্ষণের পর হত্যার ‘স্বীকারোক্তি’ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রামিসাদের বাসায় ঢুকতেই শোনা যায় আহাজারি। রামিসার জামা-কাপড়, স্কুলব্যাগ আর খেলনাগুলো ছড়িয়ে আছে ঘরে। মা পারভিন আক্তার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার মেয়ে শুধু দরজাটা খুলছিল। একটা জুতা পরে ছিল, আরেকটা জুতা পরার সময়ও পায় নাই। পাষণ্ডটা টান দিয়া নিয়া গেছে।”

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।