Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৪৮
নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি, হতাশা এবং ভোটদানে অনাগ্রহ। ডেমোক্র্যাটরা যদি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পায়, তার পেছনে রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশের ডেমোক্র্যাট শিবিরে চলে যাওয়ার চেয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়াই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Advertisement

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক সাবরিনা ট্যাভারনিজের প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক চার্লি কুকের ব্যবহৃত ‘রেড আন্ডারটো’ বা ‘লাল অন্তঃস্রোত’ ধারণার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ বাইরে থেকে মনে হতে পারে ডেমোক্র্যাটদের দিকে নীল ঢেউ এগিয়ে আসছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই ঢেউয়ের শক্তির একটি বড় অংশ আসতে পারে ট্রাম্পের প্রতি হতাশ রিপাবলিকান ভোটারদের নিষ্ক্রিয়তা থেকে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে উৎসাহের ঘাটতি। ট্যাভারনিজ পশ্চিম মিশিগানের প্রায় ৩ ডজন মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র তুলে ধরেছেন, তাতে রাজনৈতিক উত্তেজনার বদলে ক্লান্তি এবং দৈনন্দিন জীবনের চাপ বেশি স্পষ্ট। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ-পশ্চিম মিশিগানের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক প্রার্থীদের পোস্টারের চেয়ে ব্লুবেরি ও ডিমের বিজ্ঞাপন বেশি চোখে পড়ছে। রিপাবলিকানদের দরজায় দরজায় গিয়ে প্রচারের জন্য স্বেচ্ছাসেবকও যথেষ্ট পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ভোটার নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এই চিত্রটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক ও ভোটারদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কোনো দল ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়লে, সেই দুর্বলতা নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

মিশিগানের রক্ষণশীল খ্রিস্টান নারী লিন্ডসে ক্রোনেমায়ারের বক্তব্য এই পরিবর্তনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ। তিনি আগে ট্রাম্পের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। এমনকি ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে তার পক্ষে দরজায় দরজায় প্রচারও করেছেন। ২০২২ সালে তিনি নিজেও স্টেটহাউসের একটি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অথচ ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তিনি স্বীকার করছেন যে, নিজের এলাকার নির্বাচন নিয়েও খুব বেশি খোঁজ রাখছেন না।

আবারও যুদ্ধের পাঁয়তারা ট্রাম্পের?trump 2

তার ভাষায়, মানুষ এখন দৈনন্দিন জীবন নিয়েই বেশি ব্যস্ত। একসময় ‘ট্রাম্প, ট্রাম্প’ রব তুলে যে রাজনৈতিক কথাবার্তা চলত, সেটি আর তার মাথায় নেই। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অ্যালেগান কাউন্টিতেও তিনি আগের মতো নির্বাচনী পোস্টার দেখতে পাচ্ছেন না। এই পরিবর্তন শুধু একজন ভোটারের ব্যক্তিগত মনোভাব নয়; প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রে এটি রিপাবলিকান রাজনৈতিক শক্তির মাঠপর্যায়ের ক্লান্তির একটি প্রতীক।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই হতাশা কেবল সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। রিপাবলিকান দলের স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

কেন্ট কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডগ কুপম্যান বলেন, “মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানোর স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রচারের জন্য বিতরণ করার ব্রোশিওর দলীয় কার্যালয়ে পড়ে আছে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত কর্মী নেই।” তিনি সরাসরি বলেছেন, রিপাবলিকান শিবিরে ‘খুব কম শক্তি’ রয়েছে। রাজনৈতিক দলের জন্য এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, কারণ নির্বাচনী রাজনীতিতে শুধু ভোটারের সমর্থন যথেষ্ট নয়; সেই সমর্থনকে ভোটে রূপান্তর করার জন্য মাঠপর্যায়ের সংগঠনও প্রয়োজন।

ট্রাম্পের প্রতি এই ক্লান্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু রিপাবলিকান ভোটারের বিভ্রান্তি। ৮০ বছর বয়সী জিম পাসেক এমন একজন ভোটার, যিনি ট্রাম্পকে দুবার ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি বলছেন, “ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড তার কাছে অর্থবোধক মনে হচ্ছে না এবং এতে তিনি বিরক্ত হয়ে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। বিশেষ করে যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্য নিয়ে তার হতাশা স্পষ্ট।”

পাসেকের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প যুদ্ধ করবেন না বললেও যুদ্ধ শুরু করেছেন এবং এর ফলে গ্যাসের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর চেয়ে বলরুম ও স্থাপত্য নিয়ে বেশি কথা বলছেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একটি বৃহত্তর সমস্যা সামনে আসে- রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘোষিত অগ্রাধিকার এবং ভোটারের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে দূরত্ব।

জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পাসেক তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে গ্যাসের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন তরুণী নাতনির কথা বলেছেন, যিনি কলেজ থেকে স্নাতক হয়েও একটি পূর্ণকালীন ও দুটি খণ্ডকালীন চাকরি করছেন। কিন্তু তিনি নিজের সামর্থ্যের মধ্যে একটি বাড়ি খুঁজে পাচ্ছেন না। এই অভিজ্ঞতাগুলো দেখায় যে ভোটারের রাজনৈতিক মনোভাব শুধু জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্ক দ্বারা নির্ধারিত হচ্ছে না; বরং গ্যাস, খাবার, বাড়ি ও কাজের মতো সরাসরি জীবনের প্রশ্নগুলো ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন থাকলেও যখন একজন ভোটার মনে করেন তার নিজের জীবনযাত্রার বাস্তব সমস্যা সমাধান হচ্ছে না, তখন রাজনৈতিক উৎসাহ কমে যেতে পারে। প্রতিবেদনের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেই প্রবণতাই ফুটে উঠেছে।

গণমাধ্যমে বয়কটের মুখে হোয়াইট হাউসে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালুট্রাম্প টিভি

তবে এই চিত্রকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার সম্পূর্ণ পতন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্যাভারনিজ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জরিপ সব সময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে এবং রাজনৈতিক মেজাজ দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকেরা জরিপে অংশ না নেওয়ার প্রবণতা দেখাতে পারেন, ফলে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি অতিরিক্ত বলে মনে হতে পারে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, হতাশ রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ আবারও ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারেন। প্রতিবেদনে এমন ভোটারের উদাহরণও রয়েছে।

জেফ গিলবার্ট, যিনি পাসেকের বন্ধু, এখনো ট্রাম্পের প্রতি তার সমর্থন অটল। অর্থাৎ রিপাবলিকান শিবিরে ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব সর্বজনীন হয়ে যায়নি। বরং দলের মধ্যে একদিকে কঠোর ট্রাম্প সমর্থকরা রয়েছেন, অন্যদিকে এমন মধ্যপন্থী বা ক্লান্ত ভোটার রয়েছেন যারা ট্রাম্পকে পুরোপুরি সমর্থন করছেন না, কিন্তু ডেমোক্র্যাটদেরও ভোট দিতে প্রস্তুত নন।

এই বিভাজনের গুরুত্ব বোঝা যায় নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জাতীয় জরিপের সংখ্যাতেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের ওই জরিপে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৬১ শতাংশ ভোটার বলেছেন যে তারা ভোট দেওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত, যেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৫৬ শতাংশ। নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে জাতীয়ভাবে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে সাত শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল। কিন্তু সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে ৯ শতাংশ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এই ব্যবধান বিশাল না হলেও কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনগুলোতে এর গুরুত্ব অনেক বেশি হতে পারে। কারণ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে শুধু কোন দলের প্রতি সমর্থন বেশি তা নয়, কে বাস্তবে ভোট দিতে যাচ্ছে- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মিশিগানের পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তন এই বৃহত্তর প্রবণতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একসময় এই অঞ্চলে রিপাবলিকান রাজনীতি ছিল তুলনামূলকভাবে সংযত, খ্রিস্টীয় মূল্যবোধনির্ভর এবং প্রচলিত রক্ষণশীলতার সঙ্গে যুক্ত। ট্রাম্পের উত্থানের পর সেখানে মাগার (মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) শক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

কোভিডের পর অটোয়া কাউন্টিতে ট্রাম্পপন্থী শক্তি কাউন্টি কমিশনের ১১টি আসনের মধ্যে আটটি দখল করে। এমনকি তারা রাজ্য রিপাবলিকান পার্টির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অটোয়া কাউন্টিতে মাগা শিবিরের আসন কমে তিনটিতে নেমে এসেছে। বেরিয়েন ও কেন্ট কাউন্টিতেও তারা বিভিন্ন পদ হারিয়েছে। অর্থাৎ একসময় যে ট্রাম্পপন্থী শক্তি স্থানীয় রিপাবলিকান রাজনীতিকে দ্রুত বদলে দিয়েছিল, তার প্রভাব এখন কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের আরেকটি দিক হলো রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক রিপাবলিকান নেতা ও কর্মী মাগা-সমর্থক এবং ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকানদের মধ্যকার সংঘাতে ক্লান্ত। বব হ্যারিসন নামের ৭৬ বছর বয়সী একজন রিপাবলিকান কাউন্টি কমিশনার নিজে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বক্তব্য অনুযায়ী, কট্টর ট্রাম্প সমর্থকরা স্থানীয় রাজনীতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যেখানে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দলীয় সিদ্ধান্তে ভোট দেওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি ও অন্য স্থানীয় কর্মকর্তারা বেরিয়েন কাউন্টি রিপাবলিকান পার্টি থেকে সরে গিয়ে নিজেদের প্রার্থীদের জন্য আলাদাভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। অর্থাৎ ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিভাজন স্থানীয় রিপাবলিকান সংগঠনেও সংঘাত তৈরি করছে।

হ্যারিসনের বক্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের পরিবর্তনের কথা বলছেন না; বরং বলছেন, ট্রাম্প হারিয়েছেন তার মতো মধ্যপন্থী সমর্থকদের। তার ভাষায়, এরা এমন মানুষ যারা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রয়োজনে ভোট ভাগ করে দিতে পারে। এই শ্রেণির ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আকৃষ্ট না হলেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এখানেই ‘রেড আন্ডারটো’ ধারণাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য। এটি মূলত ভোট পরিবর্তনের নয়, ভোটদানের আচরণ পরিবর্তনের বিষয়। একজন রিপাবলিকান ভোটার ডেমোক্র্যাটকে সমর্থন না করেও রিপাবলিকান প্রার্থীর ক্ষতি করতে পারেন- যদি তিনি ভোটকেন্দ্রে না যান।

তরুণ ভোটারদের মধ্যেও একই ধরনের অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সেবাস্টিয়ান কোভি ২০২৪ সালে প্রথমবার ভোট দিয়েছিলেন এবং ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উপস্থিতি তাকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে তার মনোযোগ অন্যদিকে। কাজের জায়গা থেকে দূরে বসবাস করতে হচ্ছে কারণ ভাড়া কম; গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের যাতায়াত কঠিন হয়ে উঠেছে; কাছাকাছি সাশ্রয়ী বাসা খুঁজে পাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তিনি আদৌ নভেম্বরে ভোট দেবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নন। এই বক্তব্য দেখায়, রাজনৈতিক অনাগ্রহ সব সময় মতাদর্শগত বিরোধিতা থেকে আসে না; কখনো কখনো অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততাও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে পেছনে ঠেলে দেয়।

একই সঙ্গে প্রতিবেদনে এমন একজন ভোটারের কথাও এসেছে, যিনি কোনোভাবেই ডেমোক্র্যাটকে ভোট দিতে চান না। ওয়ারেন স্টুয়ার্ট ট্রাম্পের প্রতি তার আগের সমর্থন পুরোপুরি প্রত্যাহার করেননি, কিন্তু এখন তার মনে প্রশ্ন জেগেছে- ট্রাম্প সত্যিই জানেন কি, তিনি কী করছেন? স্টুয়ার্ট বলেছেন, তিনি কোনো ডেমোক্র্যাটকে ভোট দেবেন না, কারণ অনলাইনে উদারপন্থীদের আক্রমণের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তার আছে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকানদের ভোট দেবেন কি না, সেটিও নিশ্চিত নন। এই দ্বিধাই ‘রেড আন্ডারটো’-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে। একজন ভোটার ডেমোক্র্যাটবিরোধী হয়েও রিপাবলিকান প্রার্থীর জন্য সক্রিয় ভোটার নাও হতে পারেন।

সবশেষে অর্থনৈতিক বাস্তবতাই সম্ভবত এই রাজনৈতিক ক্লান্তির সবচেয়ে শক্তিশালী পটভূমি। স্টুয়ার্টের বক্তব্যে খাবারের দাম ও গ্যাসের মূল্য নিয়ে যে ক্ষোভ ফুটে উঠেছে, তা দেখায় ভোটাররা জাতীয় রাজনীতিকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বিচার করছেন। তিনি বলেছেন, “৩০ ডলারের পণ্যের জন্য ৬০ ডলার খরচ করার পর আবার গ্যালনে ৫ ডলার দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। তার কাছে মনে হচ্ছে যেন সাধারণ মানুষকে সীমার মধ্যে কতটা চাপ দেওয়া যায়, সেটিই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তির জন্য সমস্যা শুধু জনপ্রিয়তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ভোটারদের নির্বাচনী অংশগ্রহণেও প্রভাব ফেলতে পারে।”

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রডেমোক্র্যাটডোনাল্ড ট্রাম্পনিউইয়র্করিপাবলিকানরাজনীতি
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

  • ২

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

  • ৩

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

  • ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

  • ৫

    ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কীভাবে আরও স্পষ্ট হচ্ছে?

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কীভাবে আরও স্পষ্ট হচ্ছে?

    পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীই প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে এসেছে। মুনিরকে তার পূর্বসূরিদের যেকোনো ব্যক্তির তুলনায় দেশের অভ্যন্তরে অধিক ক্ষমতাধর বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হয়।