ads

রাজবাড়ীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
রাজবাড়ীতে নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় এক তরুণ ও গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। গত শনিবার মধ্যরাতের ঘটনা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুর গ্রামে এক তরুণের সঙ্গে গৃহবধুকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গৃহবধুর সঙ্গে ওই তরুণের বিয়ে হওয়ার মাধ্যমে তাদের মুক্তি মিলেছে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার মধ্যরাতে গৃহবধুর স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মেহগনি গাছের সঙ্গে একই দড়িতে নারী ও এক তরুণকে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন নারী ও পুরুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, “তোরা এমন কাজ কী করে করতে পারলি।” আবার কখনো তরুণকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, “তোর বাপকে ফোন করে এখানে আসতে বল, তিনি আসলেই ঝামেলা মিটবে।” এ সময় একজনের কাছ থেকে মুঠোফোন নিয়ে বেঁধে রাখা তরুণকে কথা বলার চেষ্টা করতে দেখা যায়। গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের দৃশ্য অনেককে মুঠোফোনে ধারণ করতেও দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বেঁধে রাখা তরুণ স্থানীয়দের বারবার রশি খুলে দিতে অনুরোধ করছেন। কোথাও পালিয়ে যাবে না বলে তিনি বাঁধন খুলে দিতে সবাইকে অনুরোধ করেন। শরীর গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা এক যুবকের হাত ধরে বারবার রশির বাঁধন খুলতে অনুরোধ করেন ওই তরুণ। তখন বাঁধন খুলে দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, রশির বাঁধন খুলে দিলে এখানে উপস্থিত সবাই তাকে মারধর করবেন। তাই তিনি বাঁধন খুলে দিতে পারবেন না। এ সময় কয়েকজন কাছে এসে বেঁধে রাখা তরুণের ওপর চড়াও হন। তাদের বলতে শোনা যায়, কেউ রশি খোলার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দার ভাষ্য, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণ ও নারীকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ওই নারীর স্বামী সংসার না করার সিদ্ধান্ত জানালে স্থানীয়ভাবে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর রাতেই মৌলভি ডেকে ওই তরুণ ও নারীর বিয়ে দেওয়া হয়।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে দেখিছি। ভিডিও দেখে স্থানীয় হাসেম শেখের কাছে ফোন করে ঘটনা জানার চেষ্টা করেছি। নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত