অস্ট্রেলিয়াকে চলমান টেস্টে যেভাবে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ, অন্য অনেক দল হলে নিশ্চিতভাবেই জয়ের লড়াইয়ে তাদেরই এগিয়ে রাখা হত। তবে অতীতে অনেকবার এমন অবস্থান থেকেও বাংলাদেশের হারের ঘটনা রয়েছে বলেই আশাবাদী হওয়াটাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যখন ফিরে আসছে ২০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই এক হতাশাজনক হারের ক্ষত।
ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৫৩ রানের এবং হাতে রয়েছে ৪ উইকেট। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ২০০৬ সালে দেশের মাটিতে একটি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এরচেয়েও ভালো অবস্থানে থেকেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
সেই সফরে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে পা রেখেছিল যথারীতি ফেভারিট হিসেবেই। রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বে সেই দলে ছিলেন হেইডেন, মাইক হাসি, মাইকেল ক্লার্ক, মার্টিন, গিলক্রিস্ট, ব্রেট লি, শেন ওয়ার্ন, ম্যাকগিল, গিলেস্পিরা। টেস্টে ক্রমাগত খাবি খেয়ে যাওয়া বাংলাদেশের কোনো সুযোগই দেখা হচ্ছিল না দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে।
তবে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়াকে মাটিতে নামিয়ে আনেন শাহরিয়ার নাফীস। তার ১৩৮ রানের ইনিংসটি এখনো টেস্টে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা। এর সঙ্গে হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহরা ফিফটি করলে বাংলাদেশ দাঁড় করায় ৪২৭ রানের বিশাল স্কোর। তবে মূল চমক অপেক্ষা করছিল বল হাতে।
তারকাবহুল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান মাশরাফি, শাহাদাত, রফিক, এনামুল জুনিয়ররা মিলে। ৯৩ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল সফরকারীরা। অতিরিক্ত রোমাঞ্চেই কিনা, এরপর তাল সামলাতে পারেননি বোলাররা। ১৪৪ রান করে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২৬৯ পর্যন্ত নিয়ে যান এডাম গিলক্রিস্ট।
লিড ছিল ১৫৮ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে মামুলি স্কোর করতে পারলেও ব্যাকফুটে চলে যেত অস্ট্রেলিয়া। তবে আরও একবার নিজেদের খেই হারায় বাংলাদেশ। ১৪৮ রানেই শেষ হয় পথচলা। ৩০৭ রানের টার্গেট তবুও চ্যালেঞ্জিং ছিল।
২২৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে একাই টেনে নেন পন্টিং। ৯৮ রানে শাহাদাতের বলে তিনি ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা ফেলে দেন মাশরাফি। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানের ইনিংসে তিনি মাঠে ছাড়েন ৩ উইকেটের জয়ে।
ঠিক এই কারণেই এবারের টেস্টে দুই দিন শেষে বিশাল লিড নেওয়ার পরও বাংলাদেশই জিততে যাচ্ছে, এটা বলা বেশ কঠিন। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়া এমন একটি দল, যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের আশা ছেড়ে দেয় না। কন্ডিশনও তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে।
ডারউইনের এই উইকেটে ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং করা সহজ হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় দিনে তানজিদ, নাজমুল এবং ৪৭ রানের জুটিতে মিরাজ ও হাসানও সেটাই দেখিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশকে তৃতীয় দিন সকালে ১৭০-১৮০ লিডের মধ্যে আটকে দিতে পারলেও আশা টিকে থাকবে অস্ট্রেলিয়ার।
এরপর এই অস্ট্রেলিয়া দলে কেউ যদি ফতুল্লা টেস্টের গিলক্রিস্ট, পন্টিংদের মত অতিমানবীয় ব্যাটিং করে ফেলেন, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। চতুর্থ ইনিংসে এমনকি ১০০-১২০ রানের টার্গেটও এরপর কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারে বাংলাদেশকে।
প্রথম দুই দিন ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে রাখলেও তাই বাংলাদেশকে তৃতীয় দিনেও খেলতে হবে সেরা ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়াকে সুযোগ দিলে তারা কী করতে পারে, অতীতের সেই ভুল নিশ্চয় করতে চাইবেন না নাজমুল-হাসানরা।