Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

আইভী কি রাজনীতিতে ফিরবেন?

তাসীন মল্লিক

তাসীন মল্লিক

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ২১: ৪৯
আইভী কি রাজনীতিতে ফিরবেন?

প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১০টার সময় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই নেত্রীর মুক্তির পরপরই সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো–আইভী কি রাজনীতিতে ফিরবেন?

Advertisement

আইভীর মুক্তির পর রাতেই তার বাসায় ভিড় করেছিলেন স্বজন-সমর্থকরা। সে ভিড় কিছুটা কমলেও মুক্তির খবর পেয়ে সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা এখনো পায়চারি করছেন।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় নিজ বাসা চুনকা কুটিরে পৌঁছান সেলিনা হায়াৎ আইভী। সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পর থেকে পরিবারের সান্নিধ্যে কিছুটা নীরব থাকছেন তিনি।

২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা আট বছর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রথম সিটি নির্বাচনেই নিজ দলের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। দলমত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে আরও দুইবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
আইভী তার সময়টায় (যখন মেয়র ছিলেন) তিনি দলান্ধের মতো কাজ করেন নাই। তিনি বিরোধী মতের সবাইকে নিয়েই কাজ করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেলিনা হায়াৎ আইভীর সামনে আসে নতুন এক পরিস্থিতি। ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা (চুনকা কুটির) থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। অভ্যুত্থানের সময়ে হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগসহ ১২টি মামলা ছিল তার নামে।

এসব মামলায় গতকাল বুধবার জামিনে মুক্তির পর সেলিনা হায়াৎ আইভীর রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

কে কী বলছেন

আইভীর রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে তিনি এবং তার ঘনিষ্ঠরা সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার শুভানুধ্যায়ী ও সমর্থকেরা মনে করেন, নির্বাচনে অংশ নিলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন তিনি।

আইভীর রাজনীতি বাংলাদেশে যেটাই হোক, নারায়ণগঞ্জে তার অবস্থান ও চরিত্রটা ছিল ভিন্ন। এজন্য আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে তার একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন সময় অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি দল দ্বারা নিজেই নাজেহাল হয়েছেন বিভিন্ন সময়।

ক্ষমতাসীন দলের সদস্য হলেও সেলিনা হায়াৎ আইভীর রাজনীতি দেশের বাস্তবতার বিপরীত ছিল বলে ভাষ্য নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির। সাবেক নাসিক মেয়রের বিরুদ্ধে মামলাগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন ও অপ্রযোজ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

রফিউর রাব্বি চরচাকে বলেন, “আইভী তার সময়টায় (যখন মেয়র ছিলেন) তিনি দলান্ধের মতো কাজ করেন নাই। তিনি বিরোধী মতের সবাইকে নিয়েই কাজ করেছেন।”

ivyu
সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: বাসস

সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতার আলোকে রফিউর রাব্বি বলেন, “আইভীর রাজনীতি বাংলাদেশে যেটাই হোক, নারায়ণগঞ্জে তার অবস্থান ও চরিত্রটা ছিল ভিন্ন। এজন্য আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে তার একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন সময় অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি দল দ্বারা নিজেই নাজেহাল হয়েছেন বিভিন্ন সময়।”

যদিও আইভীর মুক্তির বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি শওকত আলী। আইভির মুক্তির প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আদালত দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে জামিন পাওয়া মানেই অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া নয়।

আইভী নীরব কেন?

স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে, দীর্ঘ সময় পর জনসম্মুখে না এলেও আইভীর এই নীরবতা হয়তো কৌশলগত। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতেই তিনি সময় নিচ্ছেন বলে ধারণা অনেকের। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোও বলছে, শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মূল্যায়ন করতেই আপাতত তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন।

রাজনীতিতে ফেরা ও আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন কি না–এমন প্রশ্নের উত্তরে পাওয়া গেল কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজনীতিতে ফেরা প্রসঙ্গে খোদ সেলিনা হায়াৎ আইভীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রফিউর রাব্বি চরচাকে জানিয়েছেন, “যে বিষয়টা আমরা জেনেছি–তিনি রাজনীতি করা নিয়ে খুব আগ্রহী নন।”

তিনি তো আওয়ামী লীগরেও হারাইছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরে যে কোনো পরিস্থিতিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী জিতবেন।

তবে আইভীর সমর্থকেরা জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভীর অংশগ্রহণের বিষয়ে তারা আশাবাদী। নারায়ণগঞ্জ শহরের আদালতপাড়ার বাসিন্দা পাপন ঘোষ চরচাকে বলেন, “তিনি তো আওয়ামী লীগরেও হারাইছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরে যে কোনো পরিস্থিতিতে সেলিনা হায়াৎ আইভী জিতবেন।”

সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের একজন ক্রীড়া সংগঠক নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “এখানে শুধু শামীম ওসমান গ্রুপ আর এনসিপিই আইভীর বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জের বিএনপি-জামায়াতও কোনোদিন আইভীর দ্বারা কোনো ক্ষতির শিকার হয়নি। যদি সরকার বাধা দিতে চায়, তবে অন্য হিসাব।”

ivy 2

নীরব আইভী, বাইরে গুণগ্রাহীদের পায়চারী

তবে আইভীর নীরব অবস্থানের বিপরীতে বাড়ির বাইরে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক আবহ–প্রতীক্ষা, আবেগ আর উচ্ছ্বাসের মিশ্র চিত্র। কেউ এক ঝলক দেখার আশায়, কেউবা দীর্ঘদিনের জমে থাকা কথা বলার প্রত্যাশায়।

নাসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী জসীমউদ্দিনও তেমন কিছু কথা বলার প্রত্যাশা নিয়ে চুনকা কুটিরের পাশে বসে ছিলেন। চরচাকে তিনি বলেন, “উনি মেয়র থাকতে তো বৃহস্পতিবার হইলেই আইতাম। উনারে জানাইতে চাই, আমাগোর অবস্থা ভালো না। জানি এহন দেখা করা সম্ভব না।”

সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তিতে স্বস্তি প্রকাশ করে পশ্চিম দেওভোগের বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “উনি পশ্চিম দেওভোগের গর্ব। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক বাসিন্দার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে।”

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় পশ্চিম দেওভোগ মহল্লার চুনকা কুটিরের সামনে গিয়ে দেখা গেল আশপাশে ছোট ছোট জটলা। ছোট ছোট দলে দাঁড়িয়ে কিংবা পায়চারি করে নিচু স্বরে গল্প করছেন সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভক্ত, সমর্থক ও নাসিক কর্মচারীরা।

চুনকা কুটিরের গেটে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী বা কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায়নি। গেট সংলগ্ন মুদির দোকানদার মো. বাবু জানালেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী বাড়ি পৌছানোর পর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করেছিল। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর থেকে বাড়ির ভেতর পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন তিনি। দলীয় নেতা-কর্মী কিংবা মুক্তির খবর পেয়ে আসা কোনো শুভানুধ্যায়ীর সঙ্গে দেখা করছেন না।

বিষয়: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনজামিনমামলাসেলিনা হায়াৎ আইভীশামীম ওসমানআওয়ামী লীগরাজনীতিনারায়ণগঞ্জআদালতজুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ড
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    ফিলিস্তিনের নির্বাচন কেন স্থগিত করলেন আব্বাস?

    গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে আব্বাস নভেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তিনি ওই অঙ্গীকার করেছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর আব্বাসের নির্বাচনের সময়সূচি পেছানোর সিদ্ধান্ত এলো।

  • ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    ক্ষমতার ২৫ বছরে কীভাবে এই বাচ্চাদের থামাবেন মোদি?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও অধিকারকর্মী প্রশান্ত ভূষণ আল জাজিরাকে বলেন, “মোদি সরকারকে জনগণের কাছে বেশ ভীত বলে মনে হচ্ছে।”

  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।