স্বামী মারা যাওয়ার পর তার জমির মালিকানা পাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না গাইবান্ধার এক নারীর। একদিকে স্বামীর মৃত্যু এবং তার সাথে প্রাপ্য জমির অধিকার হারিয়ে তিনি ও তার মেয়ে পড়ে যান চরম দারিদ্র্যে। বেঁচে থাকার তাগিদে একপর্যায়ে তাদের নিজেদের চুল পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে।
গাইবান্ধার আরেক নারী স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে নিজের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ দাবি করেছিলেন। কিন্তু পরিবার তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেইসময় তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ না থাকায় তাকে একঘরে করে দেওয়া হয়।
এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গ্রামীণ বাংলাদেশের নারীদের জমি ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা দেখিয়েছে, জমি থেকে বঞ্চিত হওয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি নারীর ওপর সহিংসতা, জবরদস্তি ও নির্ভরশীলতার একটি বড় উৎস।
জমি ও সম্পত্তিতে নারীর সীমিত অধিকার তাদের অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল করে তুলছে আর সেই নির্ভরশীলতাই বাড়াচ্ছে পারিবারিক ও ভূমি-সংক্রান্ত সহিংসতার ঝুঁকি।
খাগড়াছড়ি, গাইবান্ধা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জে পরিচালিত গবেষণায় ৪৬৪টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৩২৫ জন নারী ও ১৩৯ জন পুরুষের ওপর জরিপ চালানো হয়। পাশাপাশি ফোকাস গ্রুপ আলোচনা, নিবিড় সাক্ষাৎকার এবং মূখ্য তথ্যদাতাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলোর একটি হলো—জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের মাত্র ২২ শতাংশের নামে এককভাবে অথবা যৌথভাবে জমি নিবন্ধিত রয়েছে। অন্যদিকে, ৫৮ শতাংশ নারী জমি-সংক্রান্ত কাঠামোগত বৈষম্য বা সহিংসতার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
জমি ছাড়তে চাপ, প্রশাসনিক হয়রানি
নারীর জন্য সম্পত্তির অধিকার শুধু মালিকানার কাগজে নাম থাকার বিষয় নয়। সেই অধিকার বাস্তবে ধরে রাখা, জমি ব্যবহার করা কিংবা উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার তথ্য বলছে, এই জায়গাতেও নারীরা নানা ধরনের সামাজিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার মুখে পড়ছেন।
গবেষণায় ৪১ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, জমি ছেড়ে দিতে তাদের ওপর চাপ বা জবরদস্তি করা হয়েছে। ৪২ শতাংশ নারী প্রশাসনিক বা আইনি হয়রানি এবং প্রতারণার শিকার হওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ একজন নারী আইনগতভাবে কোনো সম্পত্তির অধিকারী হলেও, সেই অধিকার বাস্তবে প্রয়োগ করতে গিয়ে পরিবার, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন।
ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধও ব্যাপক। ৬৮ শতাংশ নারী জমির অধিকার নিয়ে বিরোধের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এসব বিরোধে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন ৮৬ শতাংশ নারী। অর্থাৎ ভূমি বিরোধ কেবল জমির মালিকানা নিয়ে একটি আইনি বা পারিবারিক বিরোধ নয়, এর প্রভাব নারীর অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপরও পড়ে। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং ৮৯ শতাংশ মানসিক বা আবেগগত ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। জমির নিয়ন্ত্রণ হারানো অনেক নারীর ক্ষেত্রে আয় বা সম্পদের সুযোগ কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ, হুমকি ও অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক চাপও বাড়ায়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, জমি-সংক্রান্ত সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকা নারীদের ৭৯ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি, ৯৬ শতাংশ মানসিক বা আবেগগত নির্যাতন এবং ৩৮ শতাংশ শারীরিক সহিংসতার কথা জানিয়েছেন। শারীরিক সহিংসতার মধ্যে মারধর, হত্যার হুমকি এবং জোর করে বাড়ি বা জমি থেকে উচ্ছেদের মতো ঘটনাও রয়েছে।
তবে সহিংসতা সবসময় সরাসরি হামলার মাধ্যমে আসে না। অনেক ক্ষেত্রে সালিশ ও স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও নারীর অধিকারকে দুর্বল করার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। গবেষণায় উঠে এসেছে, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো এবং পারিবারিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের কারণে নারীরা অনেক সময় নিজেদের দাবি নিয়ে এগোতে পারেন না। মামলা করা বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের নিরুৎসাহিত করা হয় বা বাধা দেওয়া হয়।
কখনও কখনও বিরোধ মেটানোর নামে নারীদের এমন ‘সমঝোতায়’ যেতে চাপ দেওয়া হয়, যেখানে তাদের প্রাপ্য জমি বা উত্তরাধিকার ছেড়ে দিতে হয়। ফলে বাইরে থেকে বিষয়টি পারিবারিক বিরোধের সমাধান হিসেবে দেখা গেলেও, বাস্তবে তা নারীর আইনগত অধিকার ত্যাগে বাধ্য করার আরেকটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে।
উত্তরাধিকার অধিকার থাকলেও বাস্তবে কতটা?
বাংলাদেশে নারীর সম্পত্তির অধিকার ধর্মভেদে ভিন্ন। মুসলিম নারীদের উত্তরাধিকার আইনগতভাবে স্বীকৃত। তবে একই পর্যায়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে সম্পত্তির অংশ পেলে সাধারণ নিয়মে মেয়ের অংশ ছেলের অর্ধেক। অর্থাৎ একজন কন্যা উত্তরাধিকার থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েন না, কিন্তু একই পরিবারের একই প্রজন্মের পুরুষ উত্তরাধিকারীর সমান অংশও পান না।
হিন্দু নারীদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার কাঠামো আরও জটিল এবং ঐতিহাসিকভাবে অধিক সীমিত। বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার মূলত দায়ভাগ মতবাদের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। এখানে নারীর অধিকার সম্পত্তির ধরন, উত্তরাধিকারীর সম্পর্ক এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে কন্যার উত্তরাধিকার অধিকার ঐতিহাসিকভাবে ছেলের তুলনায় সীমিত ছিল।
তবে ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হিন্দু নারীর সম্পত্তির অধিকার নিয়ে যে রায় দেন তাতে কোনো কন্যা তার মায়ের স্ত্রীধন উত্তরাধিকারসূত্রে পেলে তিনি ছেলের মতোই সেই সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা অর্জন করবেন। এই রায় নারীর সম্পত্তির অধিকারকে কিছু ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
তবে এমন বিচারিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে নারীর উত্তরাধিকার অধিকার এখনো ধর্মভিত্তিক ও খণ্ডিত আইনি কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। ফলে একজন মুসলিম নারী ও একজন হিন্দু নারী একই পরিস্থিতিতে একই ধরনের উত্তরাধিকার অধিকার নাও পেতে পারেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একজন নারী যদি নিজের পরিবারের সম্পত্তিতে পুরুষের সমান অধিকার না পান, তাহলে তার অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি কোথায়?
সংবিধানে সমতা, উত্তরাধিকারে বৈষম্য
বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের সমতার নিশ্চয়তা দেয়। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম ও লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে নারীর পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সেই সমতার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ বাংলাদেশে উত্তরাধিকার এখনো অনেকাংশে ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের অধীনে পরিচালিত। ফলে সংবিধান নারী-পুরুষের সমতার কথা বললেও, সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একজন নারীর অধিকার মূলত তার ধর্ম ও পারিবারিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে।
তবে বৈষম্য শুধু আইনের কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়। আইনে একজন নারীর যে অধিকার স্বীকৃত, তিনি বাস্তবে সেই অধিকার কতটা ভোগ করতে পারছেন সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তরাধিকার পাওয়ার আইনগত সুযোগ থাকলেও অনেক নারী পরিবার ও সমাজের চাপের কারণে নিজেদের প্রাপ্য অংশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কখনো পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়, কখনো ‘ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ না করার’ সামাজিক চাপ, আবার কখনো সালিশ বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ নারীদের নিজেদের অধিকার দাবি করা থেকে পিছিয়ে দেয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রাতিষ্ঠানিক বাধাও। ভূমির রেকর্ডে নারীর নাম না থাকা, নামজারি ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা, পুরুষ-প্রধান ভূমি প্রশাসন এবং কার্যকর ও নারীবান্ধব অভিযোগ ব্যবস্থার অভাব অনেক ক্ষেত্রে নারীর আইনগত অধিকারকে বাস্তব অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাধা দেয়।
ফলে একজন নারী কাগজে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হলেও বাস্তবে সেই সম্পত্তির দখল, ব্যবহার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার হাতে থাকে না। এখানেই সংবিধানের সমতা এবং নারীর বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে বড় ব্যবধানটি স্পষ্ট হয়।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে কারা?
ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধে সব নারী একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন না। নারী হওয়ার সঙ্গে দারিদ্র্য, বিধবা হওয়া,বয়স, বৈবাহিক বিচ্ছেদ, প্রতিবন্ধিতা, জাতিগত পরিচয় বা ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিচয় যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
গবেষণায় দরিদ্র নারী, বিধবা, বয়স্কা নারী, তালাকপ্রাপ্ত বা স্বামী থেকে বিচ্ছেদ হওয়া নারী, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু নারীদের তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ একজন দরিদ্র বিধবা বা আদিবাসী নারীর জন্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া শুধু নারী হিসেবে বৈষম্যের বিষয় নয়। বরং একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা একই সঙ্গে তাদের ওপর কাজ করে।
গবেষণায় আদিবাসী নারীদের জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার সঙ্গে যৌন হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকির অভিযোগও উঠে এসেছে। অর্থাৎ জমি রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কিছু নারী একই সঙ্গে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।
সম্পত্তি না থাকলে নির্যাতন থেকে বের হওয়াও কঠিন
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে সম্পত্তির অধিকারের সম্পর্কটি সবচেয়ে স্পষ্ট হয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে।
একজন নারীর নিজের জমি, বাড়ি, সঞ্চয় বা অন্যান্য সম্পদ না থাকলে নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সন্তান থাকলে বাসস্থান ও জীবিকার নিশ্চয়তা হারানোর ভয় তাঁকে সহিংসতার মধ্যেই আটকে রাখতে পারে।
অর্থাৎ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু নিজের আয় করার সক্ষমতা নয়, সম্পদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণও এর অংশ।
একজন নারী চাকরি করতে পারেন, আয় করতে পারেন, পরিবারের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন কিন্তু তাঁর নামে কোনো সম্পত্তি না থাকলে এবং পারিবারিক সম্পদের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকলে সেই অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কতটা টেকসই?
এই প্রশ্নই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রচলিত আলোচনাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
সহিংসতা প্রতিরোধে সম্পত্তির অধিকারও জরুরি
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সাধারণত হেল্পলাইন, আশ্রয়কেন্দ্র, আইনি সহায়তা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এগুলো প্রয়োজনীয় হলেও গবেষণাটি দেখাচ্ছে, সহিংসতার কাঠামোগত কারণ মোকাবিলা না করলে সমস্যার সমাধান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
কারণ, দৃশ্যমান সহিংসতার পেছনে থাকতে পারে—
- বৈষম্যমূলক উত্তরাধিকার আইন,
- পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক রীতি,
- ভূমির রেকর্ড থেকে নারীর বাদ পড়া,
- অসম দরকষাকষির ক্ষমতা এবং
- অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা।
গবেষণায় নারীর সমান উত্তরাধিকার ও ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করতে আইন ও নীতি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমি নিবন্ধন ও নামজারিতে নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা, বিবাহিত দম্পতির কার্যকর যৌথ মালিকানা নিশ্চিত করা, ভূমিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের খাসজমি বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নারীবান্ধব ভূমি অধিকার সহায়তা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত জমির নয়, ক্ষমতার
নারীর উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা শুধু বাবা বা স্বামীর মৃত্যুর পর কে কতটুকু জমি পাবেন এমন হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
এটি নির্ধারণ করে একজন নারী নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত কতটা স্বাধীনভাবে নিতে পারবেন, নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন কি না, সন্তানকে নিরাপদ রাখতে পারবেন কি না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো অর্থনৈতিক শক্তি তাঁর থাকবে কি না।
নারীকে ক্ষমতায়নের কথা বলা হবে, অথচ তার নিজের সম্পত্তির ওপর সমান অধিকার থাকবে না - এই বৈপরীত্য আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ সম্পত্তির মালিকানা ছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীর লড়াইটিও থেকে যায় অসম শক্তির লড়াই।
বাংলাদেশে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন চাইলে তাই প্রশ্নটি শুধু হতে পারে না - নারীরা কত আয় করছেন?
প্রশ্নটি হতে হবে - তাদের নামে কী আছে, তারা কী নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রয়োজনের সময় তাঁদের নিজের বলে ফিরে যাওয়ার মতো সম্পদ কতটুকু আছে?
লেখক: তিথি মণ্ডল
(লেখাটি রোকেয়া কালেকটিভের সৌজন্যে প্রকাশিত হলো)