নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ। স্থানীয় সময় গত বুধবার এ বন্যার ঘটনা ঘটে। খবর নেপালভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্টের।
অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রতিবেশী তিব্বত অঞ্চলেও অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
নেপালের পর্যটন বিভাগ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ৩৪টি দেশের ৬৬৮ জন পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাদের বেশির ভাগ ট্র্যাকিং অভিযানে ছিলেন।
নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের অন্তত ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন। এ ছাড়া নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্গত এলাকাগুলোতে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের পালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলিতে বিধ্বংসী বন্যার পর ভবন ও সম্পত্তি কাদায় ঢেকে যেতে দেখা যাচ্ছে, একটি ড্রোন থেকে তোলা দৃশ্যে। ছবি: রয়টার্স
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মিনেল ফার্নান্দেজ এ কথা জানান। মিনেল ফার্নান্দেজ বলেন, যত বেশি সম্ভব জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সরকারি ও বেসরকারি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, আহতদের মধ্যে কারও পাঁজরের হাড় ভেঙেছে, আবার কেউ ত্বক পুড়ে যাওয়ার মতো আঘাত পেয়েছেন।
নেপালে উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধান এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছেন। এলাকাটি ট্রেকিংপ্রেমী ও তীর্থযাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়। তারা তিব্বতের লাসা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে যাতায়াত করেন।
আল জাজিরার যাচাই করা বুধবারের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকায় প্রবল স্রোতের পানি ও ধ্বংসাবশেষে কয়েক ডজন মানুষ ভেসে যাচ্ছেন। অন্যদিকে নেপালের ভাটির দিকে বহু বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বসনেত বলেন, প্রতিবেশী ভারত থেকে দেওয়া তাঁবু, খাবার ও ওষুধ হেলিকপ্টারে করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পাঠানো হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার নেপাল নিউজ জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীতে পানির প্রবল স্রোতের মধ্যেও আপার ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে আটকা পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।
নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলীতে আকস্মিক বন্যার পর বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা কাদায় ঢেকে গেছে ড্রোন থেকে ধারণ করা। ছবি: রয়টার্স
গণ্ডক নদী অববাহিকায় বন্যার আশঙ্কায় নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকে হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নেপালের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই এলাকায় একটি ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, শুরুতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে রেকর্ড হওয়া কম্পনটি আসলে হিমবাহের পাথর ও বরফের নিচের অংশ হঠাৎ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্ট ভূকম্পন শক্তি ছিল। এর পর সেখানে ব্যাপক ধ্বংসাবশেষের স্রোত দেখা দেয়।