শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের স্ত্রী শিরান্থি রাজাপাকসেকে ফার্স্ট লেডি থাকাকালে তার দাতব্য সংস্থার জন্য পাওয়া অনুদানের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গতকাল বুধবার আটক করা হয়েছে।
পুলিশ শিরান্থি রাজাপাকসেকে তার বাসায় জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আদালতে হাজির করে। আদালত তদন্ত চলাকালে তাকে এক সপ্তাহ আটক রাখার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ তাকে একটি গাড়িতে করে কারাগারে নিয়ে যায়। সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের কারণে তার এক চোখে ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি একটি হাসপাতালের জন্য স্ক্যানার কেনার উদ্দেশ্যে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক তার দাতব্য সংস্থাকে যে অনুদান দিয়েছিল, শিরান্থি রাজাপাকসে সেই অর্থ অপব্যবহার করেছেন। অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওই সময় ব্যাংকটির প্রধানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত তাকে জামিন দেন।
সাবেক এই দম্পতির ছেলে ও আইনপ্রণেতা নামাল রাজাপাকসেকেও ঘুষের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে ও তার পরিবার দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। ২০০৯ সালে মাহিন্দা ও তার ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের পরাজিত করা হয় এবং দ্বীপরাষ্ট্রটির ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।
তবে ২০১০ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ঘুষ, দুর্নীতি ও নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিযোগে তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ২০১৫ সালে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করে তিনি পরাজিত হন। তার পরিবার তখন ব্যাপক ক্ষমতা ভোগ করত। তার ছেলে, ভাই, ভাতিজা ও ভাতিজিরা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
২০১৯ সালে পরিবারটি আবারও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসে। ওই বছর ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলে ইসলামিক স্টেট-অনুপ্রাণিত আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৬৭ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে নিরাপত্তা বড় ধরনের উদ্বেগ হয়ে ওঠে।
ওই বছরের শেষ দিকে গোতাবায়া রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু পরে কোভিড-১৯ সংকট, পর্যটন খাতে মন্দা এবং তার নেওয়া অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে তিনি পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
২০২৪ সালে দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার নিয়ে অনুরা কুমারা দিসানায়েকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। রাজাপাকসে পরিবার এবং আগের সরকারগুলোর যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।