চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে সাত শ্রমিকের মৃত্যুকে ‘অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দায়ী ইয়ার্ড মালিককে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন।
আজ শুক্রবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মানস নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে শুক্রবার সকালে ফেরদৌস স্টিল নামে একটি কারখানায় জাহাজ ভাঙার কাজ চলাকালে জাহাজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে সাতজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও কয়েকজন জন শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই জাহাজের ভেতরে জমে থাকা তরল বর্জ্য বা বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা না করে শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছিল, যা মালিকপক্ষের স্পষ্ট গাফিলতি।
বিবৃতিতে বলা হয়, অথচ নিয়ম অনুযায়ী, কাটার আগে সম্পূর্ণ গ্যাস ফ্রি বা ওয়াক-ইন সার্টিফিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক। মুনাফার লোভে অধিকাংশ শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়না। ফলে এটা কোনো নিছক দুর্ঘটনা নয়, একটা কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড।
বিবৃততে আরও বলা হয়, এ ছাড়া, বন্ধের দিন শুক্রবার শ্রমিকদের কাজ করানো হচ্ছিল। বছরের পর বছর জাহাজ ভাঙা শিল্পখাতে দুর্ঘটনা এবং শ্রমিকের মৃত্যুর হার ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেলেও এর জন্য দায়ী মালিক বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবারো শ্রমিক মৃত্যুর ঘটন ঘটো।
নেতারা অবিলম্বে শ্রমিক মৃত্যুর জন্য দায়ী ইয়ার্ড মালিক ও অবহেলার সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে শ্রমিকের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।