
ইসরায়েলে যে কারণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু
জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভাব্যভাবে আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
চরচা ডেস্ক

ইসরায়েলের পার্লামেন্টের নির্বাচন ভোটগ্রহণ শেষে গণনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বুথ ফেরত জরিপের তথ্য বলছে, দেশটির প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোটের কোনোটিই সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
অবশ্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তার ডানপন্থী জোটের হাতে ‘বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ রয়েছে। তিনি একটি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনেরও আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলে রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে দেশটির সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক কতটা টিকে থাকতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম নির্বাচন। তাছাড়া এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও খারাপ হচ্ছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির কয়েকটি মিত্ররাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এছাড়া গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলারও নিন্দা জানিয়েছে অনেক দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট এক প্রতিবেদনে বলেছে, নয়াদিল্লির জন্য এখন বড় প্রশ্ন হলো, ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তন হলেও দুই দেশের সহযোগিতা কি একই গতিতে এগিয়ে যাবে? মূলত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কই দুই দেশের অংশীদারত্বকে আলোচনায় এনেছে। তবে এই সম্পর্ক শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বেড়েছে। দীর্ঘদিনের এই সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্তমান নেতাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হলেও দুই দেশের একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
দ্য ডিপ্লোম্যাট বলছে, প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতাতেই দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা স্পষ্ট। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ যৌথভাবে ‘বারাক-৮’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছে। এতে বোঝা যায়, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু একে অপরের কাছ থেকে অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তারা একসঙ্গে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করছে।
এ ছাড়া ভারতের মাটিতে ইসরায়েলের তৈরি ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ‘তামির’ নামের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল যৌথভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে দুই দেশ।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের তৈরি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভারত। এ সময়ে ইসরায়েলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশই গেছে ভারতে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট বলছে, ভারত নিজেদের দেশে অস্ত্র উৎপাদনের ওপর জোর দিলেও ইসরায়েলের সঙ্গে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছরের জুনে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম ভারত সফর করেন। এ সময় তিনি ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৫ সালের নভেম্বরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে।
সরকার পরিবর্তন হলে দুই দেশের সম্পর্কে কতটা প্রভাব পড়বে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলে নতুন সরকার এলে, আগের সব প্রকল্প আগের মতোই চলবে এমনটা বলা যায় না। কিন্তু দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা যোগাযোগের পথগুলো ভবিষ্যতেও সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।
তাই ইসরায়েলে সরকার পরিবর্তন হলেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়বে, এমনটা মনে করার কারণ নেই বলে মত অনেকের।
দ্য ডিপ্লোম্যাট বলছে, বাণিজ্য থেকে শুরু করে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা–বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কাজ করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সরকার পরিবর্তন হলেও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব। তবে নতুন সরকার কিছু বিষয়ে অগ্রাধিকার, কাজের সময়সীমা বা চুক্তি পর্যালোচনা করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দুই দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে, শুধু দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বড় বড় ঘোষণার ওপর নির্ভর না করে বিদ্যমান সহযোগিতাকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া। অর্থনৈতিক সম্পর্কও ভারত ও ইসরায়েলের সহযোগিতা বাড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফরের সময় দুই দেশের সরকার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করে। একই সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন অনেকটাই এগিয়েছে।
প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত ও ইসরায়েল একটি দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি সই করে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে চুক্তিটি কার্যকর হয়।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে এ বছরের জানুয়ারিতে ভারতের স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যে ভারতীয় মুদ্রা রুপি ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও জানায়।
দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৯৩ কোটি ডলার। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা সফল হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে। এতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে। তাই ইসরায়েলে ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের স্বার্থেই আলোচনা সফলভাবে শেষ করে উপযুক্ত সময়ে দুই দেশের জন্য লাভজনক একটি চুক্তি সই করা উচিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলে নতুন নেতা ক্ষমতায় এলে দেশটির কূটনৈতিক আচরণ ও অগ্রাধিকারে পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি উন্নত করার চেষ্টা করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার ওপরও গুরুত্ব দিতে পারে। গাজা যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
তবে এমন পরিবর্তন মানেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসা নয়। ইসরায়েলেরও প্রচলিত অংশীদারদের বাইরেও অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগে।
দ্য ডিপ্লোম্যাট বলছে, নতুন নেতৃত্বকে ভারতের সঙ্গে নিজেদের মতো করে কাজের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তবে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই চলমান সহযোগিতা ও আলোচনার বিষয়গুলো সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
ভারতের নীতিও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা ও কল্যাণ।
আবার উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এ বছর ইসরায়েল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ভারতের এসব স্বার্থের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাও ভারতের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার উদ্যোগগুলোও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইইসি) এবং ভারত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত আই২ইউ২ উদ্যোগ। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই দুই উদ্যোগেই এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি বাতিল করেনি।
এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে কূটনৈতিকভাবে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হবে বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাদের ভাষ্য, ভারত একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে সংলাপ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক পথ খোলা রাখার পক্ষেও থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন–দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধান। এ ধরনের নীতি নেওয়ার কারণ হলো, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে উপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের জন্যও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুই দেশের সহযোগিতা প্রতিরক্ষার বাইরেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। নেতানিয়াহু আবার প্রধানমন্ত্রী হলে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই থাকা রাজনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। অন্য কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের অগ্রাধিকার ভিন্ন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তবে দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই থাকা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সুযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বার্থের মিল সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সাইবার নিরাপত্তা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, শিক্ষাক্ষেত্রে অংশীদারত্ব এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।
ভারতের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে, সম্পর্কের ধারাবাহিকতাকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক নমনীয়তাও বজায় রাখতে হবে।

ইসরায়েলে যে কারণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকছেন নেতানিয়াহু
জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভাব্যভাবে আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পরেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে যেভাবে এগিয়ে নেতানিয়াহু
তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে নেতানিয়াহুর আহ্বান আরও জোরালো হতে পারে। তবে সংঘাত কতটা বাড়বে, তা অনেকাংশে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ইউরোপজুড়ে জেন-জিরা কেন রাস্তায়
জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেহাল দশা এবং দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষের জেরে ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ। সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর নির্বাচনে দেশটির দীর্ঘদিনের শাসকের পতন ঘটেছে।

সমঝোতার ফাঁদে যেভাবে আটকে যায় নারীর সম্পত্তির অধিকার
কারণ সম্পত্তির মালিকানা ছাড়া অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ। আর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীর লড়াইটিও থেকে যায় অসম শক্তির লড়াই।