বিভিন্ন জায়গায় আচারণবিধি লঙ্ঘন এবং এর ফলে নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। আজ সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “বিভিন্ন জায়গাতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, হামলা হচ্ছে। গত চার দিনে আমরা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি। এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”
নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “আমরা মনে করি যে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন যদি ভূমিকা পালন করে তাহলে একটা সুন্দর লেভেল প্লেয়িং নিশ্চিত করা সম্ভব।”
এহসানুল মাহবুব অভিযোগ জানিয়ে বলেন, “আমরা গত কয়েকদিন থেকে দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে নারী কর্মীরা যখন কাজ করতে বের হচ্ছেন তখন দেশের বিভিন্ন জায়গাতে তাদের ওপর হামলা হচ্ছে। তাদেরকে নাজেহাল করা হচ্ছে। তাদেরকে অপদস্ত করা হচ্ছে। এবং কোনো কোনো জায়গাতে খুবই লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব থাকলে নেকাব খোলার জন্য বলা হচ্ছে। তাদের অনেকের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
তবে জামায়াত কোন নারী প্রার্থী কেন দেয়নি বিষয়টি নিয়ে এহসান আরও বলেন, “আমরা যেকোনো প্রার্থী সিলেকশনের ব্যাপারে আমাদের একটা নিয়ম ফলো করি। সেটা হচ্ছে আমরা স্থানীয়ভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে পরামর্শ নেই। পরামর্শের আলোকে আমরা প্রার্থী ঠিক করে থাকি। এক্ষেত্রে আমরা পুরুষদের ক্ষেত্রে আমাদের তো যে কেউ কোনো প্রার্থী হতে পারেন না। নারীরাও সরাসরি বলতে পারেন না যে আমি প্রার্থী হতে চাই। এটা আমাদের দলের একটা ঐতিহ্য। পুরুষের ক্ষেত্রে পরামর্শের আলোকে যার সিদ্ধান্ত আসে তিনি মানতে বাধ্য কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে আমরা এটা বাধ্য করি না। যেহেতু তিনি তার পরিবার তার বাস্তবতাকে সামনে রেখে তিনি কী করেন যে আমি রাজনীতি করব কিন্তু ইলেকশন করব কি? অনেকেই রাজনীতিতে আসতে চান কিন্তু ইলেকশনে আসতে চান না।”
জামায়াতের কর্মীরা বাসায় গিয়ে এনআইডি নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে এহসানুল মাহবুব বলেন, “কথাটা সম্পূর্ণ অসত্য। মহিলারা গিয়ে এনআইডি চেয়েছেন, বিকাশ নাম্বার চেয়েছেন এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাচ্ছি, নারীদেরকে অসম্মান করা হচ্ছে তাদেরকে অপমানিত করা হচ্ছে।”
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের ৪০ শতাংশের উপরে হচ্ছেন নারী এবং যা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলএ নেই বলে জানিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।