জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রদল, শিবির ও ছাত্র শক্তি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান ঘিরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ বেশ কিছু দাবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে ছাত্রশিবির। এ সময় শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদল হামলা চালায়। সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস ও শাখা শিবিরের সভাপতিকে আরিফুল ইসলামসহ শিবির ও ছাত্র শক্তির নেতাকর্মীদের মারধর করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এ সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পরে সংঘর্ষে আহত শিবির ও ছাত্র শক্তির নেতাকর্মীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেন।
দুপুর ২টার দিকে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে হাসপাতালে আবারও সংঘর্ষ হয়। এ সময় আহতদের সাথে থাকা শিবির ও ছাত্র শক্তির নেতাকর্মীরা আরেক দফায় মারধরের শিকার হয় বলে সংগঠন দুটির অভিযোগ। সংঘর্ষের সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের জানালার কাচ ও এয়ারকন্ডিশন ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আবারো বিকেল থেকে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েক দফায় হাসপাতালটির সামনে মিছিল নিয়ে আসে। তারা আহতদেরকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ভেতরে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা আশপাশে অবস্থান নেয়।
এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল জবির মূল ফটকের সামনে অবস্থা নেয়। এছাড়া, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কবি নজরুল কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত এলাকায় দফা দফায় মিছিল করতে দেখা গেছে। তবে জামায়াত-শিবিরের কোনো কার্যক্রম বা উপস্থিতি দেখা যায়নি।
আহতদের বিষয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ হাসান বলেন, “দুপুর ২টা থেকে এখানে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যেও হামলা হয়েছে।”