Advertisement Banner

বিদ্যুৎ বিপর্যয় কাটিয়ে সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘোষণা কিউবার

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বিদ্যুৎ বিপর্যয় কাটিয়ে সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘোষণা কিউবার
কিউবার রাজধানী হাভানার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধ ও পুরোনো অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে কিউবায় এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দেশজুড়ে ব্ল্যাকআউট দেখা দেয়। এই বিপর্যয়ের পর গতকাল রোববার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে কিউবা। সেই সঙ্গে কিউবা ঘোষণা করেছে যে, তারা সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফ্রান্সের সংবাদসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলেছে, স্থানীয় সময় রোববার বিকেলের মধ্যে কিউবার রাজধানী হাভানার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

রোববার পশ্চিমের পিনার দেল রিও থেকে পূর্বের সান্তিয়াগো দে কিউবা পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে এখনও দুটি প্রদেশে সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ইলেকট্রিক ইউনিয়ন অব কিউবা।

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে কিউবার কমিউনিস্ট সরকার। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর থেকেই কিউবার ওপর তেল সরবরাহ বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। এমনকি চলতি সপ্তাহে দ্বীপটি ‘দখল’ করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

গতকাল রোববার কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী বর্তমানে যেকোনো আগ্রাসনের সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফার্নান্দেজ বলেন, “আমরা সত্যিই আশা করি, এটি হবে না।” তিনি বলেন, হাভানা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার কোনো বিরোধ নেই। তবে আমাদের নিজেদের রক্ষা করার প্রয়োজন এবং অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমরা বসে আলোচনা করতে প্রস্তুত।”

এদিকে, পুরোনো অবকাঠামোর কারণে গত দুই বছরে কিউবায় দেশজুড়ে বা আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এই অবকাঠামোগত সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি-সংকট, যে কারণে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। শনিবার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় এবং চলতি মাসে তৃতীয়বারের মতো ব্ল্যাকআউট হয় দেশটিতে।

সম্পর্কিত