মাজহারুল ইসলাম

‘ভাত না খাইয়া সারাদিন কেমনে খেলমু?’–ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) খাবার নিয়ে বিতর্কের মাঝে এভাবেই চরচাকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন একজন ক্রিকেটার। সঙ্গত কারণেই নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি। অবশ্য স্বাস্থ্যসচেতন খাবারের বদলে সেই পুরনো ভাত-বিরিয়ানি যেভাবে খেয়ে চলেছেন খেলোয়াড়রা, তাতে সেই সুযোগও নেই তার সামনে। যেখানে খোদ বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের অস্বাস্থ্যকর খাবার বাতিলের ঘোষণাই মানা হচ্ছে না, সেখানে এমন ‘সত্য’ বলে নিজের বিপদ কেই-বা আর বাড়াতে চাইবেন!
অবশ্য শুধু ডিপিএলই নয়, দেশের প্রায় সব ঘরোয়া টুর্নামেন্টে চলে আসছে ভাত খাওয়ার রীতি। পেশাদার ক্রিকেটারদের সব খাদ্যাভ্যাসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস এমনকি বিরিয়ানির মতো মুখরোচক খাবারও হরদম খান খেলোয়াড়রা। যেন এটাই নিয়ম। ভিন্ন কোনো খাবারের কথা চিন্তা করাটাই যেন অন্যায়।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। বোর্ডের প্রধান বদল হয়েছে অনেকবারই, অজানা কারণে কাজের কাজটা কেউই করতে পারেননি। তবে বিসিবির এডহক কমিটির প্রধান হয়েই এই দিকে আলোকপাত করেন তামিম। নিজে খুব সম্প্রতি খেলেছেন বলেই হয়তো তিনি খেলোয়াড়দের খাবার নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর তাই বিসিবির পক্ষ থেকে ডিপিএলে ক্রিকেটারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহের ঘোষণা দেন তামিম।
তখন সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, এবার বুঝি পরিবর্তন আসছে। তবে সর্ষের মধ্যেই যখন ভূত, তখন পরিবর্তনের আশাটা তো একটু বাড়াবাড়িই হয়ে যায়। কারণ, যাদের ভালোর জন্য এই চিন্তা তারাই তো স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চান না। তামিম বলেছিলেন দুপুরের লাঞ্চ হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্য ‘গ্রিলড চিকেন’ বা এই জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত হতে হবে। তবে বাস্তবে এর বদলে ম্যাচের পর ম্যাচ কিনা খাওয়ানো হচ্ছে ভাত, মাছ বা মাংস!
কেন এই হাল, তা নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক ‘ডেইলি সান’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া ক্যাটারিং কোম্পানি থেকে শুরু করে সময়ের স্বল্পতার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের অনীহার দিকটি উঠে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট অনেকেই নড়েচড়ে বসেছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সভাপতি তামিম গ্রিলড চিকেন বা কোনো নির্দিষ্ট খাবারের নাম বলেননি। শুধু স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এতেও কি সমাধান মিলবে?
ডিপিএলের একটি ক্লাবের কোচ নাম না প্রকাশ করার শর্তে চরচাকে তুলে ধরেছেন রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেছেন, “মুখে তো কত কথাই বলা যায়। ঘোষণা দেওয়া এক জিনিস, আর সেটা বাস্তবায়ন করা আরেক জিনিস। বাস্তবতা না বুঝে বলে দিলেই তো হয় না। আমার দলের একটা প্লেয়ারও দুপুরের ভাতের জায়গায় অন্য কিছু খেতে চায় না। আপনি খাবার দিলেই তো হবে না, যাদের জন্য খাবারটা দেবেন তাদের মতামতও তো নেওয়া লাগে। অভ্যাসের ব্যাপার তো আছেই। তাই হুট করে বললেই রাতারাতি সবাই ভাত খাওয়া ছেড়ে দেবে, এটা হয় না।”
শুধু খেলার দিনই নয়, খাবার নিয়ে সচেতনতা দরকার তো অনুশীলনের দিনেও। কিন্তু সেখানে অবস্থা আরও শোচনীয়। ঈদের বিরতির আগে অনুশীলন শেষে একটি দলের সবার মাঝেই দেখা গেল বিশেষ তাড়া। একজন আরেকজনকে বলছেন তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে নিতে। কিন্তু কেন? কারণ বিরিয়ানি নাকি ঠান্ডা হয়ে যাবে! মজার ব্যাপার হলো, সেই ক্লাবে এমন একজন ক্রিকেটার আছেন, যার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে দলে থাকা প্রায় নিশ্চিত!
অর্থাৎ, ঘরোয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝেও বোর্ড প্রধানের ঘোষণা মানার প্রবণতা নেই। একটি ক্লাবের একজন ক্রিকেটার এর কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন চরচাকে। তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গেলে একটা সেটআপে থাকতে হয়, ফিটনেস নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। ফলে আপনাকে নিয়ম মেনে খাবার খেতেই হবে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে এটা নেই। এখানে খেলোয়াড়রা যা খেতে চায়, সেটাই শেষ কথা। আর আপনি দেখবেন পারফরম্যান্স। ভাত-মাছ খেয়ে যদি কেউ ভালো খেলতে পারে, তাতে সমস্যা কী? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এক্ষেত্রে বিসিবি মিডিয়াতে হাইপ তৈরি করার জন্যই এসব বলেছে। কেন, সেই উত্তর আপনারা তো জানেনই।”
বিসিবিতে এখন বইছে নির্বাচনের বাতাস। ফলে ঈদের পর ডিপিএলের বাকি অংশে ভাত নিয়ে যত কাণ্ড, তার সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা কমই। ফলে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটা অন্তত এবারের ডিপিএলে সমাধানের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আগামী আসরে কী হবে?

‘ভাত না খাইয়া সারাদিন কেমনে খেলমু?’–ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) খাবার নিয়ে বিতর্কের মাঝে এভাবেই চরচাকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন একজন ক্রিকেটার। সঙ্গত কারণেই নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি তিনি। অবশ্য স্বাস্থ্যসচেতন খাবারের বদলে সেই পুরনো ভাত-বিরিয়ানি যেভাবে খেয়ে চলেছেন খেলোয়াড়রা, তাতে সেই সুযোগও নেই তার সামনে। যেখানে খোদ বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের অস্বাস্থ্যকর খাবার বাতিলের ঘোষণাই মানা হচ্ছে না, সেখানে এমন ‘সত্য’ বলে নিজের বিপদ কেই-বা আর বাড়াতে চাইবেন!
অবশ্য শুধু ডিপিএলই নয়, দেশের প্রায় সব ঘরোয়া টুর্নামেন্টে চলে আসছে ভাত খাওয়ার রীতি। পেশাদার ক্রিকেটারদের সব খাদ্যাভ্যাসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভাতের সঙ্গে মাছ, মাংস এমনকি বিরিয়ানির মতো মুখরোচক খাবারও হরদম খান খেলোয়াড়রা। যেন এটাই নিয়ম। ভিন্ন কোনো খাবারের কথা চিন্তা করাটাই যেন অন্যায়।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে। বোর্ডের প্রধান বদল হয়েছে অনেকবারই, অজানা কারণে কাজের কাজটা কেউই করতে পারেননি। তবে বিসিবির এডহক কমিটির প্রধান হয়েই এই দিকে আলোকপাত করেন তামিম। নিজে খুব সম্প্রতি খেলেছেন বলেই হয়তো তিনি খেলোয়াড়দের খাবার নিয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। আর তাই বিসিবির পক্ষ থেকে ডিপিএলে ক্রিকেটারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহের ঘোষণা দেন তামিম।
তখন সবাই ধরেই নিয়েছিলেন, এবার বুঝি পরিবর্তন আসছে। তবে সর্ষের মধ্যেই যখন ভূত, তখন পরিবর্তনের আশাটা তো একটু বাড়াবাড়িই হয়ে যায়। কারণ, যাদের ভালোর জন্য এই চিন্তা তারাই তো স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে চান না। তামিম বলেছিলেন দুপুরের লাঞ্চ হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্য ‘গ্রিলড চিকেন’ বা এই জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত হতে হবে। তবে বাস্তবে এর বদলে ম্যাচের পর ম্যাচ কিনা খাওয়ানো হচ্ছে ভাত, মাছ বা মাংস!
কেন এই হাল, তা নিয়ে সম্প্রতি দৈনিক ‘ডেইলি সান’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব পাওয়া ক্যাটারিং কোম্পানি থেকে শুরু করে সময়ের স্বল্পতার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের অনীহার দিকটি উঠে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট অনেকেই নড়েচড়ে বসেছেন। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সভাপতি তামিম গ্রিলড চিকেন বা কোনো নির্দিষ্ট খাবারের নাম বলেননি। শুধু স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এতেও কি সমাধান মিলবে?
ডিপিএলের একটি ক্লাবের কোচ নাম না প্রকাশ করার শর্তে চরচাকে তুলে ধরেছেন রূঢ় বাস্তবতা। তিনি বলেছেন, “মুখে তো কত কথাই বলা যায়। ঘোষণা দেওয়া এক জিনিস, আর সেটা বাস্তবায়ন করা আরেক জিনিস। বাস্তবতা না বুঝে বলে দিলেই তো হয় না। আমার দলের একটা প্লেয়ারও দুপুরের ভাতের জায়গায় অন্য কিছু খেতে চায় না। আপনি খাবার দিলেই তো হবে না, যাদের জন্য খাবারটা দেবেন তাদের মতামতও তো নেওয়া লাগে। অভ্যাসের ব্যাপার তো আছেই। তাই হুট করে বললেই রাতারাতি সবাই ভাত খাওয়া ছেড়ে দেবে, এটা হয় না।”
শুধু খেলার দিনই নয়, খাবার নিয়ে সচেতনতা দরকার তো অনুশীলনের দিনেও। কিন্তু সেখানে অবস্থা আরও শোচনীয়। ঈদের বিরতির আগে অনুশীলন শেষে একটি দলের সবার মাঝেই দেখা গেল বিশেষ তাড়া। একজন আরেকজনকে বলছেন তাড়াতাড়ি ব্যাগ গুছিয়ে নিতে। কিন্তু কেন? কারণ বিরিয়ানি নাকি ঠান্ডা হয়ে যাবে! মজার ব্যাপার হলো, সেই ক্লাবে এমন একজন ক্রিকেটার আছেন, যার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে দলে থাকা প্রায় নিশ্চিত!
অর্থাৎ, ঘরোয়ার পাশাপাশি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাঝেও বোর্ড প্রধানের ঘোষণা মানার প্রবণতা নেই। একটি ক্লাবের একজন ক্রিকেটার এর কারণটা ব্যাখ্যা করেছেন চরচাকে। তিনি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গেলে একটা সেটআপে থাকতে হয়, ফিটনেস নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। ফলে আপনাকে নিয়ম মেনে খাবার খেতেই হবে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে এটা নেই। এখানে খেলোয়াড়রা যা খেতে চায়, সেটাই শেষ কথা। আর আপনি দেখবেন পারফরম্যান্স। ভাত-মাছ খেয়ে যদি কেউ ভালো খেলতে পারে, তাতে সমস্যা কী? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এক্ষেত্রে বিসিবি মিডিয়াতে হাইপ তৈরি করার জন্যই এসব বলেছে। কেন, সেই উত্তর আপনারা তো জানেনই।”
বিসিবিতে এখন বইছে নির্বাচনের বাতাস। ফলে ঈদের পর ডিপিএলের বাকি অংশে ভাত নিয়ে যত কাণ্ড, তার সুরাহা হওয়ার সম্ভাবনা কমই। ফলে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে পার্থক্য, সেটা অন্তত এবারের ডিপিএলে সমাধানের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আগামী আসরে কী হবে?

মার্কিন প্রশাসন যতটা আশাবাদী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো সমঝোতা স্মারক আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে ঠিক ততটাই সংশয় প্রকাশ করেছে। সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকের এক বা দুটি ধারা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে বলে জানাচ্ছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

বিজেপির এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক দলগুলো অনেক বেশি সতর্ক এবং বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল টিডিপি বা তেলুগু দেশম পার্টি সরকারের পক্ষ থেকে ককরোচ জনতা পার্টির হ্যান্ডেলটি বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছে না।