নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইনে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ভুক্তভোগীবান্ধব অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থা, দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন (সিএসডব্লিউসি)।
আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এই দাবি জানায়।
অক্টোবর মাসকে বিশ্বব্যাপী ‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ হিসেবে পালনের অংশ হিসেবে অনলাইনে কেবল সচেতনতা বৃদ্ধি নয়, বরং প্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে সিএসডব্লিউসি।
বিজ্ঞপ্তিতে সিএসডব্লিউসি জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছর ৯ মাসে তাদের ফেসবুক পেজে ৮০টি সাইবার সহিংসতার অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫৫ জন নারী এবং ১২ জন পুরুষ ভুক্তভোগী। পুরুষ আবেদনকারীদের অনেকেই তাদের স্ত্রী, কন্যা ও নারী স্বজনদের পক্ষে সহায়তা চেয়েছেন- যা প্রমাণ করে অনলাইনে সহিংসতার প্রভাব পুরো পরিবারের ওপরই পড়ে।
অভিযোগের ধরনে দেখা যায়, ভুক্তভোগীরা মূলত অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও ফাঁসের হুমকি, অবমাননাকর মন্তব্যসহ তথ্য প্রচার, ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এডিটেড আপত্তিকর ছবি তৈরি এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন। এসবের মধ্যে সিএসডব্লিউসি সরাসরি ১৭টি ক্ষতিকর কনটেন্ট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট অপসারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ব্লাস্ট (ব্লাস্ট), স্টপএনসিআইআই এবং পুলিশ সাইবার উইংয়ে রোগীদের আইনি সাহায্যের জন্য রেফার করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সাইবার নিরাপত্তা মাস উপলক্ষে সরকারের প্রতি তিনটি প্রস্তাব ও দাবি জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি। একই সাথে সংস্থাটির পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে নিজস্ব ডিজিটাল পাসওয়ার্ড ও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় সতর্ক থাকার, যেকোনো সাইবার সহিংসতার শিকার হলে ডিজিটাল প্রমাণ (স্ক্রিনশট বা লিংক) সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট নিশ্চিতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।