শক্তির মাধ্যমেই কেবল শান্তি নিশ্চিত করা যায় এবং এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও বিসর্জন দেওয়া যাবে না বলে আজ রোববার মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। প্রায় সাত দশক আগে চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ এক যুদ্ধের বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি স্পর্শকাতর সীমান্তবর্তী একটি দ্বীপ সফর করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চীনের উপকূলের অদূরে অবস্থিত কিনমেন ও মাতসু দ্বীপপুঞ্জ ১৯৪৯ সালে চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাও সেতুংয়ের বাহিনীর কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে রিপাবলিক অব চায়না সরকার তাইপেতে চলে আসার পর থেকে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।
প্রবল বৃষ্টির মধ্যে লাই ১৯৫৮ সালে চীনা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ৬৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শ্রদ্ধা জানান। ওই সংঘর্ষকে দ্বিতীয় তাইওয়ান প্রণালি সংকটের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটিই ছিল শেষবার, যখন তাইওয়ান ও চীনের বাহিনী বড় পরিসরে যুদ্ধে জড়িয়েছিল।
পরে সাবেক সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় লাই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, তারা “ঐক্যবদ্ধ হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে কমিউনিস্ট সর্বগ্রাসী আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন”।
লাই বলেন, “জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং তাইওয়ান প্রণালিজুড়ে শান্তি সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আমাদের সংকল্প কখনোই টলে যাওয়া উচিত নয়। শান্তি কখনোই আকাশ থেকে আপনা-আপনি নেমে আসে না।”
তিনি বলেন, ১৯৫৮ সালের যুদ্ধ প্রমাণ করে “শক্তির মাধ্যমেই শান্তি নিশ্চিত করা যায়”।
তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান, কিনমেন এবং অন্য দ্বীপপুঞ্জের “এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে না দেওয়ার চেতনা” বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে সামরিক ব্যয় ক্রমাগত বাড়ানো জরুরি।
চীনের তাইওয়ানবিষয়ক কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
চীনের খুব কাছেই
গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করে এবং লাইকে বারবার “বিচ্ছিন্নতাবাদী” হিসেবে নিন্দা করেছে। লাই বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তাইওয়ানের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। তবে তিনি চীনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
কিনমেনের সবচেয়ে কাছের অংশ চীনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড থেকে দুই কিলোমিটারেরও কম (১ দশমিক ২ মাইল) দূরে। ১৯৫৮ সালের যুদ্ধে চীনা বাহিনী কিনমেন ও মাতসুর ওপর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গোলাবর্ষণ শুরু করে। এর পাশাপাশি নৌ ও বিমান যুদ্ধও হয়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল দ্বীপগুলোকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে তাইওয়ান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত ওই সংকট অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। চীনের হামলা প্রতিহত করার স্মরণে তাইওয়ান প্রতি বছর ২৩ আগস্ট দিনটি পালন করে।