ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় মাদক ধ্বংস শাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে এক হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার ওই পুলিশের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক সুমন কুমার চ্যাটার্জী আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
গ্রেপ্তার মো. রেজাউল করিম (৪৫) বর্তমানে সিএমএম কোর্টের মালখানা শাখায় কর্মরত ছিলেন।
আবেদনে বলা হয়, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। গ্রেপ্তার রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছেন। প্রাথমিক তদন্তে এই মামলার সাথে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তিনি ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোর মূল সরবরাহকারী ও গন্তব্য সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রদান করেননি। ফলে ইয়াবার মূল উৎস, এর পেছনে জড়িত চক্র এবং মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল করিমকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানা এলাকা থেকে গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আটক করে পুলিশ। সে সময় তার কাছ থেকে এক হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় আজ সোমবার ডিএমপির পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুত্রাপুর থানাধীন ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ‘বিসমিল্লাহ বিরানি ঘর’ নামের দোকানে অভিযান চালায় সিআইডি ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের একটি বিশেষ অভিযানকারী দল। সেখান থেকে কৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে রেজাউলকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে রেজাউলের দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের পকেট থেকে ১৭৯ গ্রাম ওজনের মোট এক হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এছাড়াও, তার নিকট থেকে মাদক বিক্রির নগদ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।