যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে দেশটির বাজারসহ বিশ্ববাজারে অবিলম্বে ডিজেল সরবরাহ করতে রাশিয়া সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরবরাহের পরিমাণ খুব বেশি না হওয়ায় জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা নেই।
কৃষিকাজ, বাড়িঘর গরম রাখা এবং পণ্যবাহী ট্রাক চালানোর কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বর্তমানে রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ‘অত্যন্ত সফল’ আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।
আলোচনার কিছুক্ষণ পর পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডিজেল ও জ্বালানি খাতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটির জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রেক্ষাপটে এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক্সে তিনি বলেন, “পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না কিংবা সভ্য বিশ্বের কোনো উপকার হবে না। রাশিয়া আরও সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে এই ডিজেলের ‘প্রতিদান’ দেবে।”
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি সাধারণ অনুমতিপত্র জারি করেছে। এর ফলে আগামী বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানি করা যাবে।
ট্রাম্প বলেন, নভেম্বরে রাশিয়া আরও পাঁচ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পরপরই আরও ১০ লাখ টন সরবরাহ করা হবে। রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে আরও ডিজেল সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি। ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার এসব শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘আসলে তেমন কিছুই নয়’
বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তির ফলে জ্বালানির দাম দীর্ঘমেয়াদে কম থাকার সম্ভাবনা নেই।
তেলবাজারবিষয়ক গবেষক এবং কমোডিটিকনটেক্সট ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ররি জনস্টন এক্সে বলেন, “এটি যে আসলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় নয়, তা আমি যতটা জোর দিয়ে বলতে পারি, ততটাই জোর দিয়ে বলছি।” তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার শোধনাগারগুলো হামলার শিকার না হলে দেশটি সাধারণত এর চেয়ে অনেক বেশি ডিজেল রপ্তানি করে।
অবিলম্বে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত তিন লাখ টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষক জিম মিচেল বলেন, “এটি স্পষ্টতই কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে ডিজেলের অত্যন্ত সংকুচিত বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর আরেকটি উৎস হিসেবে কাজ করবে।”
ডিজেলের দাম মুদ্রাস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডিজেলের দাম ৭০ শতাংশ বেড়েছে। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে তীব্র সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৃহস্পতিবার ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে গাড়িচালকদের সংগঠন এএএ।
জ্বালানির সরবরাহ বাড়াতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দুটি পদক্ষেপের পরও দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিত্র দেশগুলোকে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়তে চাপ দেওয়া এবং করমুক্ত লাল রঙের ডিজেলের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা। এ ধরনের ডিজেল সাধারণত কৃষিকাজের যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে চুক্তির খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। লেনদেনের সময় প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৬৪ ডলার, যা ৪ দশমিক ৮ শতাংশের বেশি কম।
ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকানদের, বিশেষ করে আমাদের মহান কৃষক, খামারমালিক ও ট্রাকচালকদের জন্য দাম কমানোই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”