Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ইমরান খানের ঘাঁটিতে হাত দিয়ে মৌচাকে ঢিল দিচ্ছে সরকার?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ৪২
ইমরান খানের ঘাঁটিতে হাত দিয়ে মৌচাকে ঢিল দিচ্ছে সরকার?
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ারে রেড জোনে প্রবেশের সড়কে পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। ছবি: রয়টার্স

স্কুল বন্ধ। ইন্টারনেট সেবাও আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে রাস্তা। আর শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহল চলছে সেনাবাহিনীর। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখাওয়ায় চলমান জরুরি অবস্থার চিত্র এটি।

Advertisement

প্রদেশটিতে পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকারকেও স্থগিত করা হয়েছে। ইমরান খানের দলের সমর্থকদের সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের চলমান বিরোধ যে আরও নাটকীয় মোড় নিয়েছে, এসব ঘটনায় তা স্পষ্ট। এতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার বদলে আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পাকিস্তানের কেন্দ্র সরকারের দাবি, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় এভাবে জরুরি অবস্থা জারি এবং পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্থগিত করা–সবই সংবিধান মেনেই করা হয়েছে এবং এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে প্রদেশের মানুষকে বাঁচানো।

রোববার কেন্দ্র সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সাংবাদিকদের বলেছেন, “পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছিল।” তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি, কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করেননি। শুধু বলেছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

এর দুই দিন পরও তার কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পেশোয়ারসহ প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকায় স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবাও আবার চালু হয়েছে।

পুলিশ কাউকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে যে ধরপাকড় চলছে, তা স্পষ্ট। প্রদেশটিতে পিটিআইয়ের বেশিরভাগ নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

মঙ্গলবার খাইবার জেলার বারা এলাকায় রাস্তায় নেমে আসেন পিটিআইয়ের কয়েক ডজন সমর্থক। সেখানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের খবরও পাওয়া গেছে। প্রদেশটিতে মাত্রই যে সরকারকে ‘স্থগিত’ করা হয়েছে, পিটিআই নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির এলাকা এই বারা।

পিটিআই বনাম পাকিস্তান সরকার–বাড়ছে উত্তেজনা

রোববার জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেওয়ার সময়টি নিয়ে বিশ্লেষকদের মত, এটা মোটেও কাকতালীয় নয়। সপ্তাহখানেক ধরে ইমরান খানের হাজারো সমর্থক খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশজুড়ে মিছিল করেছেন। তাদের দাবি, ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে।

গত ১৩ বছর ধরে প্রদেশটিতে ক্ষমতায় রয়েছে পিটিআই।

ফের বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান, কেন?imran khan_long march

লন্ডনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক ফারজানা শেখ বলেন, “খুব ছাড় দিয়ে বললেও এটা বলতে হয় যে, সরকারের বক্তব্যটাকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।”

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরিফা নূরও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এই পদক্ষেপের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত ৪ অক্টোবর থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিরই নেতৃত্বে ইসলামাবাদ অভিমুখে যে লংমার্চ শুরু করেছিল পিটিআই, সেই প্রসঙ্গ টেনে আরিফা নূরের বিশ্লেষণ, “আমি সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র দেখতে পাচ্ছি না। এমনকি দীর্ঘ লং মার্চের কারণেই যে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা-ও নিশ্চিত নই। হয়তো সেটিই শেষ ধাক্কা ছিল। আবার এমনও হতে পারে, সরকার বলতে চাইছে, বিরোধী দলের হাতে থাকা সরকারকে (খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পিটিআই নিয়ন্ত্রিত সরকার) নিয়ে তারা আর কাজ করতে চায় না।”

প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এখন কোথায় আছেন, তা নিয়ে দুই পক্ষের দুরকম কথা সামনে আসছে। পিটিআই বলছে, সোহেল আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর সরকারের দাবি, তাকে ‘নিরাপত্তামূলক হেফাজতে’ রাখা হয়েছে।

৪ অক্টোবরের পদযাত্রা শুরুর আগেই ধরপাকড় শুরু হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সমর্থকদের সংগঠিত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরপর থেকে তারা আটক রয়েছেন।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদস্যদের পাহারা । ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদস্যদের পাহারা । ছবি: রয়টার্স

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে বন্দী ইমরান খানের সঙ্গে গত এক বছরে তার পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ খুব একটা দেয়নি পাকিস্তান সরকার। এমনই অবস্থা হয়েছিল যে, কয়েক মাস আগে ইমরান বেঁচে আছেন কি না, তার মৃত্যুর খবর সরকার লুকাতে চাইছে কি না–এ নিয়েই উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল। পিটিআই তখনো রাস্তায় নেমেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পরে গত আগস্টে ইমরানের সঙ্গে তার দুই বোনকে দেখা করার সুযোগ দেয় পাকিস্তান সরকার। দুই বোনের মধ্যে একজন ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন কারাগারে, অন্যজন হাসপাতালে ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময়। এই স্বাস্থ্য পরীক্ষাও পাকিস্তান সরকার করেছে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করার পর। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

দুর্বল পিটিআইয়ের ওপরও কেন এত কঠোর পাকিস্তান সরকার?


পাকিস্তানের সরকারের ওপর সে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রভাব সব সময়ই অনেক বেশি। প্রভাবশালী এই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরেই ইমরান খানকে ২০২২ সালের ১০ এপ্রিল ক্ষমতা হারাতে হয়েছে বলে অনুমান বেশিরভাগ বিশ্লেষকের। এরপর দুর্নীতির একাধিক মামলায় ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে বন্দী। তবে ইমরানের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লং মার্চ শুরু imran khan_long march

কিন্তু ক্ষমতা হারানো, নেতাকে কারাগারে দেখা, আগেই দুর্বল হয়ে পড়া এই পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের কারণ কী?

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যানের বিশ্লেষণ, “সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পিটিআইয়ের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে। এর পেছনে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগও রয়েছে। এখন হয়তো দলটিকে কঠোর বার্তা দেওয়ার সময় বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে দলটির পথ আরও কঠিন করে তোলার চেষ্টা চলছে।”

এর আগে ইমরানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কারও দেখা করারও সুযোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে পাকিস্তান সরকার বলেছিল, কারাগারে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক আলোচনা চালানোর কাজে ব্যবহার করছেন ইমরান খান, এর মাধ্যমে কারাবিধি লঙ্ঘন করছেন তিনি।

তবে পাকিস্তানের কেন্দ্র সরকারের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এভাবে পিটিআই নিয়ন্ত্রিত খাইবারে জরুরি অবস্থা জারি ও সরকার স্থগিত করার ব্যাখ্যায় বলেছেন, “এখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তারা চাইলে পদযাত্রা চালিয়ে যেতে পারত।” সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান তারার। তার মতে, আলোচনার চেষ্টা যে করা হয়েছিল, এটি তারই প্রমাণ।

তবে অন্যদের মতে, সরকারের এসব পদক্ষেপ ইমরান খান ও তার দলকে চাপে রাখার আরেকটা প্রচেষ্টা বৈ কিছু নয়। আরিফা নূর বলেছেন, “দিনকে দিনই মতবিরোধ কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করে ফেলছে সরকার। কোনো ধরনের সংঘাত থেকে আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসার চেষ্টাও তারা করতে চাইছে না।”

ইসলামাবাদভিত্তিক লেখক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাহিদ হোসেনের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট। তার বিশ্লেষণ, “সামরিক বাহিনীর যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, ক্ষমতার ভারসাম্য এখন পুরোপুরি সেদিকে চলে গেছে।”

ফারজানা শেখের মতে, হোয়াইট হাউজের সঙ্গে সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও ভালো হওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখন অনেক বেশিই আত্মবিশ্বাসী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে বলে মনে করছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। “তাদের মনোভাব অনেকটা এমন যে…এটাই সুযোগ, এটাকে কাজে লাগাতে হবে। তাদের মনে হচ্ছে, তুরুপের সব তাসই তাদের হাতে আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পরিস্থিতি তারা সামলে নিতে পারবে বলেও মনে করছে তারা”–বিশ্লেষণ ফারজানা শেখের।

ইমরান খানের সমর্থকদের রাজধানীর দিকে পদযাত্রা শুরুSupporters of former Pakistani PM Imran Khan's, gather during protest march, Khyber Pakhtunkhwa, October 4, 2026–Reuters

দুই সীমান্তেই ঝামেলা

পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জের অবশ্য অভাব নেই। দেশটিতে জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসবাদে আক্রান্ত দেশের তালিকায় এক নম্বরে এসেছে পাকিস্তানের নাম। দুই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের বিরোধ চলছে। তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বারবার বিমান হামলা চালাচ্ছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে তো পাকিস্তানের বৈরিতা বহু পুরনো, চাপা এই সংঘাত নতুন করে জ্বলে উঠতে খুব বেশি কিছুর দরকারও হবে না।

এর মধ্যে সৌদি আরবের পরিস্থিতিও পাকিস্তানের জন্য বাড়তি মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের সংঘাত ক্রমেই আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাতে পাকিস্তানের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটি চুক্তি–গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এ বছরের আগস্টে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করেছে পাকিস্তান। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে দেশটিকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পাকিস্তান।

এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পরিস্থিতি পাকিস্তানের সরকারের জন্য কেন হিতে বিপরীতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে? কারণ দুই দিকের সীমান্তে এবং সৌদি আরবকে ঘিরে কোনো সমস্যার সমাধান তো হচ্ছেই না, এর মধ্যে এই জরুরি অবস্থার কারণে নিজ দেশেও পাকিস্তান সরকার নতুন সংকটে পড়তে পারে বলে অ্যালার্ম বাজাচ্ছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। আশঙ্কা করছেন, এতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। কারণ, প্রাদেশিক সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর ইসলামাবাদকে এখন সরাসরি ওই প্রদেশের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। ফলে দায় চাপানোর মতো মাঝখানে আর কাউকে পাচ্ছে না কেন্দ্র সরকার।

মাইকেল কুগেলম্যান বলছেন, “আমার মনে হয়, এই পদক্ষেপ হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, আপনি আগুন নিয়ে খেলছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে যদি এত মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়, তাহলে আপনাকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।”

জাহিদ হোসেন বলেন, “একসঙ্গে যখন এতগুলো চ্যালেঞ্জ আগে থেকেই আছে, তখন এমন পদক্ষেপ দায়িত্বজ্ঞানহীন।” তার আশঙ্কা, পাকিস্তানের অন্য এলাকাগুলোতেও এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করা হতে পারে।

ফারজানা শেখের মতে, জঙ্গি তৎপরতা দমনে সেনাবাহিনীকেও আরও অভিযানে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। তার বিশ্লেষণ, এ ধরনের অভিযান চালাতে হলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঝুঁকিও মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকতে হবে। আর সেখানে হতাহতের সংখ্যা অনুমানের চেয়েও বেশি হলে সামরিক বাহিনীর ভেতরেই নানা প্রশ্ন উঠতে পারে।

পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থানের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচিত সরকার–সেটা প্রাদেশিকই হোক, বা জাতীয়–তাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনে না। মাঝে মাঝে বুমেরাং হয়েও দেখা দেয়।

আরিফা নূর বলছেন, “এসব পদক্ষেপের কিছু কিছু যে তাদের জন্য সামনের দিনে উল্টো বিপদ ডেকে আনতে পারে, এমনটা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) জ্যেষ্ঠ নেতারা যে বোঝেন না–ব্যাপারটা কিন্তু এমনও নয়। একইভাবে পিটিআইও কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে, বিক্ষোভ করলেই ইমরান খানকে মুক্ত করা যাবে না।”

দুই পক্ষ জেনেশুনেই এই পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে আরিফা নূরের, “আমার মনে হয়, আমরা যে সংকটের মধ্যে পড়েছি, তার সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক দিক হলো–সবকিছু জেনেশুনেই আমরা এই পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সবাই বুঝতে পারছে, এটা ভয়াবহ কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। কিন্তু কোনোভাবেই যেন এটাকে থামানো যাচ্ছে না!

বিবিসিতে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনূদিত

বিষয়: পাকিস্তানসরকারবিক্ষোভইমরান খানপিটিআইলংমার্চ
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: রবিউল

  • ২

    খাবারের প্যাকেটে দ্রুত সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি

  • ৩

    সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা: এইচআরএসএসের নিন্দা

  • ৪

    আলবেনিয়ার রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সহিংসতা, ব্যাংক ও সরকারি ভবনে আগুন

  • ৫

    ইমরান খানের ঘাঁটিতে হাত দিয়ে মৌচাকে ঢিল দিচ্ছে সরকার?

সম্পর্কিত
  • ট্রাম্প যে কারণে ছাড় দিচ্ছেন পুতিনকে

    ট্রাম্প যে কারণে ছাড় দিচ্ছেন পুতিনকে

    পুতিনের সামনে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে সীমিত অগ্রগতি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনকে অস্ত্রের ঘাটতি, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং পশ্চিমা সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

  • গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ, কেন?

    গ্রিসে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে পদত্যাগের নির্দেশ, কেন?

    এথেন্সে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন গিলফয়েল। তিনি গ্রিস সাময়িকী ‘ভোগ’–এর প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছিলেন এবং গ্রিসের তারকাদের সঙ্গে গভীর রাতের বিভিন্ন পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন।

  • দেশেও সম্ভব, তবু কেন প্রযুক্তিতে ব্যাংকের চোখ বিদেশেই?

    দেশেও সম্ভব, তবু কেন প্রযুক্তিতে ব্যাংকের চোখ বিদেশেই?

    বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করলেও ব্যাংকিং খাতের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে তেমন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব থাকলেও পেমেন্ট ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্রে নির্ভরতার ধরন আলাদা। দক্ষ জনবল, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়ো

  • থিয়েটার থেকে রাজপথে, ভারতের তরুণদের অসন্তোষের নতুন মুখ জেন-জি আন্দোলনকর্মী নেহা বোরা

    থিয়েটার থেকে রাজপথে, ভারতের তরুণদের অসন্তোষের নতুন মুখ জেন-জি আন্দোলনকর্মী নেহা বোরা

    চলতি মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোরা বলেন, স্নাতক পর্যায়ে পড়ার সময় তিনি একটি থিয়েটার দলে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে নিজের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষের জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে শেখেন তিনি।