বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘আমাদের সব প্রার্থী সৎ ও নির্ভীক। ২৪-এর বিপ্লবের পর আমাদের কোনো প্রার্থী কোনো এলাকাতেই চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা মামলাবাজি করেনি। তাই তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করুন।”
আজ শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এস এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সরকার গঠন করতে পারলে দেশ থেকে চাঁদাবাজদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে বলে এ সময় জানিয়েছেন জামায়াতের আমির। বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
তিনি বলেন, ‘দুইটা কারণে আমাদের কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পায় না। প্রথমত, মধ্যস্বত্বভোগী, দ্বিতীয়ত, ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। সরকার গঠন করতে পারলে দেশের সব অফিস-আদালত, গ্রামগঞ্জ, শহর থেকে আমরা চাঁদাবাজি-দখলবাজি বিতাড়িত করব।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, “বিগত ৫৪ বছর যেই শাসন, যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যে বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে–এই শাসন আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই তার আমূল পরিবর্তন। তাই আমরা চাঁদাবাজিকে সম্পূর্ণভাবে বিতাড়িত করব।”
তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিয়ে তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করা হবে। তারাও এ সমাজে সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।
এসময় উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের নদীগুলো এখন মরুভূমি হয়ে পড়েছে। নদীর জীবন ফিরে আসলে উত্তরবঙ্গের জীবন ফিরে আসবে। সরকার গঠন করতে পারলে আমরা এই নদীগুলোর ওপর সবার আগে দৃষ্টি দেব। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে ইনশা আল্লাহ।”
সেইসঙ্গে, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য এখানে ইপিজেড হওয়ার প্রয়োজন আছে। কৃষিপণ্য প্রসেস ও রপ্তানিযোগ্য করে তুলতে এখানে ইপিজেড করা হবে।
উত্তরবঙ্গ কৃষির উর্বর ক্ষেত্র উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, “উত্তরবঙ্গে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আমাদের বিবেচনায় গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে।”
সমাবেশে শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমরা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না। অবশ্যই বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই, আমরা প্রতিবেশীদেরও আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আর কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক, তাও দেখতে চাই না।”
আসন্ন নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে। তাই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।