মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করে একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলেছে, বিষয়টি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো একটি বড় ধরনের উত্তেজনার কারণ হয়ে রয়েছে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
বুধবার নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থান তুলে ধরেন। “স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি”—শিরোনামে নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ওই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা এতে অংশ নেন।
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে চায়—এমন তথ্য জানিয়ে এক সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান। তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে তারা কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি, এটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনো একটি বড় ধরনের বিরক্তির কারণ। তাই আমরা আশা করি, তারা একটি সমাধান খুঁজে বের করতে একসঙ্গে কাজ করবে। তবে শেখ হাসানাকে নিয়ে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমরা নির্দিষ্টভাবে কোনো মতামত দিইনি। তবে আমি সাধারণভাবে শুধু এটুকুই বলব, আমরা উভয় পক্ষের মধ্যে আরও ভালো, আরও ভালো সম্পর্ক দেখতে চাই। আমরা আরও ভালো সম্পর্ককে উৎসাহিত করি। আর আমরা সেটিই সমর্থন করি।”
আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “এটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।”
ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে ‘খুবই শক্তিশালী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ‘আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ এবং আরও সমৃদ্ধ’ করার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিতে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার ওপর ওয়াশিংটন গুরুত্ব দিচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চলমান রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না। তবে আমি বলব, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক—খুব, খুবই ভালো অবস্থানে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা তাদের সঙ্গেই কাজ করায় মনোযোগ দিচ্ছি। এমন লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি, যা বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ এবং আরও সমৃদ্ধ করবে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকেও করবে। তাই আমি মনে করি, অভ্যন্তরীণ চলমান রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে যাচ্ছি না। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী।”
ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-সম্পর্কিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী উদ্বেগের বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, আল-কায়েদা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন যেকোনো দেশের সঙ্গে কাজ করবে। তবে সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন নিয়ে তিনি নির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ তিনি প্রতিবেদনটির বিস্তারিত দেখেননি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমি ওই প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানি না। তবে আমি সাধারণভাবে বলতে পারি, আল-কায়েদা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে সহায়তা করতে আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে কাজ করব।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো বৈঠক হতে পারে কি না জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের সময়সূচির বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে বলেন।
তবে ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আসিয়ান-সম্পর্কিত এক কর্মসূচির সময় ম্যানিলায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “এ ধরনের যোগাযোগগুলো হয়ে আসছে। সামনে কী কর্মসূচি রয়েছে, তা আমি বলতে পারছি না। তবে আমার ধারণা, তাদের আরও সাক্ষাতের সুযোগ তৈরি হবে।”