জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক পরিস্থিতি একপেশে হয়ে উঠছে এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারি দল বা বিশেষ একটি গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওই বৈঠকে অংশ নেয় বলে তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের অভিযোগ করেন, পটুয়াখালীর বাউফল আসনে জামায়াত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ চরম পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, “বাউফলের ওসি চূড়ান্তভাবে একপেশে আচরণ করছেন। তিনি বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জামায়াতের অফিস রেইড করছেন। এই ওসি বহাল থাকলে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বাউফলের ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছি।”
তিনি আরও জানান, ঢাকা-১৫ আসনে, যেখানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—এবং পাবনায় নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলা ও দলীয় অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। পাবনায় জেলা আমিরের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, সেখানে নারী কর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পরও স্থানীয় প্রশাসন ও ইউএনও-রা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তার অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতারা বলেন, বাউফল, পাবনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক বোরকা বানানো হচ্ছে—এমন প্রচারণাকে ‘কাল্পনিক নাটক’ আখ্যা দেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের। তিনি বলেন, “নারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করতে এবং তাদের নির্বাচনবিমুখ করতেই এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যেখানে অর্ধেক ভোটার নারী, সেখানে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কমিশনের বড় দায়িত্ব।”
সম্প্রতি ১১টি নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের বলেন, “জামায়াত ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখে। আমিরে জামাতের টুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। আমরা সেটি উদ্ধার করেছি এবং তদন্তে দেখা গেছে, বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার ইমেইল থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে এটি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। এটি মূলত জামায়াতের নারী সমর্থনের জোয়ার দেখে একটি মহলের চক্রান্ত।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় নেতাদের চলাচলের জন্য গাড়ি ও পাস ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় কূটনৈতিকদের কাছেও তুলে ধরা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।