চরচা ডেস্ক

চলতি মাসেরই এক দিনের কথা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী চড়লেন মেট্রো রেলে, মধ্য ভারতের এক হাইকোর্ট বিচারপতি সাইকেল চালিয়ে অফিসে গেলেন। কাশ্মীরের এক নেতাকে দেখা গেল ঘোড়ার গাড়িতে, আর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তো পুরো ৫০০ মিটার পথ হেঁটেই অফিসে চলে গেলেন! তবে সবচেয়ে বড় ‘ত্যাগ’টি করলেন ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী—তিনি বিমানে সাধারণ বা ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করলেন।
ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খরচ কমানোর ডাকে সাড়া দিয়েই রাজ্যের নেতারা এমন কৃচ্ছ্রসাধন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে ভারত এবং রুপির মান অনেকটাই কমে গেছে। অথচ জরুরি কোনো পদক্ষেপ নিতে বা তেলের দাম সামান্য বাড়াতেও ভারত সরকার পুরো দুই মাস সময় নষ্ট করেছে। তার বদলে, গত ১০ মে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সাহায্য করার জন্য ৭টি উপায় বাতলে দেন। সেগুলো হলো—বাড়ি থেকে কাজ করা, কম জ্বালানি ব্যবহার করা, বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো, দেশি পণ্য কেনা, সোনা কেনা আপাতত বন্ধ রাখা, ভোজ্যতেল কম খাওয়া এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার না করা। এই সবকিছুর পেছনে মূল উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই—দেশের মূল্যবান ডলার বাঁচানো।
অর্থনীতির নামে রাজনীতি?
অর্থনীতির হিসেবে এটি মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়। এর চেয়ে দরিদ্রদের সরাসরি আর্থিক সাহায্য করে বাজারের ওপর দামের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। তবে রাজনীতির দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি ক্ষতিকর। সোনা কেনা (যা সব ভারতীয়ই কম-বেশি করেন) আর রাসায়নিক সার বাদ দেওয়া (যা কেবল জৈব চাষিরা করেন)—এই দুটি বিষয় বাদে প্রধানমন্ত্রীর পুরো বার্তাটিই ছিল মূলত ভারতের উচ্চবিত্তদের উদ্দেশ্যে। বিদেশ ভ্রমণ কিংবা বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর সামর্থ্যও কেবল তাদেরই আছে। এরা সবাই দেশপ্রেমিক এবং মোদি সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও এখন ভীষণ বিরক্ত।
তবে এই ‘উচ্চবিত্ত’ বা ‘এলিট’ শব্দটি কিন্তু একটু বিভ্রান্তিকর। এটি সমাজের একটা বিশাল অংশকে বোঝায়—যার মধ্যে মুম্বাইয়ের বিপণন কর্মী, দিল্লির সরকারি চাকুরিজীবী, কলকাতার ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুর আইটি কর্মীরাও আছেন। এদের অনেকেই নিজেদের মধ্যবিত্ত মনে করেন। দেশের ধনকুবেরদের পাশাপাশি এরাই হলেন সেই ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ, যারা ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী সরকারকে ব্যক্তিগত আয়কর দিয়েছেন। এটি দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ, মোট কর্মক্ষম মানুষের ৫ শতাংশ আর দেশের মোট পরিবারের ১০ শতাংশ। যেভাবেই হিসাব করা হোক না কেন, এটি যে সমাজের অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ, তা স্পষ্ট।

ভারী অঙ্কের ট্যাক্স বা অর্থ খরচ করে এই মানুষগুলো আসলে রাষ্ট্র থেকে কী পাচ্ছে? ভালো চিকিৎসা বা শিক্ষা তো নয়ই। এই শ্রেণির কেউ তাদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠানোর কথা স্বপ্নেও ভাববেন না (এমনকি তাদের বাড়ির রাঁধুনি বা গাড়িচালকেরাও নয়)। ভালো গণপরিবহনও তারা পান না—যেটা ব্যবহার করার জন্য মোদি মশাই বেশ হালকাভাবেই পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো একটু পরিষ্কার বাতাসও তারা পাচ্ছেন না।
এর বিপরীতে তারা দেখছেন, কীভাবে প্রতিটা নির্বাচনের মৌসুমে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট কেনার জন্য সাধারণ মানুষের পেছনে দেদারসে সরকারি অর্থ ওড়াচ্ছে, যা এখন সব দলের একটা অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চবিত্তরা এত সব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করে আসছিল একটা অলিখিত চুক্তির ওপর ভরসা করে—তাহলো, এর বিনিময়ে সরকার দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেবে, এনে দেবে জাতীয় গৌরব আর আন্তর্জাতিক সম্মান।
‘আচ্ছে দিন’-এর মোহভঙ্গ
এই মানুষেরাই নরেন্দ্র মোদির ‘আচ্ছে দিন’ বা ভালো দিনের প্রতিশ্রুতি দেখে তাকে ভোট দিয়েছিলেন। একটা সময় ছিল যখন বিদেশি মুদ্রা বলতেই মানুষ বুঝত এমন কিছু যা সহজে পাওয়া যায় না। একসময় শুল্কমুক্ত দোকান থেকে কেনা এক প্যাকেট টোবলারোন চকলেট থাকাও ছিল আভিজাত্যের ব্যাপার। একটা গাড়ি বা স্কুটার কিনতে গেলেও মাসের পর মাস লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো। মোদি সরকারের মূল লক্ষ্যই ছিল সেই পুরোনো দিনগুলোকে পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সবাইকে মনে করিয়ে দিল যে, পুরোনো সেই অতীত আসলে কখনোই মুছে যায় না।
আজকের দিনের উচ্চবিত্তদের পছন্দ ও রুচি এখন অনেক বদলে গেছে। কিন্তু তাদের সেইসব ইচ্ছা পূরণ করা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। উচ্চ ডিগ্রি থাকার পরও যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব অনেক বেশি। এর ওপর আইটি খাতে এআই পুরোপুরি চলে এলে চাকরি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। সামনে যখন তেলের দাম আসল জায়গায় গিয়ে ঠেকবে, তখন এই খরচ আরও বাড়বে। আর এখন তো এই ধনী সমাজকে সেইসব জিনিসই ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, যা দেওয়ার কথা বলেই ‘নতুন ভারত’ তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।
নরেন্দ্র মোদি নিজেকে শুধু দেশের নেতাই ভাবেন না, বরং দেশের একজন অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। ২০১৫ সালেও তিনি ধনী মানুষদের রান্নার গ্যাসের সরকারি ভর্তুকি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে বলেছিলেন, যাতে গরিবেরা সেই সুবিধা পায়। প্রথম বছরেই প্রায় ১ কোটি মানুষ বেশ উৎসাহ নিয়ে তাঁর সেই কথায় সাড়াও দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের রাজস্ব ঘাটতি বা লোকসান মেটাতে সাহায্য করা এই উচ্চবিত্তদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই অনুরোধের ঠিক কয়েকদিন পরেই সিএনবিসি-টিভি১৮ নামের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সরকার নাকি বিদেশ ভ্রমণের ওপর বাড়তি ট্যাক্স বা কর বসানোর কথা ভাবছে। এই খবর ছড়াতেই চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। জবাব দিতে সরকারেরও মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পাঁচটি দেশ সফরের প্রথম দেশ আবুধাবিতে বসেই মোদি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন: “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।”
ঠিক এভাবেই, তেলের দাম বাড়ানোর কয়েক সপ্তাহ আগেও সরকার বেশ কড়া গলায় মূল্যবৃদ্ধির খবর অস্বীকার করেছিল। কিন্তু উচ্চবিত্তরা এত বোকা নন। তারা ভালো করেই জানেন যে তাদের ভোটে সরকারের কিছু আসে যায় না, কিন্তু তাদের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় ঠিকই আসে যায়। আর তাই, দেশের জন্য নিজের পকেটের টাকা বা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দেওয়ার মুডে তারা এখন আর নেই।

চলতি মাসেরই এক দিনের কথা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী চড়লেন মেট্রো রেলে, মধ্য ভারতের এক হাইকোর্ট বিচারপতি সাইকেল চালিয়ে অফিসে গেলেন। কাশ্মীরের এক নেতাকে দেখা গেল ঘোড়ার গাড়িতে, আর বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তো পুরো ৫০০ মিটার পথ হেঁটেই অফিসে চলে গেলেন! তবে সবচেয়ে বড় ‘ত্যাগ’টি করলেন ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী—তিনি বিমানে সাধারণ বা ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করলেন।
ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির খরচ কমানোর ডাকে সাড়া দিয়েই রাজ্যের নেতারা এমন কৃচ্ছ্রসাধন করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে ভারত এবং রুপির মান অনেকটাই কমে গেছে। অথচ জরুরি কোনো পদক্ষেপ নিতে বা তেলের দাম সামান্য বাড়াতেও ভারত সরকার পুরো দুই মাস সময় নষ্ট করেছে। তার বদলে, গত ১০ মে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সাহায্য করার জন্য ৭টি উপায় বাতলে দেন। সেগুলো হলো—বাড়ি থেকে কাজ করা, কম জ্বালানি ব্যবহার করা, বিদেশ ভ্রমণ এড়ানো, দেশি পণ্য কেনা, সোনা কেনা আপাতত বন্ধ রাখা, ভোজ্যতেল কম খাওয়া এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার না করা। এই সবকিছুর পেছনে মূল উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই—দেশের মূল্যবান ডলার বাঁচানো।
অর্থনীতির নামে রাজনীতি?
অর্থনীতির হিসেবে এটি মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়। এর চেয়ে দরিদ্রদের সরাসরি আর্থিক সাহায্য করে বাজারের ওপর দামের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো। তবে রাজনীতির দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি ক্ষতিকর। সোনা কেনা (যা সব ভারতীয়ই কম-বেশি করেন) আর রাসায়নিক সার বাদ দেওয়া (যা কেবল জৈব চাষিরা করেন)—এই দুটি বিষয় বাদে প্রধানমন্ত্রীর পুরো বার্তাটিই ছিল মূলত ভারতের উচ্চবিত্তদের উদ্দেশ্যে। বিদেশ ভ্রমণ কিংবা বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর সামর্থ্যও কেবল তাদেরই আছে। এরা সবাই দেশপ্রেমিক এবং মোদি সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও এখন ভীষণ বিরক্ত।
তবে এই ‘উচ্চবিত্ত’ বা ‘এলিট’ শব্দটি কিন্তু একটু বিভ্রান্তিকর। এটি সমাজের একটা বিশাল অংশকে বোঝায়—যার মধ্যে মুম্বাইয়ের বিপণন কর্মী, দিল্লির সরকারি চাকুরিজীবী, কলকাতার ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুর আইটি কর্মীরাও আছেন। এদের অনেকেই নিজেদের মধ্যবিত্ত মনে করেন। দেশের ধনকুবেরদের পাশাপাশি এরাই হলেন সেই ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ, যারা ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী সরকারকে ব্যক্তিগত আয়কর দিয়েছেন। এটি দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ, মোট কর্মক্ষম মানুষের ৫ শতাংশ আর দেশের মোট পরিবারের ১০ শতাংশ। যেভাবেই হিসাব করা হোক না কেন, এটি যে সমাজের অতি ক্ষুদ্র একটা অংশ, তা স্পষ্ট।

ভারী অঙ্কের ট্যাক্স বা অর্থ খরচ করে এই মানুষগুলো আসলে রাষ্ট্র থেকে কী পাচ্ছে? ভালো চিকিৎসা বা শিক্ষা তো নয়ই। এই শ্রেণির কেউ তাদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পাঠানোর কথা স্বপ্নেও ভাববেন না (এমনকি তাদের বাড়ির রাঁধুনি বা গাড়িচালকেরাও নয়)। ভালো গণপরিবহনও তারা পান না—যেটা ব্যবহার করার জন্য মোদি মশাই বেশ হালকাভাবেই পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো একটু পরিষ্কার বাতাসও তারা পাচ্ছেন না।
এর বিপরীতে তারা দেখছেন, কীভাবে প্রতিটা নির্বাচনের মৌসুমে রাজনৈতিক দলগুলো ভোট কেনার জন্য সাধারণ মানুষের পেছনে দেদারসে সরকারি অর্থ ওড়াচ্ছে, যা এখন সব দলের একটা অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চবিত্তরা এত সব অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করে আসছিল একটা অলিখিত চুক্তির ওপর ভরসা করে—তাহলো, এর বিনিময়ে সরকার দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেবে, এনে দেবে জাতীয় গৌরব আর আন্তর্জাতিক সম্মান।
‘আচ্ছে দিন’-এর মোহভঙ্গ
এই মানুষেরাই নরেন্দ্র মোদির ‘আচ্ছে দিন’ বা ভালো দিনের প্রতিশ্রুতি দেখে তাকে ভোট দিয়েছিলেন। একটা সময় ছিল যখন বিদেশি মুদ্রা বলতেই মানুষ বুঝত এমন কিছু যা সহজে পাওয়া যায় না। একসময় শুল্কমুক্ত দোকান থেকে কেনা এক প্যাকেট টোবলারোন চকলেট থাকাও ছিল আভিজাত্যের ব্যাপার। একটা গাড়ি বা স্কুটার কিনতে গেলেও মাসের পর মাস লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো। মোদি সরকারের মূল লক্ষ্যই ছিল সেই পুরোনো দিনগুলোকে পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সবাইকে মনে করিয়ে দিল যে, পুরোনো সেই অতীত আসলে কখনোই মুছে যায় না।
আজকের দিনের উচ্চবিত্তদের পছন্দ ও রুচি এখন অনেক বদলে গেছে। কিন্তু তাদের সেইসব ইচ্ছা পূরণ করা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। উচ্চ ডিগ্রি থাকার পরও যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব অনেক বেশি। এর ওপর আইটি খাতে এআই পুরোপুরি চলে এলে চাকরি পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বাজারে সব জিনিসের দাম বাড়ছে। সামনে যখন তেলের দাম আসল জায়গায় গিয়ে ঠেকবে, তখন এই খরচ আরও বাড়বে। আর এখন তো এই ধনী সমাজকে সেইসব জিনিসই ত্যাগ করতে বলা হচ্ছে, যা দেওয়ার কথা বলেই ‘নতুন ভারত’ তৈরির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।
নরেন্দ্র মোদি নিজেকে শুধু দেশের নেতাই ভাবেন না, বরং দেশের একজন অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরতে ভালোবাসেন। ২০১৫ সালেও তিনি ধনী মানুষদের রান্নার গ্যাসের সরকারি ভর্তুকি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে বলেছিলেন, যাতে গরিবেরা সেই সুবিধা পায়। প্রথম বছরেই প্রায় ১ কোটি মানুষ বেশ উৎসাহ নিয়ে তাঁর সেই কথায় সাড়াও দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের রাজস্ব ঘাটতি বা লোকসান মেটাতে সাহায্য করা এই উচ্চবিত্তদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই অনুরোধের ঠিক কয়েকদিন পরেই সিএনবিসি-টিভি১৮ নামের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, সরকার নাকি বিদেশ ভ্রমণের ওপর বাড়তি ট্যাক্স বা কর বসানোর কথা ভাবছে। এই খবর ছড়াতেই চারদিকে শোরগোল পড়ে যায়। জবাব দিতে সরকারেরও মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। পাঁচটি দেশ সফরের প্রথম দেশ আবুধাবিতে বসেই মোদি এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন: “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।”
ঠিক এভাবেই, তেলের দাম বাড়ানোর কয়েক সপ্তাহ আগেও সরকার বেশ কড়া গলায় মূল্যবৃদ্ধির খবর অস্বীকার করেছিল। কিন্তু উচ্চবিত্তরা এত বোকা নন। তারা ভালো করেই জানেন যে তাদের ভোটে সরকারের কিছু আসে যায় না, কিন্তু তাদের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় ঠিকই আসে যায়। আর তাই, দেশের জন্য নিজের পকেটের টাকা বা ব্যক্তিগত সুখ বিসর্জন দেওয়ার মুডে তারা এখন আর নেই।