Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

যেতে নাহি দেব হায়, তবু যেতে দিতে হয়...

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৪১
যেতে নাহি দেব হায়, তবু যেতে দিতে হয়...

এক দুর্দমনীয় অস্থির সময় দুর্নীতি দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার দিয়ে শান্তিতে নোবেল জয়ী, বাংলাদেশের গর্ব, আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের পথচলা। নির্বাচন হয়ে গেছে। ফলাফল সবার জানা। সময় যত যাচ্ছে, ঘনিয়ে আসছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়। কলেজের অধ্যাপকের বিদায়ে মানপত্রের ভাষায় ১৮ মাস বাংলাদেশকে শাসন করা ড. ইউনূসের জন্য নিশ্চয়ই মানপত্র তৈরি রেখেছেন তার পর্ষদ। আমরা না হয়, অন্যভাবে বিশ্লেষণ করি সরকার প্রধানের বিদায় বেলা।

Advertisement

বিশ্বের প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের শেষ সময় একটি কাজ প্রায় নিয়মিতই করে। পাঠক কিংবা জনগণকে মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতা নেওয়ার দিন, আগে কিংবা পরে শাসক কী বলেছিলেন, কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেগুলোর আলোকে দুভাবে মূল্যায়ন করা হয়–

এক. বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের চুলচেরা হিসাব

দুই. জনগণের অভিজ্ঞতার আলোকে শাসনকালের মূল্যায়ন

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রথমটা নিশ্চয়ই হবে। হতেই থাকবে। আমরা বরং একদফা চোখ বুলিয়ে নিই, কী কথা দিয়েছিলেন নোবেলজয়ী মোহাম্মদ ইউনূস। এই স্মরণ পাঠকের জন্য। গণতন্ত্রের জন্য। ইতিহাসের জন্য।

৮ আগস্ট, ২০২৪। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাসকশূন্য তিনদিন কেটে গেছে। দেশ তখন অস্থির। সহিংসতা, ভয় ও অনিশ্চয়তা চারদিকে।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স থেকে এসে দেশের দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। ওই দিন শপথের পরপরই তিনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এই দায়িত্ব তিনি চাননি। এই দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন পরিস্থিতির কারণে।

মানবাধিকার রক্ষা আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তার শপথ নেন। শপথ হয় বঙ্গভবনের দরবার হলে, রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার শপথবাক্য পাঠ করান।

দুর্নীতি দমন: প্রথম ও স্পষ্ট অঙ্গীকার

ড. ইউনূস বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে। অনেক হয়েছে। আর না। তিনি ঘোষণা করেন, তার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। ২৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার আনুষ্ঠানিক প্রথম ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস ঘোষণা করেন–“উপদেষ্টারা নিজেদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবেন।” তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও এটি বাধ্যতামূলক হবে। এমন প্রতিশ্রুতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ঘুষমুক্ত দেশ ছাড়া ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র সম্ভব নয়।

মতপ্রকাশ ও সমালোচনার স্বাধীনতা

ড. ইউনূস বলেন, “গণতন্ত্র মানেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।” তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্ভয়ে কথা বলতে পারে। সমালোচনা করতে পারে। তিনি তেমনটি চান। ২৫ আগস্টের ভাষণে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, নিপীড়নমূলক আইন গণতন্ত্রের শত্রু। গণমাধ্যমের ওপর থাকা দমনমূলক আইন সংশোধন বা বাতিল করা হবে।

মানবাধিকার রক্ষার অঙ্গীকার

ড. ইউনূস বলেন, মানবাধিকার রাষ্ট্রের ভিত্তি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশে সুবিচার নিশ্চিত করা হবে। মানবাধিকার রক্ষা করা হবে। ২৫ আগস্টের ভাষণে তিনি বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, নারী ও শিশু–সবাই সমান নাগরিক। বাংলাদেশের সবাই একটা পরিবার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের সুরক্ষা সবার জন্য সমান হবে।

অরাজকতা ও ভয় নিয়ে কথা

শপথ নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, দেশজুড়ে অরাজকতা তৈরি হয়েছে। তিনি কথা দিয়েছিলেন, এই ভয় ও বিশৃঙ্খলা দূর করা হবে। তিনি বলেন, মানুষ যেন ভয়মুক্ত হয়ে চলতে পারে–এটাই এই সরকারের প্রথম দায়িত্ব।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে অবস্থান

সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পুলিশকে রাষ্ট্রের গর্ব উল্লেখ করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক হুকুম থেকে মুক্ত রাখা হবে।

জুলাই–আগস্ট ও বিচার প্রসঙ্গ

২৫ আগস্টের ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে গণহত্যা হয়েছে। বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সে কারণে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল তার সেই ভাষণে।

নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর

ড. ইউনূস বলেছিলেন, এই সরকারের মূল দায়িত্ব একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন। প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি কথা দিয়েছিলেন, সংস্কারের পর একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।

মূল প্রতিশ্রুতি

  • দুর্নীতি দমন
  • মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
  • মানবাধিকার রক্ষা
  • অরাজকতা দমন
  • অপরাধের বিচার
  • ব্যাংকিং সংস্কার
  • নির্বাচন আয়োজন
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
  • সংখ্যালঘু অধিকার
  • পরিবেশ সুরক্ষা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা নেওয়ার সময় যা বলেছিলেন–সেগুলো ছিল অঙ্গীকার। জনগণের কাছে কোনো ধরনের দায়বদ্ধতা থাকে না অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা তত্ত্বাবধায়ক ধরনের সরকারের। রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই গঠিত হয় এ ধরনের সরকার। আজ থেকে ১৮ মাস আগে তেমনই এক সরকার যাত্রা করেছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে। যার যার অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যায়ন করা যেতেই পারে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আর এই দেড় বছরে তাদের কর্মকাণ্ডকে।

বিষয়: ড. মুহাম্মদ ইউনূসসরকারিসরকারঅন্তর্বর্তী সরকার
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: রবিউল

  • ২

    খাবারের প্যাকেটে দ্রুত সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি

  • ৩

    সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: এইচআরএসএসের নিন্দা

  • ৪

    আলবেনিয়ার রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা, ব্যাংক ও সরকারি ভবনে আগুন

  • ৫

    ইমরান খানের ঘাঁটিতে হাত দিয়ে মৌচাকে ঢিল দিচ্ছে সরকার?

সম্পর্কিত
  • গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    বেওয়ারিশ কুকুরের মতন ঢাকা শহরের এই সব আকাকিরা তাহলে কোথায় যাবে? তারাও কি ফুটপাথে বা রাস্তায় সিগারেট ফুঁকতে-ফুঁকতে বা মোবাইলে কথা বলতে-বলতে চলতে থাকা মধ্যবিত্তদের পথ রোধ করে পেটে বা গলায় ছুরি ধরে বলবে, ‘দে শালা! যা আছে, দিয়ে যা! নইলে ফুটা করে দেব’?

  • জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। পাঁচ বছরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ লাখ কোটি টাকা, আট বছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন হলো, ব্যাংক লুট

  • কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

    কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

    অভূতপূর্ব কিছু একটা ঘটতে চলেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো এবং হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক অবশেষে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পক্ষে তারা একজোট হয়ে কথা বলছে।

  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়