ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ব্রিটেনে যে বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে, তার কাছে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। আজ রোববার ‘বড় ধরনের ঘটনা’ ঘোষণার পর সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি যানবাহনে তল্লাশি চালায় এবং কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় আঘাত হানতে রয়্যাল এয়ারফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ঘটনাটি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিল, হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সশস্ত্র পুলিশ বিমানঘাঁটির প্রধান ফটকের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রবেশপথগুলোর সামনে বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও রাখা হয়েছে। বিমানঘাঁটির কাছের একটি গ্রামের বাসিন্দাদের ভোররাতে ঘুম থেকে তুলে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বলা হয়।
ঘাঁটির কাছের ফেয়ারফোর্ড গ্রামে পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়িসহ প্রায় ৩০টি জরুরি সেবার যান অবস্থান করছিল। এ সময় একটি হেলিকপ্টারও আকাশে চক্কর দিচ্ছিল।
বড় ধরনের ঘটনা ঘোষণা
গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, “বড় ধরনের ঘটনা ঘোষণা করার পর হুইলফোর্ড এলাকায় বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিস্ফোরক আইনের অধীনে অপরাধের সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পর এই ঘটনা ঘটে।”
পুলিশের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত বিস্ফোরক ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয়কারী দল বর্তমানে বেশ কয়েকটি যানবাহন পরীক্ষা করছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তারা মনে করছে ঘটনাটি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ডেইলি মেইলের ওয়েবসাইটে পাঁচজন খালি গায়ে থাকা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। আরেকটি ছবিতে কাছেই তিনটি বড় সাদা ভ্যান দেখা যায়। সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর সরাসরি ভিডিওতে ওই তিনটি ভ্যানের কাছে একটি বোমা নিষ্ক্রিয়কারী রোবটকে কাজ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একজন মুখপাত্র ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জুলাইয়ে ব্রিটেন জানিয়েছিল, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাজ্যকে ফেয়ারফোর্ড থেকে আমেরিকান বোমারু বিমান উড্ডয়নের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করার পর যেকোনো হামলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অন্য ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে লাকেনহিথ ও মিল্ডেনহলও রয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সেবাদাতাদের রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কেও অবহিত করেন। সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও সাইবার হামলা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর অভিযোগ রাশিয়া অস্বীকার করেছে।