আদিবাসীদের নিয়ে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত ১১ আগস্ট রাজধানী ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমার সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নই।’’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের অতি উচ্চ পর্যায়ের একজন মানুষের নিকট থেকে আমরা আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য আশা করি। আমরা তাকে ২০০৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রদত্ত আদিবাসী দিবসের বাণী পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি। ২০০০ সালে জাতিসংঘ যখন সাধারণ পরিষদের ইকোনমিক ও স্যোশাল কাউন্সিলের অধীনে স্থায়ী ফোরাম গঠন করে এবং ২০০৭ সালে আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে, তখন ‘আদিবাসীর’ কোনো সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। কারণ বিশ্বের আদিবাসীরা তা চাননি।
কারণ আদিবাসী জনগণ বলেছিলেন, আত্ম-পরিচয়ের অধিকার আদিবাসীদের মানবাধিকার। তবে জাতিসংঘের বিভিন্ন দলিল, স্পেশাল রেপোটিয়ার রিপোর্ট, এক্সপার্ট অপিনিয়ন, আইএলও কনভেনশন ১০৭ ও ১৬৯, ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইনডিজিনাস পপুলেশনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানদণ্ড ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আদিবাসীরা অবশ্যই আদিবাসী পরিচয়ের অধিকারী। তাদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি, সামাজিক ঐতিহ্যগত প্রতিষ্ঠান, আবহমান কাল ধরে ভূমির সঙ্গে বন্ধন ও সংলগ্নতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। সবচেয়ে বড় কথা, আদিবাসীরা এইসব বৈশিষ্ট্য প্রজন্মান্তরে বয়ে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতিসংঘ আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র গ্রহণে যে চারটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সেটিও পূর্ণ সত্য নয়। যারা তাকে এই তথ্য সরবরাহ করেছেন, তারা বলেননি যে এই চার রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ২০০৭ সালে সমর্থন না করলেও ২০০৯ ও ২০১০ সালে আদিবাসী ঘোষণাপত্রকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন। বাংলাদেশ কেন ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবস্থান এখনো ধরে রেখেছে, সেটিই বিস্ময়কর। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত- এই বক্তব্যের প্রশংসা করছি। পাশাপাশি আদিবাসী বিষয়ে তার বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মনে প্রত্যাখ্যান করছি।