Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

দীনেশ ত্রিবেদীর ‘মন্ত্রিত্বের’ অর্থ কী?

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ২০: ৪৯
দীনেশ ত্রিবেদীর ‘মন্ত্রিত্বের’ অর্থ কী?

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ক্রেডেনশিয়াল জমা দেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে লিখেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশ মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ায় এখন আর তাকে কোনো কাজে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করতে পারবে না। তিনি কোনো সচিবের সাথে বৈঠক করবেন না। অনেকে আবার লিখছেন–ভারত এখানে ‘চাল’ চেলেছে। কারণ, কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লিতে যাওয়া নিয়ে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছিল; এখন এমন কোনো পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীকে তলব করা যাবে না। কারণ, তিনি মন্ত্রী। কোনো দেশের মন্ত্রীকে তলব করা যায় না।

তাহলে দেখে নেওয়া যাক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে দেশটির আদেশে কী বলা হয়েছে।

গত বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) এক অফিস স্মারকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’ (টিওপি)-এ প্রদান করা হয়েছে। তবে এ জন্য টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কোনো সংশোধন আনা হয়নি।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এতে আরও বলা হয়, “টেবিল অব প্রিসিডেন্সে এই অবস্থান কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: রাজনৈতিক সরকারই পারে মানুষের ভাষা বুঝতে?Bd-China

অর্থাৎ, ভারতের কোনো মন্ত্রীর যে প্রশাসনিক দায়িত্ব আছে, দীনেশ ত্রিবেদীর সেরকম কোনো দায়িত্ব নেই। তিনি ভারতের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্বাহী দায়িত্বে থাকবেন না। তিনি অন্য যেকোনো হাইকমিশনারের মতো তার দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবেন।

তাহলে তাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার ফলে কোনো বাড়তি সুবিধা কি নেই? আছে। তা হলো–ভারতের টিওপি অর্থাৎ, দেশটির সরকারি প্রটোকল তালিকা মূলত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি, গভর্নর, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন পদাধিকারীর আনুষ্ঠানিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, আসনবিন্যাস, অভ্যর্থনা ও প্রটোকলের জন্য এই তালিকা ব্যবহৃত হয়; এটি প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্ধারণ করে না। বাংলাদেশে যেমন ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ভারতের টিওপি ঠিক তাই।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট বলেছেন, এই ধরনের মর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি প্রবেশাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। এটি সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হয়।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে নিযুক্ত কয়েকজন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারও একই মর্যাদা পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশও একসময় ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল। সেসময় কিন্তু সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বাংলাদেশে কোনো নির্বাহী দায়িত্বে ছিলেন না। ভারতের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তিনি নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দিতেন না। সেই এখতিয়ারও তার ছিল না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেই বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানাতেন।

তারেক রহমানের চীন সফর ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথাPM tareque

তেমনই দীনেশ ত্রিবেদী যদি বাংলাদেশের কোনো বিষয়ে কোনো মন্ত্রী বা সচিব বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো বিষয়ে আলোচনা করেন, সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তিনি মন্ত্রী হিসেবে নিতে পারবেন না। তাকে তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রদূতের মূল কাজ হলো–নিজে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা, নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা, তথ্য সংগ্রহ করে নিজ সরকারকে জানানো এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে দীনেশ ত্রিবেদী এই কাজগুলোই করবেন। ভারতের মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশে দূতিয়ালি করবেন না।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর মতো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে দূত হিসেবে পাঠানোয় এটা ধরে নেওয়া যায় যে, এই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি।

গুজরাটি দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা বলতে পারেন। হিমাচল প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হন তিনি। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার জানাবোঝা বেশি বলে ধরে নেওয়াই যায়। এক সময়ের কংগ্রেস নেতা দীনেশ ১৯৯০ সালে জনতা দলে যোগ দেন। ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ ত্রিবেদী। দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?bangladesh-india-flag-ai-genereted

২০০২-০৮ পর্যন্ত ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় তৃণমূলের আইনপ্রণেতা ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ভোটে জিতে কেন্দ্রে মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী হন।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দেন। সেই দায়িত্ব বর্তায় দীনেশের কাঁধে। পরে তাকে সে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ। কিন্তু বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তৃণমূল তাকে পরে আবার রাজ্যসভার এমপি করে। কিছুদিন পর তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ২০২১ সালে পদত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী দীনেশ ত্রিবেদীকে তার দেশের সরকার হয়তো মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে সম্মান জানিয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার। বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রীর মর্যাদা নয়, বরং ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদায় কাজ করবেন; যেমন অন্য দেশের রাষ্ট্রদূতরা করে থাকেন।

তবে এটা ঠিক যে, বাংলাদেশের নিকটতম এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশে আলাদা গুরুত্ব পায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সরকার কীভাবে সামলাবে, তা সরকারি সিদ্ধান্ত। এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কূটনৈতিক পথেই হয়। অপতথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে যে হয় না, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেখা গেছে।

বিষয়: রাষ্ট্রপতিবাংলাদেশবিশ্ব রাজনীতিভূরাজনীতিভারত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

  • ২

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

  • ৩

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

  • ৪

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

  • ৫

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি