Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

ভান্যা বৈদেহী ভার্গব

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ১৫
কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

অভূতপূর্ব কিছু একটা ঘটতে চলেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো এবং হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক অবশেষে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পক্ষে তারা একজোট হয়ে কথা বলছে। পুলিশের ব্যাপক পাল্টা তৎপরতা ইঙ্গিত দেয় যে, একসময়ের অজেয় বলে মনে হওয়া সরকারটি এখন নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছে। তা সত্ত্বেও, বিরোধী দলগুলো হয়তো এই সুযোগটি হাতছাড়া করে ফেলতে পারে। ‘এক্স’ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এর স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে কংগ্রেসের কিছু সমর্থক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বলে কটাক্ষ করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছে।

Advertisement

যে ষড়যন্ত্র তত্ত্বটি ছড়ানো হচ্ছে তা হলো, রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে তরুণদের সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং তাদের কথিত ‘বি-টিম’ আম আদমি পার্টি (আপ) মিলে সিজেপিকে দাঁড় করিয়েছে। এই তত্ত্বটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে উপেক্ষা করে-সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অমিত শাহের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশকে ‘অপরাধীর দলে’ পরিণত করার অভিযোগ এনেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এমন এক ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত একনায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন যার নেহরুর চেয়ে বড় হয়ে ওঠার মতো যোগ্যতা নেই এবং যিনি ভোট চুরির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ১০ অক্টোবর সিজেপির বিক্ষোভের ওপর পুলিশের নজিরবিহীন দমন-পীড়নও এই তত্ত্বের পরিপন্থী। তবে, কংগ্রেসের কিছু সমর্থকের সিজেপিকে হেয় করার এই প্রচেষ্টাটি তাৎপর্যপূর্ণ; এটি তাদের নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তাদের আশঙ্কা, সিজেপির নেতারা—যাদের মধ্যে কারও কারও অতীতে ‘আপ’-এর সাথে সংশ্লিষ্টতা ছিল—দিল্লি ও পাঞ্জাবে কংগ্রেসের সমর্থন-ভিত্তি দুর্বল করার ক্ষেত্রে ‘আপ’-এর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন। রাহুল গান্ধীর জন্য তরুণদের সমর্থন অটুট রাখার লক্ষ্যেই তারা সিজেপিকে বিতর্কিত করতে চাইছে; অথচ বাস্তবে এই পদক্ষেপ তাদের সেই সমর্থনকেই ক্ষুণ্ণ করবে।

ভারতের ককরোচ পার্টি আত্মপ্রকাশ করল কেন?modi

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং অবকাঠামো নিয়ে তরুণরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। মানুষের বাস্তবতাকে অস্বীকারকারী অবিরাম অপপ্রচার, ভয়ের দমবন্ধ করা পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক ভিন্নমত প্রকাশের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার জন্য সিজেপির আহ্বান মুমূর্ষু গণতন্ত্রে যেন নতুন প্রাণসঞ্চার করল। দীর্ঘদিনের দমনমূলক নীরবতা—যার সাথে অনেকেই একপ্রকার মানিয়ে নিয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পরিসর উন্মুক্ত হওয়ায় তরুণরা স্বস্তি প্রকাশ করে। কথা বলা, ভিন্নমত পোষণ এবং সমালোচনা করার যে বর্ধিত স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছিল, তা ছিল স্পষ্ট ও সংক্রামক। সিজেপি ভিন্নমতাবলম্বীদের এক বৈচিত্র্যময় জোটকে একত্রিত হওয়ার এবং একই ব্যানারের নিচে ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল উপায়ে নিজেদের ভিন্নমত প্রকাশের একটি সাধারণ মঞ্চ প্রদান করেছে।

একজোট হয়ে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা

প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে রাহুল গান্ধীর কাজের গুরুত্বকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। তবুও, ২০২২ সালের ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র পর থেকে কংগ্রেস যদি মনে করে যে তারা ধারাবাহিকভাবে সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের ব্যানারের নিচে রাস্তায় নামাতে এবং ভারতের বৈচিত্র্যময় ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি জনপ্রিয় জোটে সংগঠিত করতে অগ্রাধিকার দিয়েছে, তবে তারা নিজেদেরই প্রতারিত করবে। সিজেপি সেই কাজটি করার মাধ্যমে বিজেপির অপরাজেয় ভাবমূর্তিকে চূর্ণ করেছে এবং বিরোধী শিবিরের জন্য এমন এক সন্ধিক্ষণ তৈরি করেছে যা অপার সম্ভাবনাময়। সিজেপি যদি রাহুল গান্ধীকে দুর্বল করার কোনো ষড়যন্ত্রও হয়ে থাকে, তবে বর্তমানে তা ঠিক বিপরীত ফলই দিচ্ছে। তার শালীনতা, নির্ভীকতা ও আদর্শগত নিষ্ঠা যে প্রভাব ফেলেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় সিজেপির জুলাই মাসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের অনেক তরুণের তার প্রতি সমর্থন প্রকাশের মধ্য দিয়ে। সিজেপির মাধ্যমে তরুণদের সংগঠিত ও উজ্জীবিত করার ফলে আন্দোলনগুলোও বাড়তি গতি পেয়েছে।

কিন্তু কংগ্রেসের কিছু সমর্থকের পক্ষ থেকে সিজেপির ওপর ক্রমাগত আক্রমণ এই সুযোগটি নষ্ট করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। সিজেপি জনপ্রিয়, কারণ মানুষ মনে করে যে এটি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। পারস্পরিক সমালোচনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, কিন্তু কুৎসা রটানোর মতো প্রচারণাকে কংগ্রেস কর্মীদের সংকীর্ণ মানসিকতা ও নিরাপত্তাহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখা হবে। একইসঙ্গে, এর মাধ্যমে ভিন্নমতাবলম্বীদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে, অর্থাৎ কারা তাদের প্রকৃত অর্থে অনুপ্রাণিত ও প্রতিনিধিত্ব করছে তা বোঝার ক্ষমতাকে—অস্বীকার করা হবে। জনগণের বিভিন্ন ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং সিজেপির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ নাগরিকদের জন্য মঞ্চ তৈরি করে রাহুল গান্ধী যে সদিচ্ছা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন, এই ঘটনাপ্রবাহ তা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। যদিও তিনি নিজে সিজেপির বিরুদ্ধে কোনো কুৎসা রটাননি, তবুও এমন নেতিবাচক ধারণা তার ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। আন্দোলনকারীদের স্বাধীন চিন্তাধারা এটা স্পষ্ট করে দেয় যে, ভারতের ভিন্নমতাবলম্বী মানুষের প্রতি প্রকৃত উদ্বেগের চেয়ে ব্যক্তিপূজা বা দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে যাদের মনে হবে, তাদেরই তারা প্রত্যাখ্যান করবে। নিজের এবং দলের স্বার্থেই রাহুল গান্ধীকে তার সোশ্যাল মিডিয়া সমর্থকদের লাগাম টেনে ধরতে হবে।

দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!modi

তরুণ প্রজন্মের সমর্থন কমে যাওয়ার বা দুর্বল হয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জটি রাহুল গান্ধীকে মেনে নিতে হবে। ভারতের ভিন্নমতাবলম্বী নাগরিকদের সমর্থন পাওয়ার কোনো জন্মগত অধিকার কোনো দলেরই নেই; এই সমর্থন অর্জন করে নিতে হয়। কংগ্রেস যদি দাবি করে যে তারা তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে তাদের এটা প্রমাণ করতে হবে যে তারাই তা সবচেয়ে ভালোভাবে করছে। সিজেপি মানুষের মনে সাড়া জাগিয়েছে কারণ এটি এমন একটি উন্মুক্ত ও সহজলভ্য পরিসর তৈরি করেছে যা সাধারণ নাগরিকদের কণ্ঠস্বরকে খর্ব করার পরিবর্তে আরও জোরালো করে তোলে। একইভাবে, ভিন্নমতাবলম্বী নাগরিক ও দল-নিরপেক্ষ বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে যদি রাহুল গান্ধী এমনভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারেন যাতে তারা কংগ্রেসকে নিজেদের ভিন্নমত সৃজনশীলভাবে প্রকাশের একটি ‘ছাতা’ বা সম্মিলিত মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করে, তবেই তিনি তাদের আস্থা ও সদিচ্ছা অর্জন করতে পারবেন। অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে আস্থার সঙ্গে যৌথ পরিসর ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমেও তিনি এটি করতে পারেন; এর মধ্য দিয়ে তিনি বার্তা দেবেন যে নিজের বা দলের চেয়ে ভারতের স্বার্থই তার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: ব্যাঙ্গালোরের ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়ার একজন ইতিহাসবিদ।

বিষয়: ভারতকংগ্রেসনরেন্দ্র মোদিপুলিশককরোচ জনতা পার্টিআন্দোলন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল দুটি পণ্যবাহী জাহাজ

  • ২

    ঘরোয়া লিগের মান উন্নয়নে বাফুফের কোনো উদ্যোগ নেই

  • ৩

    ককরোচরা ভারতের রাজনীতিতে নতুন কী দিল

  • ৪

    ‘সুযোগ পাইলে সব বেইচা দেশ থেকে ভাইগা যাইতাম, পাচ্ছি না’

  • ৫

    অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময় কেন আইনশৃঙখলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন হলো?

সম্পর্কিত
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়

  • ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তর এলাকায় বেশ জোরদার আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের জেরে নতুন করে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।

  • পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা অধরা। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই ও সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই