নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্য
চরচা ডেস্ক

নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড ১২ এপ্রিল ২০২৬–এ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন, তখনই তারা সেই সিদ্ধান্তকে বেপরোয়া বলে আখ্যা দিয়েছিল। কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়ে, বেশির ভাগ মিত্রদেশের সমর্থন ছাড়া এবং আমেরিকান জনগণের কাছে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী যুক্তি উপস্থাপন করে এই যুদ্ধে নামা হয়। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছিল সম্পাদকীয় বোর্ড। আর তা হলো–ইরাক, আফগানিস্তানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বোধ প্রচেষ্টা যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে, ইরানে সেই একই পথ কেন ভিন্ন ফলাফল দেবে?
সম্পাদকীয় বোর্ড মনে করে, পরবর্তী ছয় সপ্তাহে এই বেপরোয়া মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যত্নশীল সামরিক পরিকল্পনাকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প তার প্রবৃত্তি ও কামনার ওপর ভর করে এগিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন, এই আক্রমণ ইরানে জনগণের বিদ্রোহ উসকে দেবে। কিন্তু সিআইএ পরিচালক এই ধারণাকে হাস্যকর বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন–যা নিউইয়র্ক টাইমসই রিপোর্ট করেছে। তারপরও ট্রাম্প এগিয়ে যান।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তেলের মূল্য আকাশচুম্বী করতে পারে–এই সুস্পষ্ট পাল্টা পদক্ষেপের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনাই করেননি। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পুনর্নির্মাণে ব্যবহারযোগ্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ রাখার কার্যকর কৌশলও তার ছিল না। শেষ পর্যন্ত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানি সভ্যতা মুছে দেওয়ার অবৈধ ও অনৈতিক হুমকি থেকে একটি শেষ মুহূর্তের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছান–যে যুদ্ধবিরতি তার ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্যের কোনোটিই পূরণ করেনি।
নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে চারটি বড় আঘাত চিহ্নিত করেছে, যা সরাসরি ট্রাম্পের বেপরোয়া নীতির ফলাফল। প্রথম ও সবচেয়ে বাস্তব ক্ষতি হলো হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরানের দক্ষিণ উপকূলের পাশেই অবস্থিত।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরানের নেতারা জানতেন যে, প্রণালি অবরোধ করলে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক আক্রমণ ডেকে আনবে। কিন্তু যখন আক্রমণ এমনিতেই হয়ে গেল, ইরান প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিল–শুধু নিজেদের জাহাজ রেখে। এই কৌশল ব্যয়সাপেক্ষ নয়, কারণ এটি মূলত একটি হুমকিমাত্র। যেকোনো ট্যাংকার ড্রোন, মিসাইল বা ছোট নৌকার আঘাতে ধ্বংস হতে পারে। বিপরীতে প্রণালি জোর করে পুনরায় খুলতে হলে বিশাল সামরিক অভিযান লাগবে, সম্ভবত স্থল সেনা এবং দীর্ঘমেয়াদী দখলদারিত্বসহ।
সম্পাদকীয় বোর্ড সরাসরি বলেছে, হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দূরদর্শিতার অভাব ভয়াবহ অদক্ষতার প্রমাণ। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পূর্বের অবস্থা ফেরায়নি। কারণ ইরান এখনও চলাচল সীমিত রেখেছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে কর আরোপের হুমকি দিয়েছে। এই যুদ্ধ ইরানের নেতাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, জলপথ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবে সম্ভব। বিকল্প পাইপলাইন একদিন তৈরি হতে পারে, কিন্তু তাতে সময় লাগবে। আপাতত ইরান এমন কূটনৈতিক সুবিধা অর্জন করেছে, যা ছয় সপ্তাহ আগে স্বপ্নেও ভাবা যেত না।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ডের মতে, দ্বিতীয় বড় ক্ষতি হয়েছে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সামরিক মর্যাদায়। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন, ইসরায়েল ও অন্যান্য মিত্রদের সহায়তার ফলে টোমাহক মিসাইল ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো অনেক অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শুধু ইরান যুদ্ধেই পেন্টাগন তার টোমাহক মিসাইলের মজুতের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এই মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বছরের পর বছর লাগবে। ততদিন কোথায় কোথায় সামরিক শক্তি বজায় রাখা হবে–সে বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইতিমধ্যে পেন্টাগন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে।

সম্পাদকীয়তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন ধরনের যুদ্ধের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ। আমেরিকা কোটি কোটি ডলারের হাইটেক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ইরানের ঐতিহ্যবাহী বায়ু ও নৌসেনা ধ্বংস করেছে, অথচ তেহরান সস্তা ও ব্যবহার-পরবর্তী ফেলে দেওয়া যায়–এমন ড্রোন দিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। সম্পাদকীয় বোর্ডের ভাষায়, বিশ্ব দেখল কীভাবে আমেরিকার সামরিক ব্যয়ের মাত্র একশত ভাগের এক ভাগ খরচ করা একটি দেশ সংঘর্ষে আমেরিকার চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারে।
তৃতীয় বড় ক্ষতির বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড লিখেছে, এই যুদ্ধে আমেরিকার মিত্রজোটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ এই যুদ্ধে সমর্থন দেয়নি। ট্রাম্প যেভাবে তাদের সাথে আচরণ করেছেন, তা দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে সাহায্য চাইলেন ট্রাম্প, বেশির ভাগ মিত্র প্রত্যাখ্যান করল। এই দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে মিত্র থাকবে, কিন্তু তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমেরিকাকে আর বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করে না।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ড্যানিয়েল বাইম্যান বুধবার লিখেছেন, ইরান যুদ্ধ থেকে আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সম্ভবত বিশ্বজুড়ে মিত্র দেশগুলোর সাথে সম্পর্কে। এই দেশগুলো এখন পরস্পরের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আরও ভালোভাবে দাঁড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল বলে সম্পাদকীয় বোর্ড স্বীকার করেছে। যুদ্ধকালে ইরানের আরব প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ হয়তো ওই দেশগুলোকে আবার আমেরিকার কাছে টানতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা অনিশ্চিত। সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এই যুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতিতে নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছে। গত ছয় সপ্তাহ তাদের ট্রাম্পের বিচারবুদ্ধি ও তাদের স্বার্থ সম্পর্কে তার বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড চতুর্থ ও সম্ভবত সবচেয়ে গভীর ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে আমেরিকার নৈতিক কর্তৃত্বের ক্ষয়কে। এই দেশের অনেক দুর্বলতা সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে আমেরিকা এখনও একটি আলোকবর্তিকা। জরিপে যখন মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয় তারা চাইলে কোথায় চলে যেতেন? আমেরিকা ধারাবাহিকভাবে এক নম্বর উত্তর। শুধু সমৃদ্ধির কারণে নয়, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণেও এই আকর্ষণ।
কিন্তু ট্রাম্প তার পুরো রাজনৈতিক জীবনজুড়ে এই মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ করে আসছেন। সম্পাদকীয় বোর্ডের ভাষায়, গত সপ্তাহে তা সম্ভবত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যখন তিনি ইরানি সভ্যতা মুছে দেওয়ার ঘৃণ্য হুমকি দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আরও এক ধাপ এগিয়ে রক্তপিপাসু মন্তব্য করেছেন, “শত্রুদের জন্য কোনো ছাড় নেই, কোনো দয়া নেই”।
সম্পাদকীয় বোর্ড সরাসরি বলেছে, এগুলো যুদ্ধাপরাধ হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা নিজেই যে সশস্ত্র সংঘাতে নিষ্ঠুরতা প্রত্যাখ্যানের নেতৃত্ব দিয়েছিল, ট্রাম্প ও হেগসেথ সেই মানবিক মর্যাদার ভিত্তিকেই ক্ষতবিক্ষত করেছেন। আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বের দাবি ছিল একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত বিশ্বের যুক্তির কেন্দ্রে মানব-মর্যাদা রাখা। সেই ভিত্তি এখন নড়বড়ে।
ইরান দুর্বল হয়েছে, কিন্তু মূল্য দিচ্ছে আমেরিকা
নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড ইরানের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা লিখেছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা কোনো সহানুভূতির যোগ্য নয়। দশকের পর দশক ধরে নিজ দেশের মানুষকে দমন করা এবং অন্যত্র সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে তারা। বর্তমান যুদ্ধ, জুনের মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ এবং ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অন্যান্য অভিযান মিলিয়ে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষতির শিকার হয়েছে। তার নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে। পারমাণবিক কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ার পতিত সরকারসহ তার আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
কিন্তু সম্পাদকীয় বোর্ড জোর দিয়ে বলছে, এই সাফল্যগুলো আমেরিকার দুর্বলতাকে ঢাকতে পারছে না। ইরানে, ইসরায়েলে, সৌদি আরবে, কাতারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং অন্যত্র মৃত্যু, আহত ও ধ্বংসলীলা হয়েছে। কমপক্ষে ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। সম্পাদকীয় বোর্ড স্পষ্ট বলেছে, তারা ট্রাম্পের ব্যর্থতায় কোনো আনন্দ পাচ্ছে না।
নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড একটি বৃহত্তর উদ্বেগও তুলে ধরেছে। শুধু আমেরিকা নয়, এই চারটি ক্ষতি বৈশ্বিক গণতন্ত্রকেও দুর্বল করছে। চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য কর্তৃত্ববাদী শক্তি ইতিমধ্যেই উৎসাহিত বোধ করছিল। আমেরিকার এই পরিস্থিতি তাদের আরও সাহসী করে তুলছে। সম্পাদকীয় বোর্ড মনে করিয়ে দিয়েছে যে চীন ও রাশিয়াকে মোকাবেলা করার মতো অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি আর কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নেই। আমেরিকা যখন দুর্বল ও দরিদ্র হয়, কর্তৃত্ববাদেরই লাভ হয়।
কংগ্রেস ও মিত্রদের সঙ্গ নিন– শেষ সুযোগ
নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের রাজনীতি ও শাসনপদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে। তারা মনে করে, গত ছয় সপ্তাহে ট্রাম্পের ব্যর্থতায় কোনো আমেরিকানেরই আনন্দিত হওয়া উচিত নয়– এমনকি তার সমালোচকদেরও নয়। কারণ আমেরিকা নামক এই জাতির সাফল্য বা ব্যর্থতায় সকলের স্বার্থ জড়িত। মুক্ত পৃথিবীর বাকি অংশেরও।
তাই তাদের সম্পাদকীয়র শেষ কথাটি সরল কিন্তু জরুরি। হয়তো এটি সরলীকরণ মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই সত্য– ট্রাম্পকে এখনই তার আবেগতাড়িত, একা-চলা পদ্ধতির অদক্ষতা স্বীকার করতে হবে। কংগ্রেসকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং আমেরিকার মিত্রদের কাছে সাহায্য চাইতে হবে–এই যুদ্ধের ক্ষতি যতটা সম্ভব কমাতে। চারটি সেক্টরে যে ক্ষয় হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে হলে একক বেপরোয়া পদক্ষেপ নয়, চাই সম্মিলিত ও পরিকল্পিত কূটনীতি।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড ১২ এপ্রিল ২০২৬–এ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন, তখনই তারা সেই সিদ্ধান্তকে বেপরোয়া বলে আখ্যা দিয়েছিল। কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়ে, বেশির ভাগ মিত্রদেশের সমর্থন ছাড়া এবং আমেরিকান জনগণের কাছে অসংলগ্ন ও পরস্পরবিরোধী যুক্তি উপস্থাপন করে এই যুদ্ধে নামা হয়। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছিল সম্পাদকীয় বোর্ড। আর তা হলো–ইরাক, আফগানিস্তানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বোধ প্রচেষ্টা যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে, ইরানে সেই একই পথ কেন ভিন্ন ফলাফল দেবে?
সম্পাদকীয় বোর্ড মনে করে, পরবর্তী ছয় সপ্তাহে এই বেপরোয়া মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যত্নশীল সামরিক পরিকল্পনাকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প তার প্রবৃত্তি ও কামনার ওপর ভর করে এগিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেছিলেন, এই আক্রমণ ইরানে জনগণের বিদ্রোহ উসকে দেবে। কিন্তু সিআইএ পরিচালক এই ধারণাকে হাস্যকর বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন–যা নিউইয়র্ক টাইমসই রিপোর্ট করেছে। তারপরও ট্রাম্প এগিয়ে যান।
সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে তেলের মূল্য আকাশচুম্বী করতে পারে–এই সুস্পষ্ট পাল্টা পদক্ষেপের কথা মাথায় রেখে ট্রাম্প কোনো পরিকল্পনাই করেননি। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম পুনর্নির্মাণে ব্যবহারযোগ্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ রাখার কার্যকর কৌশলও তার ছিল না। শেষ পর্যন্ত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানি সভ্যতা মুছে দেওয়ার অবৈধ ও অনৈতিক হুমকি থেকে একটি শেষ মুহূর্তের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছান–যে যুদ্ধবিরতি তার ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্যের কোনোটিই পূরণ করেনি।
নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে চারটি বড় আঘাত চিহ্নিত করেছে, যা সরাসরি ট্রাম্পের বেপরোয়া নীতির ফলাফল। প্রথম ও সবচেয়ে বাস্তব ক্ষতি হলো হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরানের দক্ষিণ উপকূলের পাশেই অবস্থিত।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরানের নেতারা জানতেন যে, প্রণালি অবরোধ করলে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক আক্রমণ ডেকে আনবে। কিন্তু যখন আক্রমণ এমনিতেই হয়ে গেল, ইরান প্রায় সব জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিল–শুধু নিজেদের জাহাজ রেখে। এই কৌশল ব্যয়সাপেক্ষ নয়, কারণ এটি মূলত একটি হুমকিমাত্র। যেকোনো ট্যাংকার ড্রোন, মিসাইল বা ছোট নৌকার আঘাতে ধ্বংস হতে পারে। বিপরীতে প্রণালি জোর করে পুনরায় খুলতে হলে বিশাল সামরিক অভিযান লাগবে, সম্ভবত স্থল সেনা এবং দীর্ঘমেয়াদী দখলদারিত্বসহ।
সম্পাদকীয় বোর্ড সরাসরি বলেছে, হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দূরদর্শিতার অভাব ভয়াবহ অদক্ষতার প্রমাণ। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পূর্বের অবস্থা ফেরায়নি। কারণ ইরান এখনও চলাচল সীমিত রেখেছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে কর আরোপের হুমকি দিয়েছে। এই যুদ্ধ ইরানের নেতাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, জলপথ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবে সম্ভব। বিকল্প পাইপলাইন একদিন তৈরি হতে পারে, কিন্তু তাতে সময় লাগবে। আপাতত ইরান এমন কূটনৈতিক সুবিধা অর্জন করেছে, যা ছয় সপ্তাহ আগে স্বপ্নেও ভাবা যেত না।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ডের মতে, দ্বিতীয় বড় ক্ষতি হয়েছে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সামরিক মর্যাদায়। ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন, ইসরায়েল ও অন্যান্য মিত্রদের সহায়তার ফলে টোমাহক মিসাইল ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মতো অনেক অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শুধু ইরান যুদ্ধেই পেন্টাগন তার টোমাহক মিসাইলের মজুতের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ব্যবহার করে ফেলেছে। এই মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বছরের পর বছর লাগবে। ততদিন কোথায় কোথায় সামরিক শক্তি বজায় রাখা হবে–সে বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইতিমধ্যে পেন্টাগন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে।

সম্পাদকীয়তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন ধরনের যুদ্ধের সামনে ঝুঁকিপূর্ণ। আমেরিকা কোটি কোটি ডলারের হাইটেক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে ইরানের ঐতিহ্যবাহী বায়ু ও নৌসেনা ধ্বংস করেছে, অথচ তেহরান সস্তা ও ব্যবহার-পরবর্তী ফেলে দেওয়া যায়–এমন ড্রোন দিয়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। সম্পাদকীয় বোর্ডের ভাষায়, বিশ্ব দেখল কীভাবে আমেরিকার সামরিক ব্যয়ের মাত্র একশত ভাগের এক ভাগ খরচ করা একটি দেশ সংঘর্ষে আমেরিকার চেয়ে বেশি সময় টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারে।
তৃতীয় বড় ক্ষতির বিষয়ে নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড লিখেছে, এই যুদ্ধে আমেরিকার মিত্রজোটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পশ্চিম ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ এই যুদ্ধে সমর্থন দেয়নি। ট্রাম্প যেভাবে তাদের সাথে আচরণ করেছেন, তা দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে সাহায্য চাইলেন ট্রাম্প, বেশির ভাগ মিত্র প্রত্যাখ্যান করল। এই দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে মিত্র থাকবে, কিন্তু তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আমেরিকাকে আর বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করে না।
ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ড্যানিয়েল বাইম্যান বুধবার লিখেছেন, ইরান যুদ্ধ থেকে আমেরিকার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি সম্ভবত বিশ্বজুড়ে মিত্র দেশগুলোর সাথে সম্পর্কে। এই দেশগুলো এখন পরস্পরের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আরও ভালোভাবে দাঁড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল বলে সম্পাদকীয় বোর্ড স্বীকার করেছে। যুদ্ধকালে ইরানের আরব প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ হয়তো ওই দেশগুলোকে আবার আমেরিকার কাছে টানতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা অনিশ্চিত। সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ এই যুদ্ধে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতিতে নিজেদের পরিত্যক্ত মনে করছে। গত ছয় সপ্তাহ তাদের ট্রাম্পের বিচারবুদ্ধি ও তাদের স্বার্থ সম্পর্কে তার বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড চতুর্থ ও সম্ভবত সবচেয়ে গভীর ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে আমেরিকার নৈতিক কর্তৃত্বের ক্ষয়কে। এই দেশের অনেক দুর্বলতা সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে আমেরিকা এখনও একটি আলোকবর্তিকা। জরিপে যখন মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয় তারা চাইলে কোথায় চলে যেতেন? আমেরিকা ধারাবাহিকভাবে এক নম্বর উত্তর। শুধু সমৃদ্ধির কারণে নয়, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণেও এই আকর্ষণ।
কিন্তু ট্রাম্প তার পুরো রাজনৈতিক জীবনজুড়ে এই মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ করে আসছেন। সম্পাদকীয় বোর্ডের ভাষায়, গত সপ্তাহে তা সম্ভবত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যখন তিনি ইরানি সভ্যতা মুছে দেওয়ার ঘৃণ্য হুমকি দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আরও এক ধাপ এগিয়ে রক্তপিপাসু মন্তব্য করেছেন, “শত্রুদের জন্য কোনো ছাড় নেই, কোনো দয়া নেই”।
সম্পাদকীয় বোর্ড সরাসরি বলেছে, এগুলো যুদ্ধাপরাধ হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা নিজেই যে সশস্ত্র সংঘাতে নিষ্ঠুরতা প্রত্যাখ্যানের নেতৃত্ব দিয়েছিল, ট্রাম্প ও হেগসেথ সেই মানবিক মর্যাদার ভিত্তিকেই ক্ষতবিক্ষত করেছেন। আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বের দাবি ছিল একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত বিশ্বের যুক্তির কেন্দ্রে মানব-মর্যাদা রাখা। সেই ভিত্তি এখন নড়বড়ে।
ইরান দুর্বল হয়েছে, কিন্তু মূল্য দিচ্ছে আমেরিকা
নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড ইরানের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা লিখেছে, ইরানের শাসনব্যবস্থা কোনো সহানুভূতির যোগ্য নয়। দশকের পর দশক ধরে নিজ দেশের মানুষকে দমন করা এবং অন্যত্র সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে তারা। বর্তমান যুদ্ধ, জুনের মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ এবং ২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েলের অন্যান্য অভিযান মিলিয়ে ইরান গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষতির শিকার হয়েছে। তার নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়েছে। পারমাণবিক কার্যক্রম পিছিয়ে পড়েছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ার পতিত সরকারসহ তার আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
কিন্তু সম্পাদকীয় বোর্ড জোর দিয়ে বলছে, এই সাফল্যগুলো আমেরিকার দুর্বলতাকে ঢাকতে পারছে না। ইরানে, ইসরায়েলে, সৌদি আরবে, কাতারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং অন্যত্র মৃত্যু, আহত ও ধ্বংসলীলা হয়েছে। কমপক্ষে ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। সম্পাদকীয় বোর্ড স্পষ্ট বলেছে, তারা ট্রাম্পের ব্যর্থতায় কোনো আনন্দ পাচ্ছে না।
নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয় বোর্ড একটি বৃহত্তর উদ্বেগও তুলে ধরেছে। শুধু আমেরিকা নয়, এই চারটি ক্ষতি বৈশ্বিক গণতন্ত্রকেও দুর্বল করছে। চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য কর্তৃত্ববাদী শক্তি ইতিমধ্যেই উৎসাহিত বোধ করছিল। আমেরিকার এই পরিস্থিতি তাদের আরও সাহসী করে তুলছে। সম্পাদকীয় বোর্ড মনে করিয়ে দিয়েছে যে চীন ও রাশিয়াকে মোকাবেলা করার মতো অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি আর কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নেই। আমেরিকা যখন দুর্বল ও দরিদ্র হয়, কর্তৃত্ববাদেরই লাভ হয়।
কংগ্রেস ও মিত্রদের সঙ্গ নিন– শেষ সুযোগ
নিউইয়র্ক টাইমস-এর সম্পাদকীয় বোর্ড দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের রাজনীতি ও শাসনপদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে। তারা মনে করে, গত ছয় সপ্তাহে ট্রাম্পের ব্যর্থতায় কোনো আমেরিকানেরই আনন্দিত হওয়া উচিত নয়– এমনকি তার সমালোচকদেরও নয়। কারণ আমেরিকা নামক এই জাতির সাফল্য বা ব্যর্থতায় সকলের স্বার্থ জড়িত। মুক্ত পৃথিবীর বাকি অংশেরও।
তাই তাদের সম্পাদকীয়র শেষ কথাটি সরল কিন্তু জরুরি। হয়তো এটি সরলীকরণ মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই সত্য– ট্রাম্পকে এখনই তার আবেগতাড়িত, একা-চলা পদ্ধতির অদক্ষতা স্বীকার করতে হবে। কংগ্রেসকে সম্পৃক্ত করতে হবে এবং আমেরিকার মিত্রদের কাছে সাহায্য চাইতে হবে–এই যুদ্ধের ক্ষতি যতটা সম্ভব কমাতে। চারটি সেক্টরে যে ক্ষয় হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে হলে একক বেপরোয়া পদক্ষেপ নয়, চাই সম্মিলিত ও পরিকল্পিত কূটনীতি।

কলিনসন তার বিশ্লেষণে অবরোধের একাধিক ঝুঁকি চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, ইরান যদি টোল দিতে রাজি হয়–এমন জাহাজ চলাচলে বাধা দিতে মার্কিন বাহিনী সচেষ্ট হয়, তাহলে চীনের মতো বৃহৎ শক্তির সাথে কূটনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে। আগামী মাসে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে শীর্ষ বৈঠক করার কথা। যা ইতিমধ্

হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দূরদর্শিতার অভাব ভয়াবহ অদক্ষতার প্রমাণ। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পূর্বের অবস্থা ফেরায়নি। কারণ ইরান এখনও চলাচল সীমিত রেখেছে এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে কর আরোপের হুমকি দিয়েছে। এই যুদ্ধ ইরানের নেতাদের দেখিয়ে দিয়েছে যে, জলপথ নিয়ন্ত্রণ বাস্তবে সম্ভব।