দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার তো বটেই, বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরাও মোস্তাফিজুর রহমান। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি পার করেছেন ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে একটা দিন, আর তাতেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বর্ণপদক জয়ের আশা।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে লিটন দাসের দলের প্রতিপক্ষ হবে ভারত বা শ্রীলঙ্কা।
১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১১২ রান ডিফেন্ড করতে নেমে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম ওভারেই শেখ মাহেদি হাসান ফিরিয়ে দেন সাহিবজাদা ফারহানকে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে মাত্র ১ রানে ফেরানোর মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই বড় ধাক্কা দিতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ।
এরপরও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল পাকিস্তান, বিশেষ করে সাইম আইয়ুবের কল্যাণে। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান মাত্র ১২ বলে করে ফেলেন ২১ রান। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমানের এক ওভারে হাঁকান দুটি ছক্কা ও একটি চার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মোস্তাফিজের শিকার হয়েই ফেরেন তিনি।
প্রথম ছয় ওভারে তিন উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ওপর পাল্টা চাপ অব্যাহত রাখতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। আর পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর প্রথম বলেই রিশাদ হোসেন উসমান খানকে ১৪ রানে বিদায় করেন।
তখন মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ ক্রমেই হয়তো ম্যাচে ফিরতে যাচ্ছে। কিন্তু নাসুম আহমেদের এক ওভারে হাসান নাওয়াজ দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ।
এরপরই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়া ওভারটি করেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ পেসার নিজের সেই ইনিংসের ১০তম ওভারে দিয়ে বসেন ২৩ রান। সেই ওভারে এক ছক্কার পাশাপাশি চারটি চার হাঁকিয়ে আবদুল সামাদ কার্যত বাংলাদেশের মুঠো থেকে ম্যাচটি বের করে নেন। দুই ওভারে ৪১ রান দেন মোস্তাফিজুর।
এরপর বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। সেটাও খুব ভালোভাবেই সারেন হাসান নাওয়াজ ও আবদুল সামাদ। হাসান নাওয়াজ অপরাজিত থাকেন ১৯ বলে ২৩ রানে, আর আবদুল সামাদ মাত্র ১৫ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।
এর আগে বাংলাদেশ অবশ্য পিছিয়ে গিয়েছিল ব্যাটিংয়েও। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানের কেউই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেননি। এর মধ্যে সাইফ হাসান ১৭ বল টিকে গেলেও করতে পারেন মাত্র ১৯ রান।
অন্যদিকে তানজিদ, লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন—তিনজনের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। ফলে টপ অর্ডারের এই ব্যর্থতার চাপটা পড়ে মিডল অর্ডারে।
সেটা কিছুটা হলেও সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। মাত্র ২৫ বলে দুটি চার ও চারটি ছক্কার মারে তার ৪২ রানের ইনিংসটি বলে দেয়, উইকেটে খুব একটা জুজু ছিল না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পিন-পেসের বিপক্ষে ব্যাটিং কিছুটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানরা সেটা কাজে লাগাতে পারেননি।
এর মধ্যে বাংলাদেশকে শেষের দিকে ঝড় তোলার বদলে আরও চাপের মুখে ফেলে দেন মোসাদ্দেক হোসেন। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ১৬ বল খেলে মাত্র একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে করেন ১১ রান।
এতে বাংলাদেশের স্কোর ১৩০ রানের কাছাকাছি যাওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, সেখান থেকে তা নেমে আসে ৭ উইকেটে ১১১ রানে। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।