আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও নিশ্চিত। আর তিনি একাদশে থাকলে তাওহীদ হৃদয়ের মতো প্রতিভাবান একজন ব্যাটসম্যানকে দলের বাইরেই থাকতে হবে। তবুও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যেন মুশফিকুরকে বাদ দেওয়া বা বিশ্রাম দেওয়ার কথা চিন্তাই করতে পারছে না।
বাংলাদেশের টেস্ট দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর। দেশের ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ১০০ টেস্ট খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। এরপর অনেকেই ভেবেছিলেন, মুশফিকুর সম্ভবত দেশের মাটিতে কোনো একটা টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা আর হয়নি।
কারণ, মুশফিকুর বর্তমান আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রের শেষ পর্যন্ত খেলে যেতে চান বলেই নির্বাচকদের জানিয়েছেন। এই কারণেই তাঁকে খেলানো হচ্ছে। কিন্তু অভিজ্ঞতা দিয়ে আর কত সুযোগ পাবেন ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান?
টেস্টে নিজের শেষ ছয় ইনিংসে মুশফিকুরের ব্যাটে রীতিমতো রান খরা চলছে। এই সময়ে তিনি ২২.১৬ গড়ে করতে পেরেছেন মাত্র ১১৩ রান। সর্বোচ্চ স্কোর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রান।
আর সেই ইনিংসটিও ছিল ভীষণ দৃষ্টিকটু। দলের ইনিংস পরাজয় এড়ানোর চেষ্টার চেয়ে মুশফিকুর নিজের গড় বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত স্ট্রাইক ছেড়ে দিয়েছেন টেল এন্ডারদের জন্য।
পাশাপাশি মুশফিকুরের আউট হওয়ার ধরনেও তাঁর টেকনিকের সমস্যাগুলো ধরা পড়ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেম্পারামেন্ট ও রিফ্লেক্সের জায়গাগুলোতে ঘাটতি ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক ইনিংসগুলোতে মুশফিকুর বারবার ক্লিন বোল্ড হয়েছেন।
সবশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং সহায়ক কন্ডিশনে তিনি ৭ বল মাত্র টিকতে পেরেছেন এবং যথারীতি বোল্ড হয়েছেন। এভাবে আউট হওয়াটাই বলে দিচ্ছে, মুশফিকুর যে সলিড টেকনিকের জন্য পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে পরিচিত ছিলেন, সেটা এখন আর কাজ করছে না।
ব্যাটে নেই ধারাবাহিকতা, আউট হচ্ছেন বাজেভাবে, তবুও ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় মুশফিকুরকে সব টেস্টে খেলানোটা জাতীয় নির্বাচক প্যানেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আফগানিস্তানের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের আড়াই দিনের মধ্যে হেরে যাওয়া সেই টেস্টেও মুশফিকুর খেলেছিলেন, যা ছিল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরে।
ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩৫০ রান করেও দলের বাইরে তাওহীদ হৃদয়। ছবি: ফেসবুক।
মুশফিকুর এভাবে সব ম্যাচ খেলে যাওয়ার কারণেই বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ একজন ব্যাটসম্যান হৃদয় সুযোগ পাচ্ছেন না। সামনেই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চারটি ম্যাচ। আর এই চার ম্যাচেই মুশফিকুর যে খেলবেন, তা নিশ্চিত।
ফলে হৃদয়ের মতো একজন ক্রিকেটার ফর্মের তুঙ্গে থেকেও আছেন দলের বাইরে। অথচ গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে ‘এ’ দলের হয়ে ৩৫০ রান করেছিলেন তিনি, যা ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান। এমন একটা ইনিংস খেলার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হৃদয়কে অনায়াসেই খেলানো যেত পাঁচ নম্বর পজিশনে।
তবে মুশফিকুর যেহেতু নিজে থেকে অবসরে যাচ্ছেন না, তাই বাধ্য হয়ে তাকে খেলাতে হচ্ছে বিসিবিকে। কিন্তু এতে কি দল লাভবান হচ্ছে?