সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেছেন, “সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং গণতন্ত্র মূলত একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি ও ধারাবাহিক চর্চার বিষয়।”
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত “সংস্কার কোথায় দাঁড়িয়ে? অগ্রগতি, বাধা ও করণীয়” শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সংলাপে বিএনপির সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, “৮৪টি বিষয়ের মধ্যে ১৬টিতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ছিল, তবে সবগুলোই বিএনপির দেওয়া নয়। বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাবগুলো এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে বিএনপিকে হাত পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “জুলাইয়ের পর মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।”
জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর সংস্কারের একটি বড় সুযোগ তৈরি হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সেই ঐকমত্য দুর্বল হয়ে পড়ে।”
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, “ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ রোধে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে কার্যকর ভূমিকা ও সংসদের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের দৃশ্যমান অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রকৃত অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা, পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং স্থানীয় সরকারকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত করাও জরুরি।”
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, “জুলাইয়ের সংস্কারকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যায় না। এমন নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়।”
চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, “মৌলিক অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে নিতে হবে। স্থানীয় সরকার ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পুরুষতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।”
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য লামিয়া ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সংকটের সময়ে নারীরা সবসময় সামনের সারিতে থেকেছেন, তাই নীতিনির্ধারণেও তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “গণভোট ও সংস্কার নিয়ে নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী অবস্থানের বৈপরীত্য জনগণকে হতাশ করতে পারে।”
জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক (জাসদ) নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ।