মেগা টুর্নামেন্টের জমকালো গ্যালারি ও ফুটবলের চোখধাঁধানো লড়াইয়ের আড়ালে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এক নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয়।
কোটি কোটি দর্শক যখন মাঠে ও পর্দায় মেতে ছিলেন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে, ঠিক তখনই পর্দার অন্তরালে যৌথ আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সামলাতে হয়েছে একাধিক নাশকতামূলক ষড়যন্ত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও অংশ নেওয়া দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) বিশ্বকাপজুড়ে প্রতিদিন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
সেই গোপন নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল।
সেখান থেকেই জানা গেছে, বিশ্বকাপের অনেক তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিরা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, আয়োজক দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি ও মারাত্মক হুমকির মুখোমুখি হন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
টেক্সাসের আর্লিংটনে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ড্যালাস বিমানবন্দরে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে বোমাতঙ্ক ছড়ায়।
ওই ব্যক্তি দাবি করে, তার কাছে হাতে তৈরি বোমা ও এআর-১৫ রাইফেল রয়েছে এবং তিনি মেসি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করছেন।
এর কিছুদিন পর আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের দিন ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে এক ব্যক্তি নিজের শরীরে চার বোম বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
একই দিনে স্টেডিয়ামের ডাস্টবিনে বিস্ফোরক রাখার খবরে জরুরি চিরুনি অভিযান চালায় বোম্ব স্কোয়াড।
নথিতে উঠে এসেছে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরেও ছিল নিরাপত্তার শঙ্ক। হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল ও রোনালদোর কক্ষের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাকালে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পাশাপাশি, ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে সাইবার আক্রমণের শিকার হন এবং রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ারকে দেওয়া হয় হত্যার হুমকি।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচের পর তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ‘ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা’ পাঠানো হয়।
এসব বার্তার সিংহভাগই ছিল মিশরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।
শুধু লেতেক্সিয়ার নন, ওই ম্যাচে ভিএআর দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদকেও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।