ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর দেশটিতে এটিই প্রথম নির্বাচন। ওই হামলায় ইসরায়েলজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতার মধ্যে পড়ে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা, না-থাকা এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বীরা নতুন যুগের সূচনা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে নির্বাচনের সুস্পষ্ট ফল জানতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
কখন জানা যাবে কে জিতেছে?
ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজয়ী সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ১০টা) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) শেষ হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যাবে। এরপর নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করবে।
দ্রুতই নির্বাচনের ফলাফলের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো একক দল বা দলগুলোর জোট পার্লামেন্টে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে চূড়ান্ত পরিস্থিতি বুঝতে আরও অনেক সময় লাগতে পারে।
৩০ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে এর এক সপ্তাহ পর, ৪ নভেম্বর।
কেন নির্বাচনপ্রক্রিয়া এত জটিল?
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রতি চার বছর পর নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে দেশটিতে আগাম নির্বাচন প্রায়ই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে নেসেটের আসন বণ্টন করা হয়। আসন পেতে কোনো দলকে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ পেতে হয়।
প্রায় এক ডজন দল এই ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে চূড়ান্ত ভোট গণনা ও আসন বণ্টনে সময় লাগবে।
ফল প্রকাশের পর কী ঘটবে?
চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন—তারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। এরপর তিনি এমন একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করেন।
মনোনীত ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন।
ইসরায়েলে এর আগে কোনো একক দল কখনোই এককভাবে পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তাই বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে জোট সরকার গঠিত হয়। সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর আলোচনা প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে।
নেসেটের প্রতিটি আসনই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট দলগুলোও জোট গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব দলের সমর্থন কোন দিকে যাচ্ছে, তার ওপর সরকার গঠনের সাফল্য নির্ভর করতে পারে।
মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য প্রার্থীরাও সুযোগ পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কোনো সরকার গঠন করা সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।