ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেবে ব্রিটেন—এ কথা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
সৌদি বিমানবাহিনীকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করতে রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) বিমান পাঠানো হবে। এর লক্ষ্য দেশটির তেল স্থাপনাগুলোতে আরও হামলা ঠেকাতে সহায়তা করা।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর, লোহিত সাগরের বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বার্নহাম বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ডের পরামর্শে তিনি সৌদি আরবকে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বার্নহামের প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের আগে এ ঘোষণা এলো। ব্রিটিশ সময় বিকেল ৫টার দিকে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা।
বার্নহাম সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের বিশেষ সম্পর্ক “যতটা শক্তিশালী ছিল, এখন ততটাই শক্তিশালী” এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর “একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে”।
তবে ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধে যোগ দিতে স্যার কিয়ার স্টারমারের ব্যর্থতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফ জানতে পেরেছে, বৈঠকে ট্রাম্প ন্যাটোর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্রিটেনের অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলবেন।
বার্নহাম সাংবাদিকদের বলেন, “সৌদি আরবের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আমরা সামরিক সহায়তার অনুরোধ পেয়েছি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শে গত রাতে আমি প্রতিরক্ষামূলক আকাশ থেকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা দেওয়ার অনুরোধে সম্মতি দিয়েছি। এটাই আমাদের দেওয়া সম্মতি।”
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি ব্রিটেনে “জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ” কমাতেও তিনি পদক্ষেপ নেবেন।
বার্নহাম বলেন, “অবশ্যই সৌদি আরব হামলার শিকার হচ্ছে এবং আরও অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছে। আমাদের এসব পথ খোলা রাখতে হবে। এ কারণেই আমরা তাদের অনুরোধে সম্মতি দিয়েছি।”
হামলাগুলো বাব এল-মানদেব প্রণালির মধ্য দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত করার হুমকি তৈরি করছে। তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে লোহিত সাগরের বন্দর এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এটি।
দ্য টেলিগ্রাফ জানতে পেরেছে, সৌদি আরবকে সহায়তার এই অভিযান কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে। তবে বার্নহাম বলেছেন, এটি হবে ‘সীমিত সময়ের জন্য’—সম্ভবত সর্বোচ্চ কয়েক সপ্তাহ।
এই সহায়তা কেবল ‘প্রতিরক্ষামূলক’ সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার সৌদি প্রচেষ্টাও রয়েছে।
হামলাগুলোর কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন। যুক্তরাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বাড়তে থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।