Advertisement Banner

বাজেটে যা যা আছে

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বাজেটে যা যা আছে
ছবি: বাসস

আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক বাজেটে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে জোর দিয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নিরঙ্কুশ ভোটে জয় পাওয়া বিএনপি সরকার।

বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সবশেষ ২০০৬-২০০৭ সালের বাজেট দিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।

ভিন্ন বাস্তবতায় এবার নির্বাচিত সরকার সংসদে বাজেট দিলো। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব পাস হবে ৩০ জুন। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

গত বছর বিটিভির মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেট এ থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি।

আয়ের হিসাব

আগামী অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআরের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস হতে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে যে খরচের হিসাব করেছেন তা যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সে লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার এবং পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২.৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছেন।

ঘাটতি কত, আসবে কোথা থেকে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস হতে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “অর্থাৎ আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা হতে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করার প্রস্তাব করেছি।”

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকহারে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ছিল জিডিপির ২.৯ শতাংশ। পক্ষান্তরে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৪.০৫ শতাংশ হয়েছে।”

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি

বাজেটে আগামী অর্থবছরে দুটি প্রধান ম্যাক্রো লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমত, মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ।

দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.৫ শতাংশ।

মধ্যমেয়াদী লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়কর কত দিতে হবে

বর্তমানে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কর করমুক্ত আয়ের সীমা রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থ বছরে এই ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। এর পরের দুই অর্থ বছরে যা হবে ৪ লাখ টাকা। আর ২০৩০-৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কর দেওয়া লাগবে না।

আগামী অর্থবছরের ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার পরের ৩ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ তার পরের ৪ লাখের জন্য ১৫ শতাংশ; পরবর্তী ৫ লাখ টাকা আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, তারপরের ২০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে।

এছাড়া ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বেশি বাকি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ আয়কর দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে নারী ও ৬৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের সিনিয়র সিটিজনদের করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের করমুক্ত আয়সীমা হবে ৫ লাখ টাকা।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে বছরে ছয় মাস প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল ১৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৪১৯ উপজেলায় ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে চাল বিক্রি অব্যাহত থাকবে।

সামাজিক সুরক্ষায় কী আছে?

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে এবার বড় ধরনের সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে এ খাতে মোট ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে বেশি।

এর অংশ হিসেবে নতুন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় কার্ডধারী নারীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন।

একই সঙ্গে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত কৃষকদের বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

দাম বাড়তে পারে

নতুন বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও শিশুখাদ্যে স্বস্তির আভাস দিলেও আমদানি নির্ভর নানা পণ্যে বাড়তি খরচের ইঙ্গিত মিলেছে। কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিদেশি পণ্য ও কিছু নির্দিষ্ট খাতে শুল্ক বাড়িয়ে মূল্যচাপ বাড়ার পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক পণ্য ও সেবায় কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেসব ক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু খাতে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বাজেটে ঘোষিত এসব শুল্ক ও কর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, কর কমানো পণ্যের সংখ্যা বেশি হলেও মূল্যবৃদ্ধির তালিকাও কম নয়।

সিগারেটের ক্ষেত্রে চার স্তরে নতুন করে ন্যূনতম খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে–নিম্নস্তরে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরে ২১০ টাকা। এতে বাজারে সিগারেটের দাম বাড়বে। পাশাপাশি নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ডিজেল, অকটেন বা পেট্রলচালিত মাঝারি ক্ষমতার (১,২০০–১,৬০০ সিসি) আমদানি করা গাড়ির ওপর করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব তেলচালিত গাড়ির দাম বাড়তে পারে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা কাজুবাদামের শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত উভয় ধরনের কাজুবাদামে শুল্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি নির্ভর বাজারে এর দাম বাড়বে, যদিও স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য আলাদা সুবিধা রাখা হয়েছে।

দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। একইভাবে কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিতে ভ্যাট বসানো হয়েছে, যা গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়াতে পারে।

বিদেশি মধুর ক্ষেত্রে শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপারি আমদানির ক্ষেত্রেও শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে এ দুই পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়বে।

সুগার কনফেকশনারি, কফি ও প্রস্তুত খাবারসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে লিপ লাইনার ও লিপ জেলসহ প্রসাধনী পণ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

রড তৈরির উপকরণে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাবে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও খেলনাসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দাম কমতে পারে

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একাধিক পণ্য ও সেবায় কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেসব ক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে তিনি বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন, যা বিএনপি সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট।

ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর কমিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামানো হয়েছে। ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাজারে স্বস্তি আনতে পারে।

শিশুখাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে শিশুখাদ্যের বাজারমূল্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলায় আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। খেজুর আমদানির ক্ষেত্রেও একই সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা এ পণ্যের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সোনার ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং ভ্যাট কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে, ফলে সোনার গয়নার ওপর করের চাপ কমেছে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে বিভিন্ন স্তরে ৬৪ থেকে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। চার্জিং অবকাঠামোতেও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা এ খাতকে আরও সহজলভ্য করতে পারে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করায় চিকিৎসা ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—প্রতি সেবায় প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।

ওষুধ শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত নতুন উপকরণেও সুবিধা রাখা হয়েছে।

গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শুল্ক কমানোর কারণে বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পিওএস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে পারে।

শুল্ককর কমানো এবং শুল্কায়ন মূল্যে পরিবর্তনের কারণে বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেলস বা পিওস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধন এবং আরও নানা পণ্যের দাম কমতে পারে।

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসবেন।

সম্পর্কিত