
মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ, হয়তো আর্জেন্টিনার হয়েও শেষ। স্পেনের বিপক্ষে সেই ম্যাচেই কী জঘন্য ফুটবল খেলল লিওনেল স্কালোনির দল! বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা আসলে কী করতে চেয়েছিল? কেন এমন জঘন্য ফুটবল খেলেছে, কোথায় ভুল হয়েছে– বিশ্লেষণ দেখুন চরচায়।

ফাইনালের আগে মেসির নামই বেশি এসেছে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলের দাবিদার হিসেবে। কেউ কেউ হয়তো এমবাপ্পের নামও বলেছেন। কিন্তু স্পেন বিশ্বকাপ জেতার পর দেখা গেল, গোল্ডেন বল দেওয়া হলো রদ্রিকে! সিদ্ধান্তটা কি ঠিক হলো?

আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর লামিন ইয়ামালের শৈশবের এলাকা রোকোফোন্ডায় উৎসবের জোয়ার বয়ে গেছে। এই ফুটবলার প্রতিটি গোলের পর তার প্রিয় রোকোফোন্ডার পোস্টাল কোড ৩০৪ প্রদর্শন করে নিজের শিকড়কে সম্মান জানান।

মেসির পায়ে বল আসার পর তাকে আটকানোর চেয়ে, মেসির কাছে যেন বলটা পৌঁছাতেই না পারে—সেই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে স্পেন। আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড থেকে মেসির সংযোগটাই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো। রদ্রি, পেদ্রি কিংবা ফাবিয়ান রুইজরা পুরো ম্যাচজুড়ে জালের মতো বিছিয়ে রাখলেন তাদের পজিশন।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেন জিতেছে ১-০ গোলে। ফাইনালের আগে গোল্ডেন বল জেতার বড় ফেভারিট ছিলেন মেসিই। ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ ছিল তিনবার এই খেতাব জেতার। তবে তাকে হারিয়ে আসর জুড়ে স্পেনের মাঝমাঠের কাণ্ডারি রদ্রি প্রথমবারের মত জিতেছেন গোল্ডেন বল।

এমবাপ্পে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন ৮ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০ গোল আর ৪ এসিস্ট নিয়ে। আর মেসির গোল ৮টি, এসিস্ট ৪টি।

শেষ ম্যাচটা খেলে ফেলেছেন মেসি?

মেসি কীভাবে জিতবেন গোল্ডেন বুট?

মেসি আর আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের পথে শেষ বাধা স্পেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত স্পেন দলকে নিখুঁত বলেই মনে হচ্ছে। তাদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে কোন কৌশলে খেলাতে পারেন স্কালোনি? অন্যদিকে মেসিকে কীভাবে আটকাবে স্পেন? বিশ্লেষণ দেখুন চরচায়।

মেসি আর আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের পথে শেষ বাধা স্পেন, দলকে কীভাবে সাজাবেন স্কালোনি? ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে আনহেল দি মারিয়াকে নিয়ে যে চাল দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা কোচ, আজ স্পেনের বিপক্ষেও তেমন কিছু দেখাবেন? আর্জেন্টিনা দলে কয়টি পরিবর্তন আসতে পারে?

দশ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। মেসিরা যে ফুটবল খেলেছেন, সেটাকে জঘন্য বললেও কম বলা হয়।


বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধটা হয়েছে বেশ ম্যাড়মেড়ে। দুই দলের মধ্যে স্পেন বল দখলে রেখে খেলার চেষ্টা করেছে, আর্জেন্টিনা কী করতে চেষ্টা করেছে সেটাও মেসি-স্কালোনিরাই ভালো বলতে পারবেন।

‘লা ফিনালিসিমা’য় গত মার্চে দুই দলের দেখা হওয়ার কথা ছিল কাতারে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ম্যাচটাই শেষ পর্যন্ত হলোই না! সেই স্পেন আর আর্জেন্টিনাই আজ মুখোমুখি বিশ্বকাপ ফাইনালে। তবে দুই দল ছাপিয়েও এই ম্যাচের বড় বিজ্ঞাপন দুটি নাম - লিওনেল মেসি আর লামিন ইয়ামাল।

গোলের ব্যবধান দুই হলেও অ্যাসিস্টের হিসেবে মেসিকে স্পর্শ করে ফেলেছেন এমবাপ্পে। দুজনের অ্যাসিস্ট সংখ্যাই এখন চার। ফলে স্পেন ম্যাচে গোল্ডেন বুট জিততে হলে মেসিকে করতে হবে বিশেষ কিছুই।

কে জিতবেন গোল্ডেন বুট?
ভয়ংকর, সুন্দর ৩৯–এর মেসি
আর্জেন্টিনা আর স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনাল যেন পুনর্মিলনের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেসির সঙ্গে ইয়ামালের সাক্ষাৎ রোমান্টিসিজমের জন্ম দিয়েছে। বার্সেলোনায় এক সময় যাদের সঙ্গে খেলেছেন, সেই পেদ্রি-গাভিদেরও মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি। এর বাইরে ডাগআউটেও একটা পুনর্মিলনী হতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আর স্পেন

মেসির দুই অ্যাসিস্ট, এনসো ফের্নান্দেস আর লওতারো মার্তিনেসের দুই গোল, তাতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু দুই গোলে মেসির দুই অ্যাসিস্ট নিয়ে এত মাতামাতি কেন? দেখতে সাধারণ একটি পাস আর একটি ক্রস নিয়ে এত কথা কেন হচ্ছে?

মেসি আরেকবার জাদু দেখালেন, আর্জেন্টিনা আরেকবার হারতে হারতেও জিতে গেল। বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পথে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কামব্যাক কীভাবে সম্ভব হলো? মেসি তো জাদু দেখিয়েছেনই, স্কালোনির কোন চাল কীভাবে আর্জেন্টিনাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে?