এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্ট চলছে অদ্ভুত নিয়মে। ম্যাচের পর ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলো। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাই বাংলাদেশের বড় শঙ্কা বৈরী আবহাওয়াও। কারণ ম্যাচ বাতিল হলে যে শেষ হয়ে যাবে স্বর্ণপদক জয়ের আশাও।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাপানের নিশিনে অবশ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচে ঝকঝকে রোদ থাকবে বলেই খবর। আর এটা লিটন দাসের দলকে কিছুটা হলেও মাঠের ক্রিকেটে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। কারণ প্রথমবার জাপানে খেলতে গিয়ে অচেনা কন্ডিশনে একটা বলও যে খেলার সুযোগ মেলেনি বাংলাদেশের!
একই চিত্র পাকিস্তান এবং অন্য সেমিফাইনালের দুই দল ভারত ও শ্রীলঙ্কারও। কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচের ১২ ঘণ্টা আগেই ক্রিকেটারদের জানিয়ে দেওয়া হয়, আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ হওয়ার মতো অবস্থা নেই। সেমিফাইনালেও এমন কিছু হলে ফাইনালে চলে যাবে পাকিস্তান, আর বাংলাদেশকে খেলতে হবে ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচ।
এটাই এশিয়ান গেমসের এবারের ক্রিকেট ইভেন্টের বাস্তবতা, যেখানে আবহাওয়াই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হচ্ছে। এছাড়া জাপানে উইকেটের আচরণ নিয়ে সবার মনেই রয়েছে নানা প্রশ্ন। কিছু ম্যাচ ফ্ল্যাট উইকেটে হলেও নিশিনের ম্যাচগুলোতে স্পিন ধরছে বেশ। আর সেই আভাস পেয়েই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বদলি হিসেবে রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলামকে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে আলিসের অভিষেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। উইকেট স্পিনারদের জন্য কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই যেহেতু বেশি, তাই একাদশে তিনজন স্পেশালিস্ট স্পিনার রাখার দিকে ঝুঁকতে পারে বাংলাদেশ। শেখ মেহেদি, রিশাদ আহমেদ বা নাসুম আহমেদের সঙ্গে সেক্ষেত্রে তৃতীয় স্পিনার হতে পারেন আলিস।
অন্যদিকে বরাবরই এমন উইকেটে মুস্তাফিজুর রহমান বিশ্বের অন্যতম সেরা হওয়ায় বোলিং নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তার কারণ তেমন নেই। তবে পাওয়ার প্লেতে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান। বাংলাদেশের বিপক্ষে চারটি টি-টোয়েন্টিতে তিনি করেছেন দুই ফিফটি। চলতি বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি।
বোলাররা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করতে করলেও বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে পারে ব্যাটিং। বিশ্বমানের স্পিনারদের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা যে পুরনো। আর পাকিস্তানের স্পিন বিভাগ বেশ শক্তিশালী। সিপিএলে পাঁচ ইনিংসে ১২ উইকেট নেওয়া সুফিয়ান মুকিম এশিয়ান গেমসে খেলতে এসেছেন সেরা ফর্মে থেকে। আবরার আহমেদ তো আছেনই, সঙ্গে সাইম আইয়ুবও ধস নামাতে পারেন বিশ্বের যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপে।
স্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন এই ম্যাচের আগেই ছিটকে গেছেন এশিয়া কাপ থেকে। ফলে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে গত মে মাসে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলা লিটন দাস এবং সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে। তবে সবার আগে বাংলাদেশ দল চাইবে ম্যাচটা যাতে মাঠে গড়ায়। এরপর না হয় হার-জিতের চিন্তা!