প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘আপনার পতনের জন্য এই যুবদল ছাত্রদলই কিন্তু যথেষ্ট হবে। তাদের লাগাম ধরেন, যদি এখনো লাগাম ধরতে না পারেন, তাহলে সময়ের অপেক্ষা করেন।“
আজ মঙ্গলবার রাতে ছাত্রশিবিরের পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ছাত্রদল-যুবদল ও বিএনপির সন্ত্রাসী হামলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে’ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “সারা দেশে ধারাবাহিক হামলায় সরকারের উচ্চ মহল থেকে প্রত্যক্ষ উসকানী দেয়া হচ্ছে বলে আমরা স্পষ্ট মনে করি।”
মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। এরই প্রতিক্রিয়ায় রাতে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রশিবির।
সরকারের সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘‘ছাত্রদের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নিয়ে সরকার এক নতুন কর্তৃত্ববাদী কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
নুরুল ইসলাম বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠগুলোতে একের পর পর এক সন্ত্রাসী হামলা ও শিক্ষকদের লাঞ্চিত করার পর আজ পর্য়ন্ত কোনো একটির সুষ্ঠু বিচার হয়নি। প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীবরতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়ে (জবি) ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সেনাবিহিনীর মাধ্যমে সম্পন্নের দাবি করায় তাদের পিটিয়েছে ছাত্র দল। তিনি বলেন, “জবি ক্যাম্পাসের শত কোটি টাকার উন্নয়নকাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার চাঁদা ও অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভের মানসিকতা থেকে ছাত্রদল সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই বর্বর হামলা চালিয়েছে।” জবি ছাত্রদলের নেতারা চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের বলেও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “নাম ছাত্রদল কিন্তু ৪০-ঊধর্ব বয়স তাদের।”
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘‘হামলার পর আহতরা যখন ঢাকা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দেশীয় অস্ত্রসহ দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল মহানগর দক্ষিণের নেতা-কর্মীরা। এই পৈশাচিক হামলার নেতৃত্ব দেয় কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখার ছাত্রদলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা।”
ঢাকা কলেজে হওয়া সংঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, “একই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকা কলেজেও ফ্যাসিবাদের গ্রুপ স্পষ্ট হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের জন্য সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজে এক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিকালে ব্যাগে পিস্তল নিয়ে ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়।”
ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “অন্যদিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় আজ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে হলে অবস্থানরত ছাত্রদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। রুম থেকে জোরপূর্বক ছাত্রদের বের করে দিয়ে হলে তালা মেরে দেয়। পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এবং হেলমেট পরে রাজধানীর শীর্ষ চাঁদাবাজ যুবদল নেতা নয়ন এবং ঢাবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আলিয়া মাদ্রাসায় এই হামলা চালায়।”