দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও, প্রত্যাশামতো অগ্রগতি হয়নি। এখনো বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
চরচা ডেস্ক

দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।
প্রথমে মালয়েশিয়া এরপর চীন সফর করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার নতুন নেতারা সাধারণত প্রথমে ভারত সফর করেন। তাই অনেকের মতে, তারেক রহমানের চীন সফর দিল্লির প্রতি একটি বার্তা। কারণ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
চীনের সঙ্গে হওয়া কয়েকটি চুক্তির মধ্যে তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং মোংলা বন্দরের কাছে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশে প্রভাব বাড়াতে চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতার কারণে এই বিষয়গুলো দিল্লি খুব গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
২০২৪ সালের আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থেকে যায়। এ সময় ভারতও উচ্চপর্যায়ের সফর এড়িয়ে চলে।
ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির সরকার গঠন ও তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, “দুই দেশের মধ্যে আগের তুলনায় উত্তেজনা কিছুটা কমেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ভারত আবারও বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়া শুরু করেছে।”

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী বাস চলাচল আংশিকভাবে আবার শুরু হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস চলাচল করছে।
চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে কয়েক হাজার টন জ্বালানি পাঠায় দিল্লি।
গত মাসে ভারতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব নিয়েছেন। সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিতে ভারত তাকে মন্ত্রির সমমর্যাদা দিয়ে এই পদে নিয়োগ দেয়, যা ছিল একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত।
বিবিসি বলছে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও, প্রত্যাশামতো অগ্রগতি হয়নি। এখনো বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তাকে সমর্থন দেওয়ায় বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও বেড়েছে। এছাড়া ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইন অব্যাহত রাখায়ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে ভারত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এসব লোকের বেশির ভাগই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম।
বাংলাদেশের বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সময় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকদের বাংলাদেশবিরোধী উসকানিমূলক মন্তব্যও ঢাকার কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, “এসব বিষয় বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এর প্রভাব সরকারের চিন্তাভাবনাতেও পড়েছে। এসব ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সরকার ভারতের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর দিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।”
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে সরকার গঠন করে বিজেপি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে তৃণমূলের প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের যেকোনো ভূমিকা ভারতের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু।
তিস্তা নদী ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নদী। নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা বহু বছর ধরে আটকে আছে। সম্প্রতি তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ জানায়, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকাজের জন্য নদীটি সচল রাখতে খনন, পলি অপসারণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, সীমান্তের এত কাছাকাছি কোনো প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ভারতের জন্য সব সময়ই উদ্বেগের বিষয়। তাই ভারত এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে না।
বিবিসি বলছে, ভারত ও চীনের মধ্যে কয়েক দশকের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ হলে তারা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের আরও কাছে চলে আসবে। এই সরু ভূখণ্ড দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য যুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারগুলোও তিস্তা প্রকল্পে ভারতকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ভারত সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি করেছে। তাদের মতে, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা চীনের রয়েছে।
এদিকে, ভারতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে অন্য কোনো দেশের প্রভাব থাকা উচিত নয়।
চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। বাংলাদেশের আমদানি করা অস্ত্রের ৭০ শতাংশেরও বেশি আসে চীন থেকে। এছাড়া বাংলাদেশের কাছে চীনের পাওনা ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
তারেক রহমানের সফরের সময় চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেয় বেইজিং। এই করিডরের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন করা হবে।
দক্ষিণ এশিয়াকে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত নিজের প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে চীন ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টায় ভারতের জন্য একটি বড় জটিলতা হলো, শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
শ্যাম শরণের মতে, শেখ হাসিনা যত দিন দিল্লিতে থাকবেন, তত দিন রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানের ভারত সফর কিছুটা কঠিন হতে পারে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এসব সত্ত্বেও তারেক রহমান ভবিষ্যতে ভারত সফর করতে পারেন। কারণ, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।
অন্যদিকে, ভারতও জানে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই অঞ্চলে এখনো কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

দেশের অর্থনীতি চাঙা করতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।
প্রথমে মালয়েশিয়া এরপর চীন সফর করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিকের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার নতুন নেতারা সাধারণত প্রথমে ভারত সফর করেন। তাই অনেকের মতে, তারেক রহমানের চীন সফর দিল্লির প্রতি একটি বার্তা। কারণ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
চীনের সঙ্গে হওয়া কয়েকটি চুক্তির মধ্যে তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা এবং মোংলা বন্দরের কাছে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশে প্রভাব বাড়াতে চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতার কারণে এই বিষয়গুলো দিল্লি খুব গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে।
২০২৪ সালের আগস্টে এক গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি হয়। এরপর মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থেকে যায়। এ সময় ভারতও উচ্চপর্যায়ের সফর এড়িয়ে চলে।
ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির সরকার গঠন ও তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, “দুই দেশের মধ্যে আগের তুলনায় উত্তেজনা কিছুটা কমেছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। ভারত আবারও বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়া শুরু করেছে।”

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী বাস চলাচল আংশিকভাবে আবার শুরু হয়েছে। বর্তমানে কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস চলাচল করছে।
চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলে, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে কয়েক হাজার টন জ্বালানি পাঠায় দিল্লি।
গত মাসে ভারতে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় দায়িত্ব নিয়েছেন। সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিতে ভারত তাকে মন্ত্রির সমমর্যাদা দিয়ে এই পদে নিয়োগ দেয়, যা ছিল একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত।
বিবিসি বলছে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চললেও, প্রত্যাশামতো অগ্রগতি হয়নি। এখনো বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা ও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তাকে সমর্থন দেওয়ায় বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও বেড়েছে। এছাড়া ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে পুশইন অব্যাহত রাখায়ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে ভারত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হাজার হাজার মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। এসব লোকের বেশির ভাগই বাংলা ভাষাভাষী মুসলিম।
বাংলাদেশের বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সময় হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকদের বাংলাদেশবিরোধী উসকানিমূলক মন্তব্যও ঢাকার কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, “এসব বিষয় বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এর প্রভাব সরকারের চিন্তাভাবনাতেও পড়েছে। এসব ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সরকার ভারতের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর দিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।”
গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে সরকার গঠন করে বিজেপি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে তৃণমূলের প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের যেকোনো ভূমিকা ভারতের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু।
তিস্তা নদী ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নদী। নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের আলোচনা বহু বছর ধরে আটকে আছে। সম্প্রতি তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বাংলাদেশ জানায়, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালাতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকাজের জন্য নদীটি সচল রাখতে খনন, পলি অপসারণ এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, সীমান্তের এত কাছাকাছি কোনো প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ ভারতের জন্য সব সময়ই উদ্বেগের বিষয়। তাই ভারত এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাবে না।
বিবিসি বলছে, ভারত ও চীনের মধ্যে কয়েক দশকের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ হলে তারা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের আরও কাছে চলে আসবে। এই সরু ভূখণ্ড দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য যুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারগুলোও তিস্তা প্রকল্পে ভারতকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু ভারত সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি করেছে। তাদের মতে, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা চীনের রয়েছে।
এদিকে, ভারতকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং এতে অন্য কোনো দেশের প্রভাব থাকা উচিত নয়।
চীন বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। বাংলাদেশের আমদানি করা অস্ত্রের ৭০ শতাংশেরও বেশি আসে চীন থেকে। এছাড়া বাংলাদেশের কাছে চীনের পাওনা ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
তারেক রহমানের সফরের সময় চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেয় বেইজিং। এই করিডরের মাধ্যমে চীনের ইউনান প্রদেশের সঙ্গে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপন করা হবে।
দক্ষিণ এশিয়াকে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত নিজের প্রভাব বলয়ের অংশ হিসেবে দেখে। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে চীন ধীরে ধীরে নিজের প্রভাব বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টায় ভারতের জন্য একটি বড় জটিলতা হলো, শেখ হাসিনা এখনো দিল্লিতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
শ্যাম শরণের মতে, শেখ হাসিনা যত দিন দিল্লিতে থাকবেন, তত দিন রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানের ভারত সফর কিছুটা কঠিন হতে পারে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এসব সত্ত্বেও তারেক রহমান ভবিষ্যতে ভারত সফর করতে পারেন। কারণ, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।
অন্যদিকে, ভারতও জানে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই অঞ্চলে এখনো কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

আলোচনা-সমালোচনার পর গত ২১ জুন সিলেটের সাবেক ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর ২৮ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটে বদলি করা হয়। তবে এরই মধ্যে নতুন এই জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে মু. রেজা