৩০তম ওভারের শেষ বল, জস হ্যাজেলউডকে চার মারলেন তাইজুল ইসলাম। আর তাতে হাঁফ ছেড়েই যেন বাঁচলেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর যে পার করতে পেরেছে নাজমুল হোসেনের দল।
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে মাত্র ৬৪ রানে। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম স্কোর ৪৩, যা এসেছিল ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেছেন ১১ নম্বরে নামা শরীফুল ইসলাম, আর এটাই সাক্ষ্য দিচ্ছে ২২ গজে ব্যাটসম্যানদের বিভীষিকাময় এক ইনিংসের।
প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া হলেও প্রথম টেস্টে অবিশ্বাস্য এক জয়ের কারণেই স্বপ্নটা চওড়া হয়ে গিয়েছিল অনেক। দ্বিতীয় টেস্টে জিতে সিরিজ জয়ের আশাও ছিল জোরাল। তবে আহত বাঘ যে কতোটা ভয়ংকর হতে পারে, সেটাই দেখিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই পেসার ধসিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। সেই তোপের সামনে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট না হয়েই যেন মান বেঁচেছে নাজমুল-লিটনদের।
যদিও টস জিতে বল হাতে নিয়ে স্টার্ক একদম প্রথম বল থেকে যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করেছেন, তাতে ফিরে আসছিল ৪৩ বা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার স্মৃতি। টেল এন্ডারদের দৃঢ়তায় সেটা আর হয়নি।
তবে যা হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য বেশ দৃষ্টিকটু। ম্যাচের প্রথম বলে স্টার্ক অনেকবারই উইকেট নিয়েছেন। এবার সেখানে নাম লেখান সাদমান ইসলাম। লেগ স্ট্যাম্প লাইনে পিচ করা ডেলিভারি তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই চলে যায় স্লিপে।
গোল্ডেন ডাকের তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেনেরও। আর তানজিদ হাসান তামিম টিকতে পারেন মোটে দুই বল। ছন্নছাড়া বাংলাদেশকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে খানিক বাদে আরও দুই উইকেট নেন স্টার্ক। এজন্য তিনি করেন মাত্র ২২টি ডেলিভারি, আর রান দেন ৪!
দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করে খেলতে পারেন ৪২ বল। তবে ৫ রানে ফেরেন তিনিও। ২১ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশের সামনে তখন নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
তবে মেহেদি হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ১৫ রানের জুটিতে হয় রক্ষা। দুজনকে বিদায় করেন প্যাট কামিন্স। ৩৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর তাইজুল ইসলাম (১১) ও শরীফুল ইসলাম মিলে যেন দেখাতে চেয়েছেন, ব্যাটিং করাটা খুব কঠিন ছিল না।
দুজনে হাঁকান পাঁচটি বাউন্ডারি, যেখানে প্রথম সাতজন মিলে চার মারতে পারেন মাত্র তিনটি। তাদের ২৫ রানের জুটির ইতি টানেন সেই স্টার্ক। তার স্পেল দাঁড়ায় ১০-৬-১২-৬!